মিয়ানমারের ১০ হাজার নাগরিক ফেরত দিল মালয়েশিয়া
কুয়ালালামপুর যাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট হ্লাইং
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মিয়ানমারের প্রায় ১০ হাজার নাগরিককে নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে মালয়েশিয়া। এর মধ্যে গত সপ্তাহেই প্রায় ১ হাজার ৫০০ জনকে সমুদ্রপথে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হয়। এরই মধ্যে মিয়ানমারের সামরিক জান্তার প্রধান ও দেশটির প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং আগামী কয়েক দিনের মধ্যে কুয়ালালামপুর সফরে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। মঙ্গলবার মালয়েশিয়ার পার্লামেন্টে তিনি এ তথ্য জানান। খবর আল জাজিরার।
আনোয়ার বলেন, ‘মিয়ানমারের সঙ্গে আমরা যে শর্ত দিয়েছি, তার একটি হলো-তাদের অবশ্যই নিজেদের নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে নিতে হবে। দ্বিতীয়ত, তাদের জনগণের সঙ্গে ন্যায্য আচরণ করতে হবে, যাতে কোনো ধরনের নির্যাতন, জবরদস্তি বা মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা না ঘটে।’ মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইংয়ের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা অব্যাহত রাখবেন বলেও জানান আনোয়ার। তিনি বলেন, মিন অং হ্লাইং ‘আগামী কয়েক দিনের মধ্যে’ কুয়ালালামপুর সফরে আসছেন। তার এই সফরকে মিয়ানমারের সামরিক নেতার আন্তর্জাতিক বৈধতা অর্জনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসাবে দেখা হচ্ছে।
২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাতের পর দেশটিতে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। এর আগে ২০১৭ সালে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর ব্যাপক দমন-পীড়নের মুখে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়। মালয়েশিয়া জানিয়েছে, মিয়ানমারের যেসব নাগরিককে ফেরত পাঠানো হয়েছে, তারা স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনে সম্মতি দিয়েছেন। আনোয়ার বলেন, ফেরত পাঠানো ব্যক্তিদের একাংশকে মিয়ানমার সরকারের ব্যবস্থাপনায় বিশেষ বিমানে দেশে পাঠানো হয়েছে। তবে মানবাধিকার পর্যবেক্ষকরা বলছেন, অনেক শরণার্থীর সামনে দেশে ফেরত যাওয়া ছাড়া কার্যত আর কোনো বিকল্প ছিল না। মানবাধিকার সংগঠন ও আইনপ্রণেতারা এই প্রত্যাবাসন নিয়ে নিরাপত্তা উদ্বেগের কথাও জানিয়ে আসছেন। বিশেষ করে মিয়ানমারের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের দেশে ফেরত পাঠানো হলে তাদের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মালয়েশিয়ায় থাকা মিয়ানমারের শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীদের মধ্যে রোহিঙ্গারাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। তবে সম্প্রতি যাদের ফেরত পাঠানো হয়েছে, তাদের মধ্যে ঠিক কতজন রোহিঙ্গা ছিলেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
