ট্রাম্পের সঙ্গে পুতিনের চুক্তি
রাশিয়ার ওপর জ্বালানি নিষেধাজ্ঞা শিথিল
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব, যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির ক্রমবর্ধমান দাম এবং আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন-সব মিলিয়ে এক কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের বাড়তি ব্যয়ের চাপ কমাতে এবার রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল সরবরাহের চুক্তির কথা জানালেন তিনি। অথচ মাত্র তিন সপ্তাহ আগেও রাশিয়ার তেল ও গ্যাস আমদানিকারী দেশগুলোর ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক আরোপের অনুমোদন দিয়েছিলেন ট্রাম্প। ফলে তার এই নাটকীয় অবস্থান পরিবর্তন জ্বালানির বাজারে স্বস্তি ফেরানোর পাশাপাশি নতুন কূটনৈতিক বিতর্কও তৈরি করেছে। খবর বিবিসির।
ট্রাম্পের দাবি, আগামী কয়েক মাসে রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ববাজারে কয়েক লাখ টন ডিজেল সরবরাহ করবে। তবে কীভাবে এই জ্বালানি বাজারে আসবে এবং এর বিনিময়ে রাশিয়া কী সুবিধা পাবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানির দাম বাড়ায় মার্কিন জনগণের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। পেট্রলপাম্পে বাড়তি ব্যয়ের পাশাপাশি পরিবহণ ও ভোগ্যপণ্যের দামও বেড়েছে। এতে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে কৃষিনির্ভর অঙ্গরাজ্যগুলোতে ডিজেলের উচ্চমূল্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। কৃষিযন্ত্র চালানো ও পণ্য পরিবহণে ডিজেলের ওপর নির্ভরশীল আইওয়া, কানসাস, টেক্সাস ও ওহাইওর মতো অঙ্গরাজ্যগুলো আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এসব নির্বাচনের ফলের ওপর কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার বিষয়টিও নির্ভর করছে। ফলে পরিস্থিতি সামাল দিতে ইউরোপীয় মিত্রদের তেলের মজুত থেকে আরও জ্বালানি ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছেন ট্রাম্প। পাশাপাশি জ্বালানির ওপর ফেডারেল কর সাময়িকভাবে স্থগিতও করেছেন তিনি।
মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ হওয়ার আগে ইরানে নতুন হামলা না চালানোর প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন ট্রাম্প। তবে রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তির সমালোচনা করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি বলেছেন, রাশিয়াকে পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য বিক্রির সুযোগ দেওয়া পুতিনের জন্য ‘উপহার’। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এতে এমন একটি যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, যা শেষ হওয়া উচিত। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিদিন প্রায় ৩৬ লাখ ব্যারেল ডিজেল ব্যবহৃত হয়। রাশিয়া চলতি মাসে প্রতিশ্রুত ৩ লাখ টন ডিজেল সরবরাহ করলেও তা মার্কিন দৈনিক ব্যবহারের প্রায় অর্ধেকের সমপরিমাণ। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে দামে বড় পরিবর্তন নাও আসতে পারে বলেই ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে অনেক অঙ্গরাজ্যে আগাম ভোট শুরু হয়ে গেছে।
