অর্জন
জাতিসংঘের অভিজ্ঞতায় ঋদ্ধ জাইমা রহমান
Advertisement
এনামুল হক বশির
প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
একজন সফল মানুষ দেশ ও জাতির কাছে মূল্যবান হয়ে ওঠেন তার কর্মগুণে। জাতিসংঘের মতো বিশ্বমঞ্চে পা রেখে জাইমা রহমান সে যাত্রাই শুরু করলেন এবার। ১৯৯৫ সালের ২৬ অক্টোবর ঢাকার হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। জাইমা রহমান বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং ডা. জুবাইদা রহমানের একমাত্র সন্তান। বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং আপসহীন দেশনেত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নাতনি তিনি। জাইমা রহমান ঢাকা সেনানিবাসের শহীদ মইনুল রোডের ৬ নম্বর বাড়িতে বেড়ে ওঠেন। ২০০৮ সালে তার বাবা তারেক রহমান ওই সময়ের ক্ষমতাসীন সরকারের রোষানলে পড়ে গ্রেফতার হন। পরে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি বাবার সঙ্গে লন্ডনে পাড়ি জমান। জাইমা রহমান যুক্তরাজ্যে যাওয়ার আগে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে পড়াশোনা করেন। যুক্তরাজ্যে তিনি লন্ডনের কুইন মেরি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ডিগ্রি এবং পরে ২০১৯ সালে লন্ডনের ঐতিহ্যবাহী লিংকনস ইন থেকে বার-অ্যাট-ল’ সনদ লাভ করেন।
জাইমা রহমান ২০০১ সালে বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনে তার দাদি খালেদা জিয়ার সঙ্গে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার সময় প্রথম গণমাধ্যমে নজরে আসেন। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে আয়োজিত ৭৩তম ন্যাশনাল প্রেয়ার ব্রেকফাস্ট অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রতিনিধি হিসাবে অংশ নেন জাইমা রহমান। তিন সদস্যের এ বিএনপি প্রতিনিধি দলে তার সঙ্গে ছিলেন সেই সময়ের দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এ সফরের সময় জাইমা রহমান দক্ষিণ ক্যারোলিনার সাবেক গভর্নর বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির সাবেক নির্বাহী পরিচালক ডেভিড বিসলে, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সাবেক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট ডেস্ট্রো এবং যুক্তরাষ্ট্রের উইমেন্স ফেলোশিপ ফাউন্ডেশনের প্রধান রেবেক ওয়াগনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এটিই ছিল বিএনপির কোনো আনুষ্ঠানিক আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে জাইমা রহমানের প্রথম অংশগ্রহণ।
২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সভায় প্রথমবারের মতো যোগ দেন। সেখানে দলীয় নেতা মাহবুব উদ্দিন খোকন এবং রুহুল কবির রিজভী, ইউরোপীয় প্রতিনিধিদের একটি দলও উপস্থিত ছিলেন।
২০২৬ সালের জুনে তিনি বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের আইনজীবী তালিকাভুক্তির প্রথম ধাপের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। বর্তমানে তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (UNGA) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের নির্বাহী কার্যালয়ের (OPGA Enecutive Office) অধীনে লিগ্যাল অফিসার হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। সেখানে তিনি মূলত আন্তর্জাতিক ও প্রশাসনিক বিভিন্ন আইনি বিষয়ে দেখভাল করছেন। এ ছাড়া যুক্তরাজ্যে আবাসন, কল্যাণ ও কর্মসংস্থান আইন এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতে আইনি পরামর্শক হিসাবে তার কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে।
তিনি বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় ল’ ফার্ম সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটসের সঙ্গে সাংবিধানিক করপোরেট এবং বাণিজ্যিক আইনের ওপর কাজ করছেন। এ ছাড়া সুবিধাবঞ্চিত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ঝরে পড়া শিশুদের শিক্ষা বিস্তারে কর্মরত বাংলাদেশের একটি সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা ‘সুরভী’র পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হিসাবে যুক্ত আছেন। এভাবে একের পর এক সাফল্যের দ্যুতি ছড়াচ্ছেন তিনি। একইসঙ্গে জাতিসংঘের মতো বিশ্বমঞ্চের অভিজ্ঞতায় ঋদ্ধ হচ্ছেন জাইমা রহমান। যার সুফল ভোগ করবে আগামীর বাংলাদেশ।
