Logo
Logo
×

Advertisement

দশ দিগন্ত

নিখুঁত আঘাতে পণ্ড মার্কিন ছক

Advertisement

Icon

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলা শুরুর পর দেশটি উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনায় অত্যন্ত নিখুঁতভাবে পালটা আঘাত করে। এতে এসব দেশে থাকা গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন অবকাঠামো অচল হয়ে পড়ে। একের পর এক লক্ষ্যভেদী আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় অস্ত্র ও কৌশলগত সরঞ্জাম। যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতির মুখ দেখে। সুনির্দিষ্ট ও নিখুঁত হামলা যুক্তরাষ্ট্রের রণকৌশলকে কঠিন চাপে ফেলে। উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সুরক্ষিত রাখা ও যুদ্ধের লক্ষ্য অর্জন-দুক্ষেত্রেই ওয়াশিংটনকে বাড়তি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়।

বৃহস্পতিবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। এতে বলা হয়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে হামলা শুরুর পর থেকে উপসাগরীয় অঞ্চলের সাতটি দেশে অন্তত ৮৪টি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে ১৩৫টি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়। দেশগুলো হলো-সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরাক, কাতার, কুয়েত, ওমান ও বাহরাইন। এসব হামলায় তেল ও গ্যাস স্থাপনা, বিমানবন্দর, পাইপলাইন এবং অন্য কৌশলগত অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলার প্রভাব সবচেয়ে স্পষ্ট হয়েছে জ্বালানি খাতে। আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দরে তেল পরিবহণের গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থায় বারবার আঘাত হানা হয়েছে। হরমুজ প্রণালির বাইরে অবস্থিত বন্দরটি ইরানের অবরোধ এড়িয়ে তেল পরিবহণের বিকল্প পথ হিসাবে গুরুত্বপূর্ণ। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বন্দরটিতে অন্তত ১৯ বার হামলা হয়েছে।

মার্চের মাঝামাঝি হামলায় ফুজাইরাহ বন্দরের তেল পরিবহণের আরেকটি ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একই সময়ে তিনটি অপরিশোধিত তেলের ট্যাংকে আগুন লাগে। প্রতিটি ট্যাংকে ২ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল তেল ধারণের ক্ষমতা ছিল। আগুন জ্বলেছিল আট দিন। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ১৬ মার্চ থেকে শুরু হওয়া সপ্তাহে বন্দরটির তেল লোডিং কমে দৈনিক ৪ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেলে নেমে আসে, যা ২০২৫ সালের দৈনিক গড়ের অর্ধেকেরও কম। পরবর্তী সময়েও হামলা থামেনি। গত ৪ মে ফুজাইরাহতে আরেকটি ড্রোন হামলায় তেল পরিবহণের পাইপ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে পরিশোধিত জ্বালানি রপ্তানি প্রায় এক মাসের জন্য কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। হামলার দিন থেকে ১ জুন পর্যন্ত বন্দরটি থেকে মাত্র একটি জাহাজ বের হয়েছিল বলে পণ্য পরিবহণ বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য থেকে জানা যায়। পরিশোধিত জ্বালানি রপ্তানি স্বাভাবিক হতে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় লাগে। কাতারের রাস লাফান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) স্থাপনাও হামলার লক্ষ্য হয়েছে। সেখানে গ্যাসকে তরলে রূপান্তরের জন্য ব্যবহৃত শীতলীকরণ সরঞ্জামের দুটি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ধরনের সরঞ্জাম তৈরি ও স্থাপন করতে দীর্ঘ সময় লাগে। ফলে ক্ষতি কাটিয়ে উৎপাদন স্বাভাবিক করা সহজ নয়। বিশ্বের মোট এলএনজি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশের সঙ্গে কাতারের উৎপাদন সক্ষমতা যুক্ত। রাস লাফানের স্থাপনাগুলোতে হামলার কারণে বৈশ্বিক গ্যাস সরবরাহেও বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। সৌদি আরবের তেল পরিবহণব্যবস্থাও হামলার শিকার হয়েছে। ১০ সেপ্টেম্বর দেশটির ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের একটি পাম্পিং স্টেশনে হামলায় তেলপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। আরও দুটি স্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রয়টার্সের তথ্যানুযায়ী, এর কার্যক্রম বন্ধ থাকলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহের সর্বোচ্চ ৪ শতাংশ ঝুঁকিতে পড়তে পারে। অবকাঠামোয় হামলার প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানির বাজারেও। যুদ্ধের কারণে মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছায় বা তা ছাড়িয়ে যায়।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

নিখুঁত আঘাতে পণ্ড মার্কিন ছক

নিখুঁত আঘাতে পণ্ড মার্কিন ছক

ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে হুথির হামলা

ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে হুথির হামলা

নেতানিয়াহুকে সমর্থন প্রসঙ্গে ট্রাম্প রাজনীতিতে কাউকে বিশ্বাস করি না

রাজনীতিতে কাউকে বিশ্বাস করি না

দ্রুতগতিতে গলছে ‘সর্বনাশা হিমবাহ’

দ্রুতগতিতে গলছে ‘সর্বনাশা হিমবাহ’

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম