Logo
Logo
×

Advertisement

দশ দিগন্ত

বিক্ষোভে পুড়ছে ইউরোপ

ফ্রান্সে গ্রেফতার ১,২০০; আন্দোলন বেলজিয়াম, ইতালি ও পর্তুগালেও

Advertisement

Icon

হাসান ইলিয়াছ তানিম, প্যারিস (ফ্রান্স) থেকে

প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানির উচ্চমূল্য, ক্রয়ক্ষমতার অবনতি ও সরকারি পরিষেবা নিয়ে অসন্তোষকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ। বিশেষ করে পশ্চিম ইউরোপের ফ্রান্স, বেলজিয়াম, ইতালি ও পর্তুগালে চলছে ব্যাপক বিক্ষোভ। আর এ বিক্ষোভ ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছে দেশগুলোর নিরাপত্তা বাহিনী। চলছে গণগ্রেফতার। ফ্রান্সে সহিংস রূপ নিয়ে বিক্ষোভ। ছড়িয়েছে বিভিন্ন শহরে। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, দোকানপাটে লুটপাট, যানবাহনে অগ্নিসংযোগ এবং সরকারি ভবনে হামলার ঘটনা ঘটে। কোথাও পুড়েছে গাড়ি, কোথাও আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সরকারি স্থাপনা, কোথাও লুটপাট হয়েছে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান।

শনিবার রাস্তায় নামেন ৫ লাখের বেশি মানুষ। ইতোমধ্যেই দেশজুড়ে প্রায় ১ হাজার ২০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু। রাজধানী প্যারিসে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দাঙ্গা পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভবনে আগুন দেওয়া হয়। বিভিন্ন শহরে দোকানপাটে লুটপাট এবং পৌরসভা ভবন ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু জানিয়েছেন, বিক্ষোভের সময় সংঘটিত সহিংসতায় ১৫০ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

লিয়ঁ ও লিমোজে ঐতিহাসিক ভবনে আগুন : সহিংসতা শুধু রাজধানীতে সীমাবদ্ধ থাকেনি। দক্ষিণ ফ্রান্সের মার্সেই, উত্তরাঞ্চলের লিল, লিয়ঁ, বোর্দো ও লিমোজসহ বিভিন্ন শহরে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। লিমোজ শহরের পৌরসভা ভবনে ভয়াবহ আগুনে ছাদের একাংশ ধসে পড়ে। লিয়ঁ শহরের পর্যটন দপ্তরের একটি ভবনে আগুন লাগে। মার্সেইয়ে সরকারি ভবন ও অন্যান্য স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। লিলেও সরকারি ভবনে হামলা এবং দোকানপাটে লুটপাটের খবর এসেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে পুলিশ। তবে দেশজুড়ে মোট কতটি দোকান, গাড়ি কিংবা সরকারি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনো প্রকাশিত হয়নি।

যেভাবে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ল : ফ্রান্সের এবারের বিক্ষোভের পেছনে রয়েছে একাধিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক অসন্তোষ। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানির উচ্চমূল্য, মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ওপর চাপ, মজুরি ও পেনশন নিয়ে অসন্তোষ এবং সরকারি পরিষেবার মান নিয়ে উদ্বেগ আন্দোলনকে বিস্তৃত করেছে। বিক্ষোভের সূত্রপাত হয় শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবিকে কেন্দ্র করে। বিদ্যালয়ে শিক্ষকসংকট, অপর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত সমস্যা নিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ ধীরে ধীরে বৃহত্তর সামাজিক আন্দোলনে রূপ নেয়। পরে শ্রমিক সংগঠন, ট্রেড ইউনিয়ন এবং জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ক্ষুব্ধ বিভিন্ন গোষ্ঠীও এতে যোগ দেয়।

ইউরোপের আরও তিন দেশে বিক্ষোভ : একই সমস্যায় জর্জরিত ইউরোপের আরও তিন দেশ-ইতালি, বেলজিয়াম ও পর্তুগালেও বিক্ষোভ চলছে। শনিবার এ তিন দেশের রাজপথে নামেন হাজারো মানুষ। ইতালির মিলানে যুদ্ধবিরোধী অবস্থান ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে শুরু হওয়া মিছিল, যা একপর্যায়ে সহিংস রূপ নেয়। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, দোকানপাটে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে দুই পুলিশ সদস্য আহত এবং ৫০ বিক্ষোভকারী আটক হন। বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ।

চলুন, ফ্রান্সের বিপ্লবে যোগ দিই-ট্রাম্প : ফ্রান্সজুড়ে সহিংস বিক্ষোভের ঘটনায় দেশটিকে ‘বিপ্লবের জন্য উপযুক্ত জায়গা’ বলে উপহাস করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এক নির্বাচনি সমাবেশে তিনি বলেন, ‘চলুন ফ্রান্সে যাই? জায়গাটা চমৎকার। সেখানে কোনো দাঙ্গা নেই, কোনো বিপ্লব নেই। জানেন, বিপ্লবের জন্য ফ্রান্স যেন একেবারে আদর্শ জায়গা।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

দ্য কনভারসেশনের প্রতিবেদন ভারতে গণতন্ত্র রক্ষা পাবে কি

ভারতে গণতন্ত্র রক্ষা পাবে কি

বিক্ষোভে পুড়ছে ইউরোপ

বিক্ষোভে পুড়ছে ইউরোপ

মনিপুরে ফের গোলাগুলি আগুন, হতাহত

মনিপুরে ফের গোলাগুলি আগুন, হতাহত

দিল্লিতে পা ফেলবেন না রুবিও

দিল্লিতে পা ফেলবেন না রুবিও

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম