Logo
Logo
×

Advertisement

দশ দিগন্ত

দ্য কনভারসেশনের প্রতিবেদন

ভারতে গণতন্ত্র রক্ষা পাবে কি

ককরোচ আন্দোলন দেখিয়েছে, সম্মিলিত প্রতিবাদের শক্তিকে উপেক্ষা সহজ নয়

Advertisement

Icon

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

ভারতের গণতন্ত্রের ক্রমাগত অবক্ষয়ের মধ্যে নতুন করে আশার আলো দেখাচ্ছে তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ‘ককরোচ আন্দোলন’। ভোটার তালিকা থেকে কোটি কোটি মানুষের নাম বাদ পড়া, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন এবং সরকারের বিরুদ্ধে দমন-পীড়নের অভিযোগ-সবমিলিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে দেশটিতে। এরই প্রতিবাদে রাজপথে নেমেছেন তরুণরা। তাদের সঙ্গে যোগ দিচ্ছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। কিন্তু এ আন্দোলন কী ভারতের গণতন্ত্রের পতন ঠেকাতে পারবে? নাকি ক্ষমতাসীন কঠোর সরকারের সামনে একসময় থেমে যাবে প্রতিবাদের ঢেউ? গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা তৈরি হলেও আন্দোলনটির সামনে রয়েছে কঠিন পথ।

অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক গণমাধ্যম দ্য কনভারসেশনের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। এতে বলা হয়, ভারতের গণতন্ত্রের অবক্ষয় এ বিক্ষোভের মাধ্যমে থেমে যাবে-এমন সম্ভাবনা কম। কেননা মোদি সরকারের শক্তির উৎস শুধু বিজেপি নয়। এর সঙ্গে রয়েছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)। প্রায় এক শতাব্দী পুরোনো এ হিন্দুত্ববাদী সংগঠনটির বিস্তৃত সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক রয়েছে। স্কুল, শ্রমিক সংগঠন, দাতব্য প্রতিষ্ঠান ও পাড়াভিত্তিক কার্যক্রমে তাদের শক্তিশালী উপস্থিতি রয়েছে। তৃণমূল পর্যায়ে শক্তিশালী সাংগঠনিক ভিত্তি এবং সংবাদমাধ্যমের ওপর সরকারের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ-এ দুয়ের সমন্বয়ে মোদি সরকার বিপুলসংখ্যক সমর্থককে সংগঠিত করতে পারে।

ঐতিহাসিকভাবে ভারত এমন একটি দেশ, যেখানে নির্বাচনে ক্ষমতাসীনদের হারিয়ে দেওয়ার নজির রয়েছে। তা সত্ত্বেও মোদি টানা ১২ বছর ক্ষমতায় থাকতে পেরেছেন। তার সরকারের সাংগঠনিক সুবিধাগুলো এ দীর্ঘ শাসনকাল ব্যাখ্যা করতে সাহায্য করে। তবে রাজনৈতিক সক্রিয়তার ক্ষেত্রে ‘ককরোচ আন্দোলন’ তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সঠিক পথে এগোচ্ছে।

প্রথমত, মানুষের মধ্যে প্রতিবাদের শক্তি ফিরছে। আন্দোলনটি ভারতে রাজনৈতিক কার্যকারিতার বোধ ফিরিয়ে আনতে শুরু করেছে; অর্থাৎ সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে শক্তিশালী সরকারকেও পিছু হটতে বাধ্য করা যায়-এ বিশ্বাস নতুন করে তৈরি হচ্ছে। ২০২৬ সালের শুরুর দিকে সিজেপির নেতৃত্বে বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। প্রশ্নপত্র ফাঁসের কেলেঙ্কারী কেন্দ্র করে এ আন্দোলন গড়ে উঠেছিল। এ ঘটনার গুরুত্ব অনেক। ভারতে ২০ থেকে ২৯ বছর বয়সি বেকার তরুণদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক। এমন পরিস্থিতিতে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সাফল্য সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাওয়ার বিরল সুযোগগুলোর একটি।

দ্বিতীয়ত, বিভিন্ন গোষ্ঠী একত্র হচ্ছে। এ বিক্ষোভ ভারতের সমাজের আগে থেকে বিচ্ছিন্ন বিভিন্ন গোষ্ঠীকে একত্র করেছে। আইনজীবী, কৃষক সংগঠন ও অধিকারকর্মীরা আন্দোলনটির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। ফলে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সিজেপি এবং বিরোধী দলগুলোর জোট ‘ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টাল ইনক্লুসিভ অ্যালায়েন্স’ বা ‘ইন্ডিয়া’ জোটের মধ্যে সমন্বয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনে কোনো প্রভাবশালী দলকে চ্যালেঞ্জ জানাতে হলে বিরোধী দলগুলোর মধ্যে সমন্বয় থাকা অত্যন্ত জরুরি। বিরোধী দলগুলোর প্রতিটি নীতিগত বিষয়ে একমত হওয়ার প্রয়োজন নেই। সিজেপি প্রতিষ্ঠিত বিরোধী দলগুলোর অতীতের রাজনৈতিক বোঝা ছাড়াই তরুণদের সংগঠিত করতে পারে। অন্যদিকে ইন্ডিয়া জোটের রয়েছে সংসদীয় প্রতিনিধিত্ব ও সাংগঠনিক কাঠামো। এ দুই শক্তির সমন্বয় আন্দোলনকে আরও কার্যকর করে তুলতে পারে।

তৃতীয়ত, সুনির্দিষ্ট দাবি আন্দোলনকে শক্তিশালী করে। কোনো সুনির্দিষ্ট ও স্পষ্ট দাবি কেন্দ্র করে গড়ে উঠলে বিক্ষোভ সাধারণত বেশি কার্যকর হয়। একটি নির্দিষ্ট নীতির বিরোধিতায় এ আন্দোলন সমাজের বিভিন্ন শ্রেণিকে একত্র করেছিল। ফলে এমন একটি বিস্তৃত সামাজিক জোট গড়ে ওঠে, যা নির্দিষ্ট একটি নীতি পরিবর্তনের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হতে পেরেছিল। বর্তমান আন্দোলনের ক্ষেত্রেও প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবি একটি স্পষ্ট লক্ষ্য তৈরি করেছে। এর ফলে আন্দোলনকারীরা কৌশলগত নমনীয়তা বজায় রাখতে পারবেন। ভারতের ক্ষমতাসীন সরকারের সুবিধা এখনো অনেক। বিজেপির বিপুল সাংগঠনিক সম্পদ রয়েছে। ২০২৯ সালের পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনের আগে এখনো প্রায় তিন বছর সময় বাকি। অবশ্য ২০২৭ সালে ভারতের সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য উত্তরপ্রদেশের নির্বাচন সরকারের জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হয়ে উঠবে।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

দ্য কনভারসেশনের প্রতিবেদন ভারতে গণতন্ত্র রক্ষা পাবে কি

ভারতে গণতন্ত্র রক্ষা পাবে কি

বিক্ষোভে পুড়ছে ইউরোপ

বিক্ষোভে পুড়ছে ইউরোপ

মনিপুরে ফের গোলাগুলি আগুন, হতাহত

মনিপুরে ফের গোলাগুলি আগুন, হতাহত

দিল্লিতে পা ফেলবেন না রুবিও

দিল্লিতে পা ফেলবেন না রুবিও

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম