Logo
Logo
×

Advertisement

দশ দিগন্ত

ইরানে নতুন হামলারই কি প্রস্তুতি

Advertisement

Icon

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

চলতি মাসের ২৭ তারিখে ইসরাইলের পার্লামেন্ট নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হতে যাচ্ছে। নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক অভিযান আবারও শুরু হতে পারে-এমন জল্পনার মধ্যেই ট্রাম্পের এ ঘোষণা দুই দেশের সামরিক ও রাজনৈতিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

ট্রাম্পের এ সমর্থন কি কেবলই রাজনৈতিক সমীকরণ, নাকি এর আড়ালেই রয়েছে ইরানে নতুন হামলার ছক-এমন প্রশ্নই উঠছে বিশেষজ্ঞ মহলে।

মঙ্গলবার আল জাজিরার প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। এতে বলা হয়, গত রোববার ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে নেতানিয়াহুকে ‘একজন মহান যোদ্ধা ও শান্তি জন্য বড় অংশীদার’ হিসাবে অভিহিত করেন ট্রাম্প। নেতানিয়াহুর প্রশংসা করে ট্রাম্প বলেন, ইসরাইলের ভেতরে থেকেও বিরোধিতাসহ নানা প্রতিকূলতার মুখে নেতানিয়াহু শক্ত, সাহসী ও বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েছেন।’ সাধারণ মানুষ যেখানে এমন চাপের মুখে ভেঙে পড়তেন, সেখানে নেতানিয়াহু আরও শক্তিশালী হয়েছেন এবং শেষ পর্যন্ত সফল হয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ট্রাম্পের ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলের কাছ থেকে এমন অংশীদারত্বই প্রত্যাশা করে। নেতানিয়াহুর আসন্ন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পক্ষে নিজের ‘সম্পূর্ণ ও নিঃশর্ত’ সমর্থন ঘোষণা করেন ট্রাম্প। পোস্টের শেষে তিনি লেখেন, ‘বিবি নেতানিয়াহু আপনাদের কখনো হতাশ করবেন না!’

একই পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানকে সামরিক ও আর্থিক-উভয় দিক থেকেই পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। ইরান তাদের অবস্থান পরিবর্তন না করলে যুক্তরাষ্ট্র শিগগিরই বাকি কাজ শেষ করবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। লন্ডনের কিংস কলেজের স্কুল অব সিকিউরিটি স্টাডিজের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক আন্দ্রেয়াস ক্রিগের মতে, নেতানিয়াহুকে সমর্থন জানানোর মধ্য দিয়ে ট্রাম্প মূলত ‘চাপ প্রয়োগের সক্ষমতা’ কাজে লাগাতে চাইছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ইরানকে উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে; ওয়াশিংটন মনে করছে, সময় তাদের পক্ষেই কাজ করছে। ট্রাম্পের হিসাব হলো, যুক্তরাষ্ট্রকে বড় ধরনের ছাড় না দিয়েও ইরান শেষ পর্যন্ত পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ছাড় দিতে এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে রাজি হবে। তার মতে, নেতানিয়াহুর প্রতি ট্রাম্পের সমর্থন এ কৌশলের পেছনে থাকা সামরিক হুমকিকে আরও জোরালো করে। তবে এর অর্থ এই নয় যে কূটনীতির পথ বন্ধ হয়ে গেছে। ট্রাম্প এখনো এমন একটি চুক্তি চান, যেটিকে তিনি নিজের বিজয় হিসাবে তুলে ধরতে পারবেন।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা ছাড়াই ইরানে হামলা চালাতে ইসরাইল প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন নেতানিয়াহু। একই সঙ্গে ইরানের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার অঙ্গীকারও করেছেন তিনি। সোমবার রুশ সংবাদমাধ্যম আরটির প্রতিবেদনে বলা হয়, শত্রুপক্ষের হামলার অপেক্ষায় না থেকে আগেভাগেই আঘাত হানাকে ইসরাইলের নিরাপত্তানীতির অন্যতম প্রধান নীতি হিসাবে তুলে ধরেছেন নেতানিয়াহু। রোববার দেওয়া ভাষণে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইরানের বর্তমান সরকার টিকে থাকলে দেশটি আবারও নিজেদের পারমাণবিক ও সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠন করবে। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণের জন্য অপেক্ষা না করেই ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর প্রস্তুতি রয়েছে দেশটির। নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমাদের যদি একাই পদক্ষেপ নিতে হয়, তাহলে আমরা একাই পদক্ষেপ নেব।’

গত ফেব্রয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের শুরু হওয়া যুদ্ধ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চলার মধ্যেই নেতানিয়াহুর এই বক্তব্য সামনে এলো। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা ও অস্ত্রের অন্যতম বড় গ্রহীতা ইসরাইল নিজেদের নিরাপত্তার যুক্তিতে ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তবে এই সংঘাত ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত করেছে এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। এদিকে ইরান বরাবরই বলে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করার অভিযোগও অস্বীকার করেছে তেহরান।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

ইরানে নতুন হামলারই কি প্রস্তুতি

ইরানে নতুন হামলারই কি প্রস্তুতি

দ্য ওয়্যারের প্রতিবেদন ভারতে মোড় ঘুরে গেছে

ভারতে মোড় ঘুরে গেছে

রয়টার্স-ইপসোস জরিপ ট্রাম্পের প্রতি অসন্তুষ্ট ৬৮ শতাংশ মার্কিনি

ট্রাম্পের প্রতি অসন্তুষ্ট ৬৮ শতাংশ মার্কিনি

বিলুপ্ত পৃথিবীর আয়না

বিলুপ্ত পৃথিবীর আয়না

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম