Logo
Logo
×

Advertisement

দশ দিগন্ত

গাজায় ইসরাইলি হামলার তিন বছর

মৃত্যু উপত্যকায় বঞ্চনার জীবন

Advertisement

Icon

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

একে একে পার হয়েছে তিনটি বছর। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর গাজায় অবর্ণনীয় নৃশংসতা শুরু করে ইসরাইল। ব্যাপক বিমান ও স্থল অভিযানের পর উপত্যকার ৮০ শতাংশ স্থাপনা ধ্বংস হয়ে গেছে। তছনছ হয়ে গেছে অন্তত ২০ লাখ মানুষের জীবন। ধ্বংসের ওপর দাঁড়িয়ে এখন অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে আছে গাজার ফিলিস্তিনিরা। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৭৪ হাজার ২৪৫ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

২০২৫ সালের অক্টোবরে একটি ‘যুদ্ধবিরতি’ ঘোষণা করা হলেও দুর্ভোগ থামেনি। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ১ হাজার ৪৬২ ফিলিস্তিনি নিহত হন। ইসরাইল অবরোধ করে রেখে উপত্যকার চারপাশ। এতে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও অর্থনীতি ভেঙে পড়েছে। খাদ্য, পানি, আশ্রয় ও অন্যান্য মৌলিক প্রয়োজন মেটানোও কঠিন হয়ে পড়েছে। উপত্যকার বড় অংশই এখন ইসরাইলি সেনাদের দখলে। এ কারণে তারা কোনো ফসল উৎপাদন করতে পারছেন না।

বেঁচে থাকাই প্রতিদিনের লড়াই : জাতিসংঘের হিসাবে, সেপ্টেম্বরে গাজার ৯৪ শতাংশ মানুষ জরুরি আশ্রয় ও গৃহস্থালি সহায়তার প্রয়োজনের মধ্যে ছিল। ৬৫ শতাংশ পরিবার বাস করছিল তাঁবু বা অস্থায়ী আশ্রয়ে। অনেক পরিবারের পর্যাপ্ত বিছানা, আলো, রান্নার সরঞ্জাম ও স্যানিটেশন সুবিধা নেই। পানির সংকটও তীব্র। জাতিসংঘের হিসাবে, আগস্টের শুরুতে ৯১ শতাংশ পরিবার মাঝারি থেকে উচ্চমাত্রার পানি-নিরাপত্তাহীনতায় ছিল। জুনে এই হার ছিল ৮৪ শতাংশ। গাজায় কার্যকর বিদ্যুৎ গ্রিড নেই। ফলে হাসপাতাল ও পরিবারগুলোকে জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

ধ্বংস অর্থনীতি, কমেছে আয় : জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়নবিষয়ক সংস্থা ইউএনসিটিএডির হিসাবে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজার ৯২ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। বেকারত্ব বেড়ে হয়েছে ৭৮ শতাংশ। ২০২৫ সালে গাজায় মাথাপিছু জিডিপি ছিল মাত্র ২১২ ডলার। ২০২২ সালের তুলনায় এটি মাত্র ১৭ শতাংশ। কৃষি ও শিল্প খাতের উৎপাদন নেমে এসেছে ২০২২ সালের ৬ শতাংশে।

শ্রেণিকক্ষের বদলে তাঁবু : ইউনিসেফের হিসাবে, গাজার প্রায় ৯৮ শতাংশ স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ৪ থেকে ১৭ বছর বয়সী প্রায় ৭ লাখ শিশু টানা প্রায় তিন

বছর শ্রেণিকক্ষের শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। ফলে অনেক শিশু তাঁবু ও অস্থায়ী শিক্ষাকেন্দ্রে পড়ছে। প্রায় ২ লাখ শিশু কোনো শিক্ষার সুযোগই পাচ্ছে না। এছাড়াও ইসরাইলি হামলায় ২০,০০০ বেশি শিশু নিহত হয়েছে।

ধ্বংসের মুখে স্বাস্থ্যব্যবস্থা : বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) হিসাবে, গাজার ৩৬টি হাসপাতালই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে ১৯টি হাসপাতাল কোনোভাবে চালু আছে। তবে একটিও পূর্ণ সক্ষমতায় কাজ করতে পারছে না। এতে ক্যানসার চিকিৎসা, ডায়ালাইসিস ও দীর্ঘমেয়াদি রোগের চিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে প্রায় ১২ হাজার ৪০০ রোগীকে চিকিৎসার জন্য গাজার বাইরে নেওয়া হয়েছে।

ছোট হয়ে এসেছে গাজা : যুদ্ধ গাজার ভৌগোলিক চিত্রও বদলে দিয়েছে। ইসরাইলের সামরিক নিয়ন্ত্রণ ও প্রবেশে বিধিনিষেধের কারণে ভূখণ্ডটি বিভিন্ন অংশে বিভক্ত হয়েছে। মানুষ ক্রমেই ছোট একটি এলাকায় আটকে পড়ছে।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

গাজায় ইসরাইলি হামলার তিন বছর মৃত্যু উপত্যকায় বঞ্চনার জীবন

মৃত্যু উপত্যকায় বঞ্চনার জীবন

ইয়েমেনে প্রাণ বাঁচাতে ছুটছেন মানুষ

ইয়েমেনে প্রাণ বাঁচাতে ছুটছেন মানুষ

ট্রাম্পকে ‘উন্মাদ’ আখ্যা ক্যালিফোর্নিয়া মেয়রের

ট্রাম্পকে ‘উন্মাদ’ আখ্যা ক্যালিফোর্নিয়া মেয়রের

মৃত্যুদণ্ড ব্যর্থ, কথা বলছেন পাইক

মৃত্যুদণ্ড ব্যর্থ, কথা বলছেন পাইক

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম