দ্য ওয়্যারের প্রতিবেদন
ভারতে মোড় ঘুরে গেছে
ভিন্নমতকে অস্তিত্ব সংকট হিসাবে তুলে ধরতে চাইছে বিজেপি
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় যে সরকার জনগণের প্রতিবাদকে ‘শাসন পরিবর্তন’র প্রচেষ্টা হিসাবে আখ্যায়িত করে, তা আসলে তাদের নিজেদের নিরাপত্তাহীনতাকেই সবার সামনে প্রকাশ করে। এটি সমালোচকদের গুরুত্ব বাড়িয়ে দেয়। পাশাপাশি ক্ষমতায় টিকে থাকাকে একটি ‘জাতীয় দায়িত্ব’ হিসাবে উপস্থাপন করে এবং জনগণকে একটি স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক প্রতিক্রিয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়-সরকার ও প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তনযোগ্য।
মঙ্গলবার দ্য ওয়্যারের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। এতে বলা হয়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজের শাসনকে ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার পথে এক ‘অ-জৈবিক’ বা ঈশ্বরপ্রদত্ত মাধ্যম হিসাবে তুলে ধরতে অভ্যস্ত। কিন্তু তার দলের বর্তমান ভাষা একটি অনাকাঙ্ক্ষিত সত্যকেই ফুটিয়ে তোলে-ভোটাররা মোদিকে প্রত্যাখ্যান করে ভারতের জন্য অন্য কোনো-সম্ভবত আরও ভালো ভবিষ্যৎ বেছে নিতে পারেন। যৌক্তিক ভিন্নমতকে অস্তিত্বের সংকট হিসাবে চিহ্নিত করার মাধ্যমে বিজেপি রাজনৈতিক পরিবর্তনের সেই বাস্তব সম্ভাবনাকেই উন্মোচিত করেছে, যা যে কোনো গণতন্ত্রের একটি মৌলিক স্তম্ভ। প্রতিবেশী দেশগুলোতে জেন-জি বা নতুন প্রজন্মের প্রভাবে যে পরিবর্তনগুলো এসেছে, তা নিয়ে বিজেপি অত্যন্ত সতর্ক। শ্রীলংকা, বাংলাদেশ ও নেপাল-প্রতিটি দেশ ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক পথ অনুসরণ করলেও তাদের মধ্যে একটি সাধারণ মিল ছিল-তরুণ প্রজন্মের তীব্র অসন্তোষ। এটা ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে প্রতিটি সংঘাতকে ত্বরান্বিত করেছে। জেন-জি শব্দটির প্রতি মোদি সরকার এতটাই সংবেদনশীল যে, তাদের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এখন আর শব্দটি ব্যবহার করা হয় না; পরিবর্তে তারা ‘তরুণ প্রজন্ম’র মতো অপেক্ষাকৃত অস্পষ্ট শব্দ ব্যবহার করেন। মোদির ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা সেই বিশেষ ধরনের ‘ভার্টিক্যাল’ ভিডিওগুলো-যা সরাসরি দর্শকদের সামনে তুলে ধরা হতো-এখন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। কারণ, এগুলো মানুষের শ্রদ্ধা অর্জনের পরিবর্তে ব্যাপক উপহাস ও সমালোচনার শিকার হয়েছে।
টেলিভিশন সংবাদে কঠোর ভাষায় আক্রমণ করা কিংবা আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনের মধ্যেই বিজেপি নিজেদের সীমাবদ্ধ রেখেছে। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কোনো অর্থপূর্ণ আলোচনায় তারা যাচ্ছে না।
স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে এই প্রথমবার নির্বাচন কমিশন বিরোধী দল, সাবেক সচিব, দিল্লির সাবেক লেফটেন্যান্ট গভর্নর এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের নাগালের বাইরে চলে গেছে। সরকার ও নাগরিকদের মধ্যে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে দিল্লি পুলিশ ও আধা-সামরিক বাহিনীর কঠোর শক্তি প্রয়োগ। যখন বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের দরজা বন্ধ হয়ে যায় ও পুলিশই সরকারের একমাত্র প্রতিনিধি হয়ে ওঠে, তখন জবাবদিহি নিয়ে শুরু হওয়া বিতর্কটি মোদি সরকারের নিরঙ্কুশ ক্ষমতা প্রয়োগের বিরুদ্ধে এক বৃহত্তর সংঘাতের রূপ নেয়। এটি বিজেপির জন্য বিশেষ ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, প্রধানমন্ত্রী হিসাবে মোদির ১৩তম বছরে এসে মানুষের মধ্যে এক ধরনের রাজনৈতিক ক্লান্তি তৈরি হয়েছে। তিনি এখন আর জনগণের দুর্দশার জন্য আগের সরকারগুলোকে দায়ী করে পার পেতে পারেন না, কিংবা নিজেকে ‘প্রতিষ্ঠিত ব্যবস্থার বিরোধী’ হিসাবেও তুলে ধরতে পারেন না।
