ওয়াশিংটন ও দিল্লির বিরোধ প্রকাশ্যে
নেপথ্যে ভিসা বাণিজ্য শুল্ক
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন এখন আর কূটনীতির অন্তরালে সীমাবদ্ধ নেই। পাকিস্তানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান, বাণিজ্যনীতি ও শুল্ক, রুশ তেল কেনা এবং এইচ-১বি ভিসা নিয়ে ওয়াশিংটনের নীতির বিষয়ে নয়াদিল্লি এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি সরব। দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মতপার্থক্য থাকলেও ভারত সাধারণত তা প্রকাশ্যে না এনে কূটনৈতিক পরিসরেই সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছে। কিন্তু কয়েক মাসের টানাপোড়েনের পর নয়াদিল্লি এখন ওয়াশিংটনের সঙ্গে মতবিরোধগুলো প্রকাশ্যে তুলে ধরছে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সাম্প্রতিক বক্তব্যে দুই দেশের সম্পর্কের এসব অমীমাংসিত বিষয় আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
বৃহস্পতিবার আল জাজিরার প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে আসে। সম্প্রতি নিউইয়র্কে এক অনুষ্ঠানে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর যুক্তরাষ্ট্রের নীতির সমালোচনা করেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পাকিস্তানঘেঁষা অবস্থান এবং ‘আত্মকেন্দ্রিক’ বাণিজ্যনীতিরও সমালোচনা করেন।
বাণিজ্য দুই দেশের সম্পর্কে বড় বিরোধের জায়গা। দুই দেশ বাণিজ্যচুক্তির একটি রূপরেখায় পৌঁছালেও এখনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। কৃষিপণ্য ও বাজার উন্মুক্ত করার বিষয়টি আলোচনায় বড় বাধা হয়ে আছে। এর মধ্যে রুশ তেল কেনা নিয়ে ভারতের ওপর নতুন করে চাপ তৈরি করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। রাশিয়া থেকে তেল কেনা দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সুযোগ রেখে সম্প্রতি ট্রাম্প একটি আইনে স্বাক্ষর করেছেন। এই শুল্ক কার্যকর হলে দুই দেশের
সম্পর্ক আরও কঠিন পরিস্থিতিতে পড়তে পারে। এছাড়া এইচ-১বি ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নীতিও ভারতীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
কূটনৈতিক টানাপোড়েনের আরেকটি বড় কারণ পাকিস্তান। গত বছরের ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের পর ট্রাম্প যুদ্ধবিরতিতে নিজের ভূমিকার দাবি করে আসছেন। অন্যদিকে পাকিস্তানের সঙ্গে তার প্রশাসনের ঘনিষ্ঠতা নয়াদিল্লির অস্বস্তি বাড়িয়েছে। ভারত ও পাকিস্তান একে অপরের বিরুদ্ধে অস্থিতিশীলতায় মদদের অভিযোগ করে আসছে। এটা দুই দেশকে প্রায় দ্বান্দ্বিক সম্পর্কের মধ্যে ফেলে রাখে।
বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের সম্পর্ক পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি। তবে বাণিজ্যচুক্তি এবং ট্রাম্প প্রশাসনের ভবিষ্যৎ নীতিই এখন সম্পর্কের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
