রয়টার্স-ইপসোস জরিপ
ট্রাম্পের প্রতি অসন্তুষ্ট ৬৮ শতাংশ মার্কিনি
মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রাক্কালে জনপ্রিয়তার রেকর্ড সর্বনিম্ন
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার রেকর্ড সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য নিয়ে মার্কিনিদের উদ্বেগের পাশাপাশি ৩ নভেম্বরের কংগ্রেস নির্বাচনে তার দল রিপাবলিকান পার্টিকে ভোটাররা শাস্তি দিতে প্রস্তুত বলে মনে হচ্ছে। সোমবার শেষ হওয়া বার্তা সংস্থা রয়টার্স-ইপসোস জরিপে এমন তথ্যই উঠে এসেছে।
চার দিন ধরে পরিচালিত এ জরিপ অনুযায়ী, মাত্র ৩১ শতাংশ মার্কিনি ট্রাম্পের কার্যকাল বা কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করেন। দুই সপ্তাহ আগের তুলনায় এটি ১ শতাংশ পয়েন্ট কম; সেই সঙ্গে এটি তার পুরো প্রেসিডেন্সিয়াল মেয়াদের মধ্যে সর্বনিম্ন। জরিপে অংশগ্রহণকারী নিবন্ধিত ভোটারদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, আজ যদি কংগ্রেস নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তবে তারা কোন দলকে ভোট দেবেন (যাকে ‘জেনেরিক ব্যালট’ প্রশ্ন বলা হয়)। এর উত্তরে ৪৭ শতাংশ ভোটার ডেমোক্র্যাটদের এবং ৩৫ শতাংশ রিপাবলিকানদের বেছে নেন। ডেমোক্র্যাটদের এ ১২ পয়েন্টের ব্যবধান বর্তমান নির্বাচনি চক্রে সবচেয়ে বড়। এটি মার্কিন প্রতিনিধি সভা (হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) ও মার্কিন সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাটদের আশাকে আরও জোরালো করতে পারে। রিপাবলিকানদের জন্য যে কোনো একটি কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারানো মানে ট্রাম্পের মেয়াদের শেষ দুই বছরে তার কর্মসূচি বাস্তবায়নের পথ কঠিন হয়ে পড়া।
‘জেনেরিক ব্যালট’ জরিপগুলো হলো জাতীয় পর্যায়ের জরিপ, যা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকুক-তা নিয়ে ভোটারদের সামগ্রিক মনোভাব তুলে ধরে। যদিও এসব জরিপ জাতীয় জনমতের একটি চিত্র দেয়, তবে এগুলো প্রতিটি অঙ্গরাজ্য বা নির্বাচনি এলাকার সুনির্দিষ্ট প্রতিদ্বন্দ্বিতার জটিল দিকগুলোকে পুরোপুরি ধরতে পারে না। অথচ সিনেট ও প্রতিনিধি সভার নিয়ন্ত্রণ নির্ধারিত হয় এই স্থানীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতাগুলোর মাধ্যমেই, যেখানে রিপাবলিকানদের কিছু কাঠামোগত সুবিধা রয়েছে।
দুই সপ্তাহ আগের এক রয়টার্স-ইপসোস জরিপে দেখা গেছে, রিপাবলিকানদের তুলনায় ডেমোক্র্যাটরা ৭ পয়েন্টে এগিয়ে ছিল- ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে ছিল ৪৪ শতাংশ; রিপাবলিকানদের পক্ষে ৩৭ শতাংশ সমর্থন। কংগ্রেস নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের প্রতি সমর্থন হ্রাসের একটি বড় কারণ হলো-নারীদের একটি বড় অংশ ডেমোক্র্যাটদের বেছে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। নারী ভোটারদের ৫০ শতাংশ ডেমোক্র্যাটদের ভোট দেওয়ার কথা বলেছেন, যেখানে রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে মত দিয়েছেন ৩২ শতাংশ। পুরুষ ভোটারদের মধ্যেও ডেমোক্র্যাটদের প্রতি সমর্থন বেশি ছিল।
ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ইসরাইলকে সঙ্গে নিয়ে ইরানে সামরিক হামলার নির্দেশ দেওয়ার পর থেকে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমেছে। এ সংঘাতের ফলে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যায়, যা সাধারণ মানুষের পারিবারিক বাজেটের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। প্রায় ৬৮ শতাংশ মার্কিনি অর্থনীতি পরিচালনার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের ভূমিকার সমালোচনা করেছেন।
