নেপালে ভোটের হাওয়া
জয়ের আশায় ক্ষমতাচ্যুত অলি, একই আসনে জেন- জি আইকন বালেন্দ্র * প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৩৪’শর বেশি প্রার্থী। প্রথমবার ভোট দেবেন ৮ লাখ মানুষ
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রক্তক্ষয়ী গণ-অভ্যুত্থানের (৮-১৩ সেপ্টেম্বর) পর হিমালয়দুহিতা নেপালে আবারও বইছে ভোটের হওয়া। ৫ মার্চ দেশটিতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচন সামনে রেখে সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছেন প্রার্থীরা। ৩ মার্চ শেষ হবে এই প্রচারণা। নেপালে নির্বাচনে প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ ভোটার নিবন্ধিত হয়েছেন। যার মধ্যে প্রথমবার ভোট দেবেন ৮ লাখ মানুষ। তারা ২৭৫ আসনের প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য নির্বাচন করবেন। এর মধ্যে ১৬৫ জন সরাসরি ভোটে এবং ১১০ জন আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে নির্বাচিত হবেন। সরাসরি ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৩,৪০০-এর বেশি প্রার্থী। যাদের ৩০ শতাংশের বয়স ৪০ বছরের নিচে। শেষ সময়ে প্রার্থীরা ভোটারদের মন জয় করতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। শহরজুড়ে ইতোমধ্যে টানানো হচ্ছে ব্যানার ও দলীয় পতাকা। আর সামনে রয়েছে একের পর এক সমাবেশ। শান্তি নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। নির্বাচন ঘিরে প্রায় ৩ লাখ কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করা সুশীলা কার্কি প্রচার শুরুর আগে বলেন, ‘এই নির্বাচন দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে’। এএফপি।
এবারের নির্বাচনেও অংশ নিচ্ছেন গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রবীণ কমিউনিস্ট নেতা কেপি শর্মা অলি। এর আগে কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল (ইউএমএল) থেকে চারবার দেশটির প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। তবে ২০২৫ সালে জেন-জি আন্দোলনের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হন অলি। বিক্ষোভে অন্তত ৭৭ জন নিহত হওয়ার পর ছয় মাসও হয়নি। এর মধ্যেই ৭৩ বছর বয়সি এই নেতা আবারও রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের চেষ্টা করছেন। এমনকি নির্বাচনে জয়ের আশা করছেন জনগণের ক্ষোভের মুখে ক্ষমতাচ্যুত এই নেতা। সোমবার নির্বাচনি প্রচারের সময় তাকে গলায় মালা পরিয়ে দিচ্ছিলেন সমর্থকরা। তবে অলির সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ জেন-জি আইকন বালেন্দ্র শাহ। সোমবার তাকেও জনগণের দ্বারে দ্বারে ভোট চাইতে দেখা যায়। ৩৫ বছর বয়সি এই র্যাপার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়র হিসাবে দায়িত্বে ছিলেন। তিনি নিজেকে তরুণদের নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রতীক হিসাবে তুলে ধরছেন। নির্বাচনে রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) থেকে লড়ছেন তিনি। কিন্তু মধেশ প্রদেশে তার লড়াইটা এতটাও সহজ হবে না। বালেন্দ্রের ঝাপাঁ-৫ আসন থেকেই লড়ছেন অলিও।
মধেশ প্রদেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে ৩২টি সরাসরি আসন আছে। জাতীয় ও আঞ্চলিক সব দলই এগুলো জেতার চেষ্টা করছে। বিশ্লেষকদের মতে, বালেন্দ্র শাহের দলের জয়ও এখানে কঠিন। কিন্তু আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বে দলটি ভালো করতে পারে। এখানে এগিয়ে থাকবে কংগ্রেস, ইউএমএল, আরএসপি এবং মধেশভিত্তিক দলগুলো। এছাড়াও জেন-জি রাজনীতির বিপরীতে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন সাবেক রাজা জ্ঞানেন্দ্র শাহের (৭৮) সমর্থকরা। তাকেও ২০০৮ সালে ক্ষমতাচ্যুত করে ২৪০ বছরের রাজতন্ত্রের অবসান ঘটায় জনগণ।
উল্লেখ্য, নেপালে গত বছর ৮ সেপ্টেম্বর জেন-জি বিক্ষোভ তীব্র হয়েছিল অলি সরকারের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত থেকে। তবে প্রকৃত কারণ ছিল দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক স্থবিরতা ও গভীর দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনক্ষোভ। প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে অলি বিক্ষোভকারীদের টার্গেটের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হন। ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর তিনি পদত্যাগ করেন। ক্ষুব্ধ জনতা তার বাসভবন, সংসদ ভবন ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে আগুন দেয়। পদত্যাগপত্রে অলি বলেন, তিনি আশা করেন, তার সরে দাঁড়ানো রাজনৈতিক সমাধান ও সংকট নিরসনের পথে সহায়ক হবে।
