Logo
Logo
×

Advertisement

সুরঞ্জনা

যাই তবু এগিয়ে

ইতিহাসের নতুন অধ্যায়ের অপেক্ষায় রেবেকা গ্রিনস্প্যান

Advertisement

Icon

রাফিয়া আক্তার

প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

প্রতিষ্ঠার পর থেকে সাত দশকের বেশি সময় ধরে জাতিসংঘের নেতৃত্বে পুরুষ। এবার সেই দীর্ঘদিনের প্রথা ভাঙার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন লাতিন আমেরিকার দেশ কোস্টারিকার এক নারী-রেবেকা গ্রিনস্প্যান। অর্থনীতিবিদ, রাজনীতিক, কূটনীতিক এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়নকর্মী-বহুমাত্রিক পরিচয়ে তিনি ইতোমধ্যে বিশ্ব অঙ্গনে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন।

২০২৬ সালের ৩০ অক্টোবর জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রাথমিক বাছাইপর্বে তার অবস্থান তাকে আলোচনার শীর্ষে নিয়ে এসেছে। তবে চূড়ান্ত নিয়োগ এখনো বাকি। নির্বাচিত হলে তিনি হবেন জাতিসংঘের ইতিহাসে প্রথম নারী মহাসচিব। এটি শুধু একজন নারীর ব্যক্তিগত অর্জন হবে না, বরং বিশ্ব নেতৃত্বে নারীর অংশগ্রহণের ইতিহাসেও হবে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

১৯৫৫ সালে মধ্য আমেরিকার দেশ কোস্টারিকার রাজধানী সান হোসেতে জন্ম রেবেকা গ্রিনস্প্যানের। ছোটবেলা থেকেই অর্থনীতি, সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনার বিষয়ে তার আগ্রহ ছিল। উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি বেছে নেন অর্থনীতিকে। কোস্টারিকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব সাসেক্স থেকে নেন অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি।

শিক্ষাজীবনের পাঠকে তিনি কাজে লাগান বাস্তব জীবনের নানা সমস্যা সমাধানে। তার পেশাগত চিন্তার কেন্দ্রে ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন-অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হলেই কি মানুষের জীবনমানের উন্নতি ঘটে? নাকি উন্নয়নের সুফল সমাজের সব শ্রেণির মানুষের কাছে পৌঁছানোও জরুরি?

এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়েই তিনি যুক্ত হন অর্থনৈতিক নীতি প্রণয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে। রেবেকার কর্মজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শুরু হয় কোস্টারিকার সরকারে যোগ দেওয়ার মধ্যদিয়ে। তিনি দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে আবাসনমন্ত্রী এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিকবিষয়ক মন্ত্রী হিসাবেও কাজ করেন।

১৯৯৪ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত তিনি কোস্টারিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট বা উপ-রাষ্ট্রপতি ছিলেন। এ সময় রাষ্ট্রীয় অর্থনীতি, সামাজিক উন্নয়ন, আবাসন ও জনকল্যাণমূলক নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। একজন অর্থনীতিবিদ হিসাবে তিনি বুঝেছিলেন, একটি দেশের প্রকৃত উন্নয়ন শুধু বড় বড় অবকাঠামো নির্মাণ কিংবা জাতীয় আয়ের পরিসংখ্যান দিয়ে পরিমাপ করা যায় না। সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তাও উন্নয়নের অপরিহার্য অংশ। রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তাকে পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক সংস্থায় কাজ করার জন্য প্রস্তুত করে।

রেবেকা গ্রিনস্প্যানের আন্তর্জাতিক কর্মজীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি বা ইউএনডিপিতে (UNDP) যোগদান। ২০০৬ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত তিনি লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে সংস্থাটির আঞ্চলিক পরিচালক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।

এরপর ২০১০ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব এবং ইউএনডিপির সহযোগী প্রশাসক হিসাবে কাজ করেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দারিদ্র্য বিমোচন, উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং সংকট মোকাবিলায় সংস্থাটির কার্যক্রম তদারকির দায়িত্ব ছিল তার ওপর।

২০১৪ সালে তিনি আইবেরো-আমেরিকান সম্মেলনের মহাসচিব নির্বাচিত হন। লাতিন আমেরিকা, ক্যারিবীয় অঞ্চল এবং ইউরোপের ২২টি দেশের মধ্যে রাজনৈতিক সংলাপ ও সহযোগিতা জোরদারে কাজ করেন। এই পদে তার নেতৃত্বের মেয়াদ ছিল ২০২১ সাল পর্যন্ত।

২০২১ সালে তিনি জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়নবিষয়ক সংস্থা ইউএনসিটিএডি (UNCTAD)-এর মহাসচিব নিযুক্ত হন। সংস্থাটির ইতিহাসে তিনিই প্রথম নারী মহাসচিব। উন্নয়নশীল দেশগুলোর বাণিজ্য, বিনিয়োগ, ঋণ, প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক বৈষম্য নিয়ে কাজ করাই এ সংস্থার অন্যতম লক্ষ্য।

রেবেকা গ্রিনস্প্যানের আন্তর্জাতিক পরিচিতি বাড়ানোর পেছনে রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক উদ্যোগ। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে কৃষ্ণসাগর দিয়ে খাদ্যশস্য রপ্তানি মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছিল। এতে বিশ্ববাজারে খাদ্যসংকট ও মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়। বিশেষ করে খাদ্য আমদানিনির্ভর দরিদ্র দেশগুলো বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়ে।

এমন পরিস্থিতিতে জাতিসংঘ, তুরস্ক, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন রেবেকা। তার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা কৃষ্ণসাগরীয় শস্য উদ্যোগ বাস্তবায়নে সহায়তা করে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে প্রায় ৩ কোটি ৩০ লাখ টন শস্য নিরাপদে রপ্তানি হয়েছিল। আর এ উদ্যোগের জন্য ২০২৪ সালে তিনি ‘নেগোশিয়েটর অব দ্য ইয়ার’ বা বর্ষসেরা আলোচক পুরস্কারসহ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পান।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

কন্যা সন্তানের নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রের দায়

কন্যা সন্তানের নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রের দায়

যাই তবু এগিয়ে ইতিহাসের নতুন অধ্যায়ের অপেক্ষায় রেবেকা গ্রিনস্প্যান

ইতিহাসের নতুন অধ্যায়ের অপেক্ষায় রেবেকা গ্রিনস্প্যান

সচলায়তন বয়স বাড়ুক, টিকে থাকুক সৌন্দর্য ও আত্মবিশ্বাস

বয়স বাড়ুক, টিকে থাকুক সৌন্দর্য ও আত্মবিশ্বাস

প্রাসঙ্গিক সমাজ ও পারিবারিক ব্যবস্থায় নারী

সমাজ ও পারিবারিক ব্যবস্থায় নারী

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম