ইসরাইলি নৃশংসতা অব্যাহত
গাজায় ধ্বংসস্তূপ ৬ কোটি টন
ইসরাইলের হামলায় নিহত ৭৪ হাজার ছাড়াল
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
যুদ্ধের ক্ষত এখনো স্পষ্ট গাজার পথে পথে। ধ্বংস হয়ে যাওয়া বাড়িঘর, দোকানপাট ও সড়কের ওপর জমে আছে কোটি কোটি টন ধ্বংসাবশেষ। এর নিচে চাপা পড়ে আছে মানুষের লাশ এবং বিস্ফোরিত না হওয়া বোমা। এই বিপুল ধ্বংসস্তূপ সরানোই এখন গাজার পুনরুদ্ধার কার্যক্রমের সবচেয়ে কঠিন কাজগুলোর একটি।
রোববার দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, উপত্যকায় জমে থাকা ধ্বংসস্তূপের পরিমাণ প্রায় ৬ কোটি ১০ লাখ টন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। এ ধ্বংসাবশেষ সরাতে ৭ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। খরচ হতে পারে কয়েক বিলিয়ন ডলার। এত বড় পরিসরে ধ্বংসস্তূপ সরানোর অভিযান আধুনিক ইতিহাসে বিরল।
গাজা সিটির তাল আল-হাওয়া এলাকার একটি সড়কের চিত্রই পরিস্থিতির ভয়াবহতা বোঝার জন্য যথেষ্ট। সড়কটি পরিষ্কার করতে কর্মীদের পুরো একটি দিন লেগেছে। কাজ শেষে জাতিসংঘের প্রকৌশলী আহমেদ আলিয়ান চারপাশের ধ্বংসস্তূপের দিকে তাকিয়ে নিজের ক্লান্তির কথা জানান। তিনি বলেন, তার মনে হচ্ছিল, ‘চামচ দিয়ে সমুদ্র খালি করার চেষ্টা করছি।’
ইসরাইলি হামলায় ড্রেনেজ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) ফিলিস্তিনবিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি জ্যাকো সিলিয়ার্স জানান, গাজার ৬ কোটি ১০ লাখ টন ধ্বংসস্তূপ গত ১৮ বছরে বিশ্বের বিভিন্ন যুদ্ধে তৈরি হওয়া মোট ধ্বংসাবশেষের প্রায় ২০ গুণ। কাজটি শুধু সময়সাপেক্ষ নয়, অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণও। ধ্বংসস্তূপের নিচে মৃতদেহের পাশাপাশি রয়েছে বিস্ফোরিত না হওয়া বোমা। তারপরও এখন পর্যন্ত ৫৮০ কিলোমিটার সড়ক পরিষ্কার করা হয়েছে। এতে ত্রাণবাহী ট্রাক, ত্রাণকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচল সহজ হয়েছে। তবে মোট ধ্বংসস্তূপের তুলনায় এ অগ্রগতি খুবই সামান্য। দুবছরের বেশি সময় ধরে কাজ চালানোর পর প্রায় ৯ লাখ ৭ হাজার টন ধ্বংসাবশেষ সরানো হয়েছে। এর মধ্যে ৩ লাখ টনের বেশি পুনর্ব্যবহার করা হয়েছে। সবমিলিয়ে সরানো হয়েছে মোট ধ্বংসস্তূপের মাত্র ১ দশমিক ৫ শতাংশ।
নিহতের সংখ্যা ৭৪ হাজার ছাড়াল : গাজায় অব্যাহত ইসরাইলি হামলায় শনিবার আরও এক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এতে মোট নিহতের সংখ্যা ৭৪ হাজার ছাড়িয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এপি জানায়, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে এ পর্যন্ত ৭৪ হাজার ১৬ জন নিহত হয়েছেন। আহতের সংখ্যা ১ লাখ ৭৫ হাজার ৬৮ জন। হতাহতদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।
