আল জাজিরার বিশ্লেষণ
হরমুজে কি গোপনে টোল নিচ্ছে ইরান
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যেও হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল রপ্তানি আবার বাড়ছে। ইরানের অবরোধ ও হামলার ঝুঁকি সত্ত্বেও সেপ্টেম্বরের শেষদিকে অঞ্চলটির তেল রপ্তানি যুদ্ধ শুরুর আগের গড় মাত্রাকেও ছাড়িয়েছে। প্রশ্ন উঠছে-ঝুঁকিপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে জাহাজগুলো নিরাপদে চলাচলের সুযোগ পাচ্ছে কীভাবে? জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের এক বিশ্লেষকের দাবি, এর নেপথ্যে থাকতে পারে ইরানকে গোপনে দেওয়া কোনো ‘টোল’ বা নিরাপত্তা মাশুল। তবে এই দাবি এখনো স্বাধীনভাবে প্রমাণিত নয়। খবর আল জাজিরার।
কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে মাত্র চার দিনে মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি দিনে ১ কোটি ৯৫ লাখ থেকে ২ কোটি ২৫ লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছে। যুদ্ধের আগে গড় রপ্তানি ছিল প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ ব্যারেল। কেপলার বলছে, বর্তমানে প্রায় ৪০ শতাংশ তেল হরমুজ এড়িয়ে বিকল্প পথে যাচ্ছে। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পাইপলাইন এবং লোহিত সাগরও গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হয়ে উঠেছে।
কেপলারের নীতি ও ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি বিভাগের প্রধান মিশেল ব্রোহার্ডের ধারণা, কিছু দেশ জাহাজ নিরাপদে পার করার বিনিময়ে ইরানকে কার্গোর ১০ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত দিয়ে থাকতে পারে। মার্চে শিপিংবিষয়ক সাময়িকী লয়েডস লিস্ট জানিয়েছিল, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হরমুজে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণে ‘টোল বুথ’ ব্যবস্থা চালু করেছে। সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের হরমুজ সেফ মেরিন সার্ভিসেস অথরিটির সঙ্গে অর্থ লেনদেনে জড়িত একটি ডিজিটাল সম্পদ প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়।
তবে লিভারপুল জন মুরস ইউনিভার্সিটির মেরিটাইম সেন্টারের প্রধান আবদুল খালিক বলেন, নিয়মিত ইরানি টোল ব্যবস্থার কোনো প্রকাশ্য প্রমাণ নেই। তার মতে, এটি আনুষ্ঠানিক শুল্কের বদলে অনানুষ্ঠানিক নিরাপত্তাব্যবস্থা হতে পারে। তবে তেলের রপ্তানি বাড়লেও দাম এখনো যুদ্ধপূর্ব সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চ বিমা ব্যয়, জাহাজের ঘাটতি ও পরিবহণ ব্যয়ই এখন বড় সমস্যা। ফলে হরমুজে তেল চলাচল বাড়লেও নিরাপদ ও স্থায়ী সরবরাহ নিশ্চিত হওয়া এখনো অনিশ্চিত।
