Logo
Logo
×

Advertisement

দশ দিগন্ত

আদানি তোষণে আসামে মুসলিম উচ্ছেদ

Advertisement

Icon

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

পুনর্বাসনের যথাযথ ব্যবস্থা না করেই ২০২৫ সালে ১ হাজার ৪০০ বাঙালি মুসলিম পরিবাকে উচ্ছেদ করে আসামের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার। তাদের ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়ে খালি করা হয় প্রায় ১ হাজার ১৫৭ একর জমি। এবার সেই জমিতেই আদানি পাওয়ার লিমিটেডের ৩ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। গত সপ্তাহে ধুবড়ি জেলার চাপার রাজস্ব সার্কেলের চারুয়াবাখরা, চিরাকুটা-১ ও ২ এবং সন্তোষপুর এলাকায় প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।

ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য স্ক্রল-এর বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে আসাম সরকার এসব গ্রামে প্রায় ১ হাজার ১৫৭ একর সরকারি জমিতে বসবাসকারী এক হাজারের বেশি বাঙালি মুসলিম পরিবারের বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেয়। বিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণের জন্য জমিটি প্রথমে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান আসাম পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডকে বরাদ্দ দেওয়া হয়। পরে প্রতিষ্ঠানটি ওই জমি আদানি পাওয়ার লিমিটেডকে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বরাদ্দ দেয়। উচ্ছেদের ফলে প্রায় ১০ হাজারের বেশি মুসলিম ঘরবাড়ি হারান। তাদের অনেকেই অন্তত ৩০ থেকে ৪০ বছর ধরে ওই এলাকায় বসবাস করছিলেন। সে সময় প্রকাশিত প্রতিবেদনে স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, তাদের অনেকেই ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে বসতভিটা হারিয়ে ওই এলাকায় এসে বসতি গড়েছিলেন। গত ১৪ জুলাই ভারতের কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অধীন বিশেষজ্ঞ মূল্যায়ন কমিটি আদানি পাওয়ারের প্রস্তাবিত কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রটির পরিবেশগত ছাড়পত্র দেওয়ার সুপারিশ করে। পরিবেশগত ছাড়পত্রের আবেদনে আদানি পাওয়ার মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছিল, প্রকল্প এলাকায় কোনো বসতি নেই। ফলে সেখানে পুনর্বাসন বা পুনর্বাসনসংক্রান্ত কোনো দাবি নেই বলেও উল্লেখ করা হয়।

এদিকে প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের সময় মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, ৩ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের এই তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পটি আসামের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎ প্রকল্প। আর আদানি গ্রুপ এক বিবৃতিতে জানায়, প্রকল্পটি নির্মাণে বহু লোকের কর্মসংস্থান হতে পারে। তবে বাস্তবে এর আড়ালে রয়েছে হাজারো মানুষের কান্না। স্থানীয় বাসিন্দা আবদুর রশিদ শেখ বলেন, সরকারের ‘জোরপূর্বক উচ্ছেদ অভিযানের’ মাধ্যমেই প্রকল্প এলাকা আগে খালি করে নেওয়া হয়েছে। ফলে ১ হাজার ৪০০ পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়েছে; তাদের পুনর্বাসন বা পুনর্বাসনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আবদুর রশিদ বলেন, ‘সাড়ে ৩ হাজার বিঘা সরকারি জমি জোর করে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া আরও ১ হাজার ৭০০ বিঘা জমিতে ভূমির মালিকানার কাগজপত্র থাকা মানুষ বসবাস করতেন। তাদের জমিও নেওয়া হয়েছে। ভূমির মালিকানার বৈধ কাগজপত্র থাকা মালিকদের প্রায় ৫০ শতাংশ এখনো ক্ষতিপূরণ পাননি, যদিও তাদের কাগজপত্র ঠিকঠাক আছে।’

উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের জন্য জেলা প্রশাসন বাইজার আলগা গ্রামে ৩০০ বিঘা জমি বরাদ্দ করেছিল। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের মালপত্র সরিয়ে নিতে এককালীন ৫০ হাজার রুপি করে সহায়তা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছিল। তবে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, তারা ওই জায়গায় যেতে রাজি নন। কারণ, নির্ধারিত পুনর্বাসনস্থলটি ব্রহ্মপুত্র নদের মাঝের নিচু এলাকায় অবস্থিত। তাদের আশঙ্কা, সেখানে বসবাস করা নিরাপদ হবে না। ২০১৬ সালে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) আসামের ক্ষমতায় আসার পর থেকে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় একাধিক উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। এসব অভিযানের বড় একটি অংশ মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় পরিচালিত হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে এ অভিযান আরও বেড়েছে।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

আদানি তোষণে আসামে মুসলিম উচ্ছেদ

আদানি তোষণে আসামে মুসলিম উচ্ছেদ

ইসরাইলি নৃশংসতা অব্যাহত গাজায় ধ্বংসস্তূপ ৬ কোটি টন

গাজায় ধ্বংসস্তূপ ৬ কোটি টন

রয়টার্সের প্রতিবেদন দেশে অজনপ্রিয়, বিশ্বমঞ্চেও কমছে ট্রাম্পের প্রভাব

দেশে অজনপ্রিয়, বিশ্বমঞ্চেও কমছে ট্রাম্পের প্রভাব

চীনের পান্ডা কূটনীতি

চীনের পান্ডা কূটনীতি

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম