ভারতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি
‘জেল ভরো’ আন্দোলনে সিজেপি
Advertisement
কলকাতা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে আন্দোলনে নামা ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) মুম্বাই পুলিশের কাছ থেকে বিক্ষোভ সমাবেশের অনুমতি পায়নি। আগামী ২ অক্টোবর গান্ধীজয়ন্তীর দিন মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে বড় জমায়েতের কর্মসূচি দিয়েছিল দলটি। অনুমতি না মেলায় ওইদিন ‘জেল ভরো’ আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন সিজেপি নেতা অভিজিৎ দীপকে।
রোববার রাতে সামাজিকমাধ্যমে দীপকে জানান, শিবাজি পার্কে বিক্ষোভের অনুমতি দেয়নি মুম্বাই পুলিশ। তার অভিযোগ, নাগরিকদের কণ্ঠস্বর দমিয়ে রাখার কৌশল গ্রহণযোগ্য নয়। অনুমতি না থাকলেও গান্ধীজয়ন্তীর দিন সিজেপি জেল ভরো আন্দোলন শুরু করবে বলে জানান তিনি। তার ভাষায়, দেখা হবে মুম্বাইয়ের জেলে কত জায়গা আছে।
সিজেপির দাবি, নির্বাচন কমিশনের অন্য দুই কমিশনারকে উপেক্ষা করে শাসক বিজেপির স্বার্থে কাজ করছেন জ্ঞানেশ কুমার। এ অভিযোগে তার পদত্যাগের জন্য ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা দিয়েছিল দলটি। সময়ের মধ্যে পদত্যাগ না করায় ‘যন্তর মন্তর ২.০’ আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হয়। মুম্বাই থেকে শুরু করে পরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলন ছড়িয়ে দেওয়ার কথা জানিয়েছে সিজেপি। শিবাজি পার্কে জমায়েতের অনুমতি চেয়ে মুম্বাই পুলিশের কাছে আবেদন করেছিল দলটি। পুলিশ জানিয়েছে, শিবাজি পার্ক জনসমাবেশের জন্য নির্ধারিত হলেও বিক্ষোভ কর্মসূচির জন্য নয়। এ বিষয়ে ২০১৩ সালে বম্বে হাইকোর্টের দেওয়া একটি রায়ের কথাও উল্লেখ করেছে পুলিশ। ওই রায়ে শিবাজি পার্ক খেলাধুলা ছাড়া অন্য কাজে ব্যবহারের বিষয়ে বিধিনিষেধের কথা বলা হয়েছিল।
এছাড়া জমায়েতের জন্য বৃহৎমুম্বাই পৌর করপোরেশনের প্রয়োজনীয় অনুমতিও জমা দেওয়া হয়নি বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়। পুলিশ আরও বলেছে, এলাকাটি আবাসিক এবং সেখানে বিক্ষোভ হলে শব্দদূষণ ও যানজট তৈরি হতে পারে। ওই এলাকায় কয়েকটি হাসপাতাল থাকায় রোগী ও স্বজনদের চলাচলেও সমস্যা হতে পারে। তবে শিবাজি পার্কে অনুমতি না পাওয়ার পর সিজেপি কোথায় কর্মসূচি পালন করবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। পুলিশ তাদের অন্য কোথাও জমায়েতের অনুমতি দেবে কি না, কিংবা আইনশৃঙ্খলার কারণ দেখিয়ে আগেই নেতাকর্মীদের আটক করা হবে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। এর মধ্যেই আসামে সিজেপির আরেক নেতা আশুতোষ রাঙ্কাকে আটকের ঘটনা সামনে এসেছে। ‘স্কুল ঠিক করো’ কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে রোববার তিনি আটক হন। তার সঙ্গে সংগঠনের আরও কয়েকজন নেতাকর্মীকেও আটক করা হয়। রাঙ্কাকে মুক্তি না দিলে আসামে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন অভিজিৎ দীপকে। সিজেপির আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন লাদাখের পরিবেশ আন্দোলনকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক। তিনি বলেন, ভারতের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনপ্রক্রিয়া। তাঁর ভাষায়, সিজেপির কণ্ঠস্বর এখন আগের চেয়ে জোরালো হয়েছে; তিনি এই আন্দোলনের প্রতি নীতিগত সমর্থন জানাচ্ছেন। তবে ২ অক্টোবর মুম্বাইয়ের কর্মসূচিতে তিনি নিজে উপস্থিত থাকবেন কি না, তা নিশ্চিত করেননি ওয়াংচুক। তার বক্তব্য, ব্যক্তিগতভাবে সব আন্দোলনে উপস্থিত থাকা সব সময় সম্ভব নয়। তবে আন্দোলনের দাবির প্রতি তার পূর্ণ নীতিগত সমর্থন রয়েছে।
