ফিলিস্তিনের গাজা
যেখানে হাসপাতালে চিকিৎসা হয় না
৬০ হাজার শিশু বাবা-মায়ের একজন বা উভয়কেই হারিয়েছে-ইউনিসেফ
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইসরাইল তার গণহত্যামূলক যুদ্ধে গাজার প্রায় সব স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি উপত্যকায় ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রবেশে বাধা দিয়ে আসছে। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয় কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তিন বছর পর গাজা উপত্যকার ৯৪ শতাংশ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র পুরোপুরি বা আংশিকভাবে অকার্যকর হয়ে পড়েছে। যখন বড় ধরনের হতাহতের ঘটনা ঘটে, তখন হাসপাতালের জরুরি বিভাগ-এর চিত্রটি কেমন হয়-সোমবার এক প্রতিবেদনে আল জাজিরা তা তুলে ধরেছে। এতে বলা হয়, ইসরাইল অ্যাম্বুলেন্সগুলোতেও বোমা হামলা চালিয়েছে। ফলে উদ্ধারকারী ও সাধারণ মানুষকে আহতদের গাড়ি বা পশুর টানা গাড়িতে করে নিয়ে আসতে হয়েছে। স্ট্রেচার না থাকায় তাদের কোলে বা বাহুতে করে বহন করতে হয়েছে। আল জাজিরা গাজায় কাজ করা কয়েকজন চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে, যারা সেখানকার হাসপাতালগুলোর বর্তমান অবস্থার সঙ্গে আদর্শ চিকিৎসা সরঞ্জামে সজ্জিত হাসপাতালের পরিস্থিতির তুলনা করেন। এমনকি জরুরি বিভাগেও কেবল ভাগ্যবানরাই একটি স্ট্রেচার বা বিছানা পাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। গাজায় স্বেচ্ছাসেবক হিসাবে কাজ করা জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আদিল হোসেন ১২ বছর বয়সী এক বালকের কথা জানান, যার মাথায় গুলি লেগেছিল এবং তাকে মেঝেতে রেখেই চিকিৎসা দিতে হয়েছিল। এমন অসংখ্য শিশুর মধ্যে সে ছিল একজন। গাজার জরুরি বিভাগগুলোতে সবচেয়ে সাধারণ ও প্রয়োজনীয় জিনিসেরই অভাব রয়েছে। যেমন-‘র্যাপিড ইনফিউশন পাম্প’, যা গুরুতর আহত ব্যক্তির শরীরে দ্রুত রক্ত বা তরল ওষুধ পৌঁছে দিতে পারে। এর অভাবে কাউকে না কাউকে আইভি ব্যাগটি উঁচুতে ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় এবং ব্যাগটি চেপে ধরে আহত ব্যক্তির শরীরে তরল প্রবেশের গতি বাড়ানোর চেষ্টা করতে হয়। আবার ‘ল্যারিঙ্গোস্কোপ’-এর মতো যন্ত্রও সেখানে নেই; অথচ কোনো শিশুর শ্বাসপথ অবরুদ্ধ হয়ে পড়লে তার ভেতরে দেখার জন্য এবং ‘ইনটিউবেশন’ প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে চিকিৎসকদের এটি প্রয়োজন হয়। এমন সব পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে চিকিৎসকদের হাতে কিছুই থাকে না।
৬০ হাজার শিশু এতিম : ইউনিসেফ
জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) জানিয়েছে, গাজা উপত্যকায় যুদ্ধের সময় প্রায় ৬০ হাজার শিশু তাদের বাবা-মায়ের একজনকে অথবা উভয়কেই হারিয়েছে। সোমবার সংস্থাটি বলেছে, সংঘাতের শিকার এ শিশুদের ওপর দীর্ঘস্থায়ী মনস্তাত্ত্বিক ও মানবিক প্রভাব পড়তে পারে। জেনেভায় জাতিসংঘের কার্যালয় ‘প্যালেস ডেস নেশনস’-এ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ইউনিসেফের যোগাযোগ কর্মকর্তা ও উপ-মুখপাত্র রিকার্ডো পাইরেস জানান, প্রায় ৮ লাখ শিশু বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এদের অধিকাংশই এখন তাঁবুতে অথবা ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে বাস করে।
