ট্রাম্পের কৌশলে কি উলটো ফল
ইরানের সাত দিনের কর্মপরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
যুদ্ধ বন্ধ ও হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দিতে ইরান সর্বশেষ যে প্রস্তাবটি যুক্তরাষ্ট্রকে দিয়েছিল, তা প্রত্যাখ্যান করেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশ্লেষকদের মতে, এ মুহূর্তে ইরানের প্রস্তাব গ্রহণের চেয়ে অপেক্ষা করাকেই বেশি লাভজনক মনে করছেন ট্রাম্প। তাদের ধারণা, ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়িয়ে দেশটির কাছ থেকে অতিরিক্ত ছাড় আদায় করতে চান তিনি। তবে বেশি সময় অপেক্ষা করলে যুক্তরাষ্ট্রের দরকষাকষির সুবিধা উলটো কমেও যেতে পারে-এমন আশঙ্কাও রয়েছে।
শনিবার সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, তিনি ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। তার দাবি, ইরান একটি চুক্তি করতে চাইছে। কারণ দেশটি ‘খুব খারাপভাবে হারছে’। সোমবার আল জাজিরার বিশ্লেষণে বলা হয়, ইরানের সাত দিনের প্রস্তাবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত ছিল। এর মধ্যে ছিল ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া। ইরানের তেল বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করাও প্রস্তাবের অংশ ছিল। এছাড়া প্রায় ১ হাজার ২ কোটি ডলার মূল্যের জব্দ ইরানি সম্পদ ছাড় করার কথা বলা হয়েছিল। সেই সঙ্গে লেবানন ও ইয়েমেনসহ বৃহত্তর অঞ্চলে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার প্রস্তাবও দিয়েছিল তেহরান। এর বিনিময়ে হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চূড়ান্ত একটি চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরুর প্রস্তাবও ছিল।
ন্যাটো ডিফেন্স কলেজের জ্যেষ্ঠ অনাবাসিক সহযোগী ফেলো রিচার্ড ওয়েইটজ বলেন, হোয়াইট হাউজ হয়তো মনে করছে, আরও কিছুদিন অপেক্ষা করলে ইরানের কাছ থেকে ভালো শর্ত আদায় করা সম্ভব হবে। ইরানের প্রস্তাবে কোন শর্ত আগে বাস্তবায়িত হবে, তা নিয়েও ওয়াশিংটনের উদ্বেগ রয়েছে। ওয়েইটজের মতে, যুক্তরাষ্ট্র হয়তো হিসাব করছে, সময়ের সঙ্গে অর্থনৈতিক চাপ বাড়তে থাকলে ইরান সরকার আরও ছাড় দিতে বাধ্য হবে।
কিংস কলেজ লন্ডনের আন্দ্রেয়াস ক্রিগ বলেন, সময় শুধু ইরানের ওপরই চাপ বাড়ায় না। যুক্তরাষ্ট্রের ওপরও চাপ বাড়তে পারে। আন্দ্রেয়াস ক্রিগের মতে, ট্রাম্প চান ওয়াশিংটনকে বড় ধরনের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মূল্য না দিয়েই তেহরান হরমুজ প্রণালি খুলে দিক। তবে তার আশঙ্কা, ট্রাম্প ইরানের অর্থনৈতিক দুর্ভোগকে ইরানের আত্মসমর্পণের ইচ্ছার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলতে পারেন। একটি দেশ অর্থনৈতিক চাপে থাকলেই যে তারা রাজনৈতিকভাবে সব দাবি মেনে নেবে, এমন নয়।
ইরান যে চাপের মধ্যে রয়েছে, তা অস্বীকারের সুযোগ নেই। ক্রিগ বলেন, নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধ ইরানের ওপর যথেষ্ট প্রভাব ফেলছে। এ কারণেই তেহরান একটি চুক্তি চাচ্ছে। তবে আরও চাপ দিলেই ইরান আরও বেশি ছাড় দেবে-এমন নিশ্চয়তা নেই।
