সৌদিতে তেল আবিবগামী ফ্লাইটের জরুরি অবতরণ
উড়োজাহাজ কাণ্ডে রহস্য
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দুবাই থেকে ইসরাইলে তেল আবিবের উদ্দেশে উড্ডয়নের পর মাঝ আকাশেই ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখে পড়ে ফ্লাইদুবাইয়ের একটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ। অভিযোগ উঠেছে, বিমানের এক পাইলট অন্য পাইলটকে ধারালো কিছু দিয়ে আঘাত করে সেটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। এ সময় বিমানটি দ্রুত নিচে নামতে শুরু করলে কয়েক যাত্রী ককপিটে ঢুকে উড়োজাহাজের নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে সৌদি আরবের তাবুকে জরুরি অবতরণ করে বিমানটি। ঘটনায় দুই পাইলটই আহত হয়েছেন।
ঘটনাটি কয়েকটি প্রশ্ন সামনে এনেছে। এরমধ্যে আছে, সহ-পাইলট কি প্রধান পাইলটকে হামলা করেছিলেন, নাকি তাদের মধ্যে ঝগড়া বা মারামারি হয়েছিল? কারণ দুজনকেই আহত অবস্থায় দেখা গেছে। যাত্রী হিসেবে থাকা কাঠমিস্ত্রি কীভাবে উড়োজাহাজের নিয়ন্ত্রণ নিলেন? আর সবচেয়ে বড় যে প্রশ্নটি, সেটি ঘটনার সময় নিয়ে। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বড় হামলার সতর্কতার একদিন পরই এমন ঘটনা ঘটল। এ কথা ইসরাইলেরই বিরোধী নেতারা বলছেন।
নেতানিয়াহু’র বিরুদ্ধে ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও রয়েছে। সম্প্রতি ইসরাইলি গণমাধ্যম হারৎজ বলছে, ওই হামলার আগে নেতানিয়াহুকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মুহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহয়ান আগাম সতর্কতা দিয়েছিলেন। কিন্তু নেতানিয়াহু তা আমলে না নিয়ে ঘটনাটি ঘটতে দেন, যাতে গাজায় গণহত্যা চালিয়ে ফিলিস্তিনিদের বিতাড়ন করা যায়।
আল জাজিরা জানায়, ওই উড়োজাহাজের ১৭৪ যাত্রীর প্রায় সবাই ইসরাইলের বাসিন্দা। প্রশ্ন উঠছে, বিমানের ককপিটে কি দুই পাইলট ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বে মারামারি করছিলেন, নাকি এটা কোনো নাশকতা চেষ্টা? ইসরাইলে চলতি মাসের শেষ দিকে পার্লামেন্ট (নেসেট) নির্বাচন। নানা জরিপে দেখা গেছে, ভোটে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তার প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে পিছিয়ে। এ বাস্তবতার মধ্যে ফ্লাইদুবাইয়ের উড়োজাহাজের ঘটনা ঘটল। এ ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে। এ নিয়ে ইতোমধ্যে সুর তুলতে শুরু করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তারা এ ঘটনার সঙ্গে ইরানের নামও উচ্চারণ করছেন। ফক্স নিউজকে নেতানিয়াহু বলেন, সৌদি কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত পাইলটকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। আর ট্রাম্প বলেন, ওই উড়োজাহাজের কো-পাইলট যে ঘটনা ঘটিয়েছেন, তাতে হয় তিনি সন্ত্রাসবাদী, নয়তো অবিবেচক ধরনের লোক। টিআটি ওয়ার্ল্ড জানায়, ট্রাম্প বলেছেন- ঘটনাটি নিয়ে তিনি নেতানিয়াহুর সঙ্গেও কথা বলেন। ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মনে করি- এটা একটি অবিশ্বাস্য ঘটনা।’ নেতানিয়াহু জানান, যাত্রীদের মধ্যে থাকা একজন কাঠমিস্ত্রি ককপিটে ঢুকে বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেন। তবে ট্রাম্প এ-ও বলেন, তিনি ঘটনাটির সত্যতার বিষয়ে নিশ্চিত নন। পুরো বিষয়টি তিনি বিবির (নেতানিয়াহু) কাছ থেকে শুনেছেন। এক ইসরাইলি কর্মকর্তা জানান, অভিযুক্ত হামলাকারী ওমানের নাগরিক।
এ নিয়ে ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্কও শুরু হয়েছে। বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদের অভিযোগ, নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক মিত্ররা এক দিন আগে দেওয়া সম্ভাব্য হামলার সতর্কবার্তার সঙ্গে এ ঘটনার যোগসূত্র দেখানোর চেষ্টা করছেন।
