Logo
Logo
×

Advertisement

সুরঞ্জনা

যাই তবু এগিয়ে

মরক্কোর প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ফাতিমা জাহরা

Advertisement

Icon

রাফিয়া আক্তার

প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

সম্প্রতি মরক্কোর রাজনীতিতে লেখা হলো এক নতুন ইতিহাস। পুরুষপ্রধান রাজনৈতিক নেতৃত্বের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে প্রথমবারের মতো দেশটির সরকারপ্রধানের দায়িত্ব পেলেন একজন নারী। ২০২৬ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর মরক্কোর রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদ দেশটির প্রধানমন্ত্রী হিসাবে ফাতিমা জাহরা এল মানসুরিকে নিয়োগ দেন। এর মধ্যদিয়ে উত্তর আফ্রিকার এ দেশটির রাজনৈতিক ইতিহাসে তৈরি হলো এক নতুন অধ্যায়।

৫০ বছর বয়সি এল মানসুরি পেশায় আইনজীবী। রাজনীতিতে আসার আগে এবং রাজনীতির দীর্ঘ পথচলায় তিনি স্থানীয় সরকার থেকে জাতীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি মরক্কোর ঐতিহাসিক শহর মারাকেশের মেয়র ছিলেন। একইসঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন নগর পরিকল্পনা ও আবাসনবিষয়ক মন্ত্রী হিসাবেও।

এল মানসুরির রাজনৈতিক উত্থান হঠাৎ করে হয়নি। ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘অথেনটিসিটি অ্যান্ড মডার্নিটি পার্টি’র সঙ্গে তার রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়। দলটি মরক্কোর রাজনীতিতে আধুনিকায়ন ও সামাজিক পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক শক্তি হিসাবে পরিচিত।

মারাকেশের মেয়র হিসাবে তার দায়িত্ব পালন তাকে জাতীয় রাজনীতিতে আলাদা পরিচিতি এনে দেয়। পরে তিনি নগর পরিকল্পনা ও আবাসনসংক্রান্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও সামলান। ২০২৪ সাল থেকে তিনি তার দলের সমন্বিত নেতৃত্বের অন্যতম প্রধান মুখ হয়ে ওঠেন।

এল মানসুরির প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পেছনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলো ২০২৬ সালের ২৩ সেপ্টেম্বরের সংসদ নির্বাচন। ওই নির্বাচনে তার দল PAM ৩৯৫ আসনের প্রতিনিধি পরিষদে ৯৭টি আসন পেয়ে সবচেয়ে বড় দল হিসাবে আবির্ভূত হয়।

মরক্কোর সংবিধান অনুযায়ী, সংসদ নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়া দলের মধ্য থেকেই রাজা সরকারপ্রধান নির্বাচন করেন। ২৯ সেপ্টেম্বর রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদ তাকে নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব দেন। তবে সামনে রয়েছে কঠিন রাজনৈতিক সমীকরণ। কারণ ৩৯৫ আসনের সংসদে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১৯৮ আসন। PAM পেয়েছে ৯৭টি। ফলে এল মানসুরিকে অন্যান্য দলের সঙ্গে জোট গড়ে সরকার গঠন করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী হিসাবে নিয়োগ পাওয়ার পর এল মানসুরি তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘এটি একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। এ অর্জন শুধু আমার ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; বরং মরক্কোর নারীদের জন্যও গর্বের বিষয়।’

এল মানসুরির উত্থান শুধু মরক্কোর ঘটনা নয়। এটি আরব বিশ্বের রাজনীতিতেও তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি আরব বিশ্বে প্রধানমন্ত্রী হওয়া নারীদের তালিকায় নতুন সংযোজন। এর আগে তিউনিসিয়ায় নাজলা বউদেন প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ফলে মরক্কোর প্রথম নারী সরকারপ্রধান হিসাবে এল মানসুরির আবির্ভাব আরব রাজনীতিতে নারীর নেতৃত্বের প্রশ্নটিকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। একটি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস বদলে দিতে কখনো কখনো একটি নিয়োগই যথেষ্ট। ফাতিমা জাহরা এল মানসুরির প্রধানমন্ত্রী হওয়া তেমনই এক ঘটনা।

তিনি যখন মারাকেশের মেয়রের দায়িত্ব নিয়েছিলেন, তখন হয়তো অনেকেই ভাবেননি যে একদিন তিনিই মরক্কোর সরকারপ্রধানের আসনে বসবেন। কিন্তু স্থানীয় রাজনীতি থেকে জাতীয় রাজনীতি, মন্ত্রণালয় থেকে দলীয় নেতৃত্ব-দীর্ঘ পথ পেরিয়ে তিনি এখন দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাহী দায়িত্বের সামনে। অনেকের মতে ফাতিমা জাহরা এল মানসুরি তাই শুধু মরক্কোর প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী নন-তিনি দেশটির রাজনীতিতে নারীর নেতৃত্বের নতুন সম্ভাবনারও একটি শক্তিশালী প্রতীক হয়ে উঠেছেন।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

বাল্যবিয়ে রোধ এবং কন্যাশিশুর অধিকার রক্ষায় বিনিয়োগ

বাল্যবিয়ে রোধ এবং কন্যাশিশুর অধিকার রক্ষায় বিনিয়োগ

অর্জন জাতিসংঘের অভিজ্ঞতায় ঋদ্ধ জাইমা রহমান

জাতিসংঘের অভিজ্ঞতায় ঋদ্ধ জাইমা রহমান

যাই তবু এগিয়ে মরক্কোর প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ফাতিমা জাহরা

মরক্কোর প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ফাতিমা জাহরা

নারী সংবাদ নারী উদ্যোক্তার গল্প নিয়ে ‘চলো এগিয়ে যাই’

নারী উদ্যোক্তার গল্প নিয়ে ‘চলো এগিয়ে যাই’

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম