লাতিন আমেরিকার ২০০ বছরের ‘অসুখ’ যুক্তরাষ্ট্র
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
যুক্তরাষ্ট্র-লাতিন আমেরিকার সবচেয়ে অপ্রতিরোধ্য এক ‘জীবাণু’। উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া বংশগত ‘রোগ’। থেমে থেমেই বিষ ছড়ায়। আগ্রাসনের সাম্রাজ্যবাদী সংক্রমণে গত দুইশ বছর ধরে দুর্বল করে রেখেছে লাতিন মেরুদণ্ড। শনিবার মধ্যরাতে ভেনিজুয়েলায় আক্রমণের মাধ্যমে আবারও প্রমাণ হলো আরেকবার। ১৯ শতক থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন সময়ে তার আশপাশের দেশগুলোতে প্রভাব খাটিয়ে আসছে। কখনো অর্থনৈতিক চাপ, কখনো সরাসরি সামরিক শক্তি ব্যবহার করে একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রেখেছে। এর ফলে অনেক দেশে গণতান্ত্রিক সরকার উৎখাত হয়েছে এবং সামরিক শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এমনকি মাদুরো আটক হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, ‘পশ্চিম গোলার্ধে আমেরিকার প্রাধান্য আর কখনো প্রশ্নের মুখে থাকবে না।’ দ্য গার্ডিয়ান।
৫৫ শতাংশ জমি হারায় মেক্সিকো
১৮৪৭ সালে মার্কিন আক্রমণে উত্তর আমেরিকার মেক্সিকো সিটির দখল করা হয়। ১৮৪৮ সালে স্বাক্ষরিত চুক্তির মাধ্যমে মেক্সিকো তার ৫৫ শতাংশ জমি হারায়। সেই হারানো জমিই এখন ক্যালিফোর্নিয়া, নেভাডা, উটাহ এবং অ্যারিজোনা, নিউ মেক্সিকো, কলোরাডো ও ওয়াইওমিংয়ের অংশ।
পানামায় সরকার পতন
১৯০৩ সালে কলম্বিয়া থেকে পানামার বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনে সামরিকভাবে সমর্থন করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। ১৯৮৯ সালে নোরিয়েগাকে আটক করতে ২৭,০০০ মার্কিন সৈন্য অভিযান চালায়। হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আনুমানিক ২০০-৫০০ নাগরিক এবং প্রায় ৩০০ পানামার সৈন্য নিহত হয়। এরপর মার্কিন সমর্থিত প্রেসিডেন্ট গুইলের্মো এন্ডারা ক্ষমতা গ্রহণ করেন।
সাহায্য করে দখল কিউবা
১৮৯৮ সালে স্পেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সময় কিউবাকে সাহায্য করে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু বিজয়ের পর যুক্তরাষ্ট্র পুয়ের্তো রিকো নিয়ন্ত্রণ করে এবং ১৯০২ পর্যন্ত কিউবায় দখল রাখে। এরপরও মার্কিন নৌবাহিনী গুয়ানতানামো উপসাগরে নিয়ন্ত্রণ রাখে। ১৯৬১ সালে ফিডেল কাস্ত্রোর বিপ্লবের পর সিআইএ ব্যর্থ বে অব পিগস অভিযান চালায়।
রাজস্ব নিয়ন্ত্রণ নেয় হাইতির
দেশের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ও মার্কিন ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষার অজুহাতে ১৯১৫ সালে হাইতিতে মার্কিন অভিযান চালানো হয়। ১৯৩৪ পর্যন্ত দেশটির শুল্ক, কোষাগার ও জাতীয় ব্যাংক নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়। ১৯৫৯ সালে ফ্রঁসোয়া ‘পাপা ডাক’ ডুভালিয়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের চেষ্টা থামাতে সিআইএ গোপনে সহায়তা করে।
ব্রাজিলে বিচ্ছিন্নতাবাদী কর্মকাণ্ড
যদিও দেশটিতে সরাসরি হস্তক্ষেপ হয়নি। তবে ১৯৬৪ সালে ব্রাজিলের সৈন্য অভ্যুত্থান প্রতিহত করতে মার্কিন নৌবাহিনী প্রস্তুত ছিল। ১৯৭০-এর দশকে সিআইএ ও এফবিআই সক্রিয়ভাবে অপারেশন কন্ডর নামে বিচ্ছিন্নতাবাদী কর্মকাণ্ডে সহায়তা করে।
টেম্পল ইউনিভার্সিটির প্রফেসর আলান ম্যাকফারসন বলেন, ‘ভেনিজুয়েলায় অভিযান পূর্বের অনেক কার্যক্রমের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ হলেও ১৯৮৯ সালের পর এমন কিছু ঘটেনি-তাই এটি চমকপ্রদ।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ভাবতে যে নগ্ন সাম্রাজ্যবাদের যুগ-যেখানে যুক্তরাষ্ট্র শুধু সামরিক শক্তি ব্যবহার করে তা ২১শ শতকে শেষ হয়ে গেছে, কিন্তু তা সত্য নয়।’ ম্যাকফারসন বলেন, ‘এই অঞ্চলে মার্কিন হস্তক্ষেপের পর শান্তি, স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্র বিরল।’ তিনি আরও বলেন, ‘মার্কিন হস্তক্ষেপ প্রায় সবসময় দীর্ঘমেয়াদি শাসনসংক্রান্ত সমস্যা তৈরি করে।’
