ওয়াশিংটন-কিয়েভ সম্পর্কে টানাপোড়েন
রাশিয়ায় মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্পর্কের টানাপোড়নের মধ্যেই রাশিয়ার ওপর আরোপিত একাধিক নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। নিষেধাজ্ঞাগুলো কার্যকর হওয়ার নির্ধারিত সময়ের মাত্র দুই দিন আগে শুক্রবার রাতে এক নির্বাহী আদেশে এ সিদ্ধান্ত নেন ট্রাম্প। তিনি জানান, আইনটির আওতায় থাকা বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞা, বিধিনিষেধ ও শুল্ক কার্যকর না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তে যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতাদের মধ্যেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
শনিবার বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন কংগ্রেসে পাশ হওয়ার পর গত সেপ্টেম্বরে নিষেধাজ্ঞাসংক্রান্ত আইনে স্বাক্ষর করেছিলেন ট্রাম্প। তবে শুক্রবার রাতে জারি করা নির্বাহী আদেশে তিনি বলেন, কিছু নিষেধাজ্ঞা স্থগিত রাখা যুক্তরাষ্ট্রের ‘জাতীয় স্বার্থের’ জন্য প্রয়োজনীয়। এ সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এলো, যখন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সমালোচনায় সরব ট্রাম্প। এমনকি ইউক্রেনের নতুন নেতৃত্ব প্রয়োজন বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। এছাড়া গত সপ্তাহে রাশিয়ার কাছ থেকে ডিজেল আমদানির একটি বিতর্কিত চুক্তিও করে যুক্তরাষ্ট্র। এরপর থেকেই ওয়াশিংটন ও কিয়েভের সম্পর্কে টানাপোড়েন বাড়তে থাকে। ইউক্রেনের অভিযোগ, ট্রাম্প প্রশাসন তাদের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সহায়তা প্রত্যাহার করছে।
মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আইনের মূল লক্ষ্য ছিল রাশিয়ার অর্থনীতিকে চাপে ফেলা। এ আইনের আওতায় রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের শীর্ষ পাঁচ ক্রেতা দেশের আমদানিপণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল ট্রাম্পকে। এ ছাড়া রাশিয়ার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিধানও ছিল আইনে। সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিলেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। পাশাপাশি রাশিয়ার আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল পরিবহণে ব্যবহৃত মস্কোর তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা ছায়া নৌবহরকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। তবে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে এসব বিধানের অনেকগুলোই স্থগিত করা হয়েছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভ এ সিদ্ধান্তকে সত্যিকার অর্থে ঐতিহাসিক মুহূর্ত বলে অভিহিত করেছেন।
ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের সমালোচনায় মার্কিন আইনপ্রণেতারা: রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেট আইনপ্রণেতারা। ভার্জিনিয়ার কংগ্রেস সদস্য ডন বেয়ার অভিযোগ করেছেন, ট্রাম্প মস্কোর কাছে নতি স্বীকার করছেন এবং কিয়েভ ও জেলেনস্কির প্রতি সমর্থন থেকে সরে যাচ্ছেন। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে ইউক্রেনেও আরও ক্ষোভ বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুদ্ধ পরিচালনায় রাশিয়া যে অর্থ ব্যবহার করছে, তা সীমিত করতে কঠোর নিষেধাজ্ঞার প্রয়োজনীয়তার কথা দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলায় নিহত ৮ : ইউক্রেনজুড়ে ব্যাপক হামলা অব্যাহত রেখেছে রাশিয়া। শুক্রবারও ইউক্রেনের নয়টি অঞ্চলে হামলা চালায় দেশটি। এতে অন্তত আটজন নিহত ও ৬০ জন আহত হয়েছেন। হামলায় দুটি শপিং সেন্টারসহ বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে পড়েছে ১০ লাখের বেশি মানুষের। খারকিভের আঞ্চলিক গভর্নর ওলেহ সিনিয়েহুবভ জানান, শহরের তিনটি জেলায় হামলায় ৭১ বছর বয়সী এক নারী ও ৫৮ বছর বয়সী এক পুরুষ নিহত হন। আহত হন আরও ১২ জন। দোনেৎস্ক অঞ্চলের সম্মুখসারির শহর ক্রামাতোরস্কে নিহত হয়েছেন দুজন। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলেও প্রাণ হারিয়েছেন আরও দুজন। পোল্যান্ডের সীমান্তবর্তী উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় ভোলিন অঞ্চলে একটি খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় ড্রোন হামলায় একজন নিহত ও আটজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক গভর্নর রোমান রোমানিউক। এছাড়া রিভনে অঞ্চলে একটি বড় শপিং সেন্টারসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ড্রোন হামলায় একজন নিহত ও সাতজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক গভর্নর ওলেক্সান্দর কোভাল। রাশিয়ার হামলায় একদিকে প্রাণহানি ও বেসামরিক স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতি বাড়ছে, অন্যদিকে বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে আঘাতের কারণে ইউক্রেনের বহু মানুষকে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকতে হচ্ছে। দেশটির জ্বালানি ব্যবস্থায় রাশিয়ার আকাশপথে হামলা অব্যাহত রাখার প্রস্তুতির খবর পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
