নতুন বিক্ষোভের প্রস্তুতি
ফ্রান্সজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার
বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে বৈঠকে বসছে সরকার
Advertisement
হাসান ইলিয়াছ তানিম, প্যারিস (ফ্রান্স) থেকে
প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ফ্রান্সে গত সপ্তাহের সহিংসতার রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন করে বিক্ষোভের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। আগামী শনিবার আবার রাজপথে নামার পরিকল্পনা করছেন আন্দোলনকারীরা। এ পরিস্থিতিতে আগের বিক্ষোভে নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতা চিহ্নিত করে নতুন কৌশল গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সে সঙ্গে সহিংসতা, ভাঙচুর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা খতিয়ে দেখতে তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির পার্লামেন্ট।
বুধবার বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, ফরাসি প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু বুধবার পাঁচটি শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনা করেছেন। বিক্ষোভের অধিকার সুরক্ষিত রাখা এবং সহিংসতা প্রতিরোধের উপায় নিয়ে আলোচনার কথা রয়েছে সেখানে। সরকারের কাছে পাঠানো চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। সে সঙ্গে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়া ঠেকানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেছেন।
এদিকে শিক্ষার্থী ও ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলো শনিবারের কর্মসূচির প্রস্তুতি নিচ্ছে। শ্রমিক সংগঠনগুলো আগামী ৫ নভেম্বরও পৃথক বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে। ফলে আগামী কয়েক সপ্তাহে জনঅসন্তোষ সামাল দেওয়া সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। গত শনিবারের সহিংসতার পর নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়ে সরকারের ওপর চাপ বেড়েছে। ফরাসি সংবাদমাধ্যম লে মঁদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ১৭ অক্টোবরের বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা সম্পর্কে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর পূর্বাভাস বাস্তব পরিস্থিতির তুলনায় অনেক কম ছিল। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, সেদিন দেশজুড়ে প্রায় পাঁচ লাখ ৫০ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। অন্যদিকে, আয়োজকদের হিসাবে এ সংখ্যা ছিল প্রায় আট লাখ। অথচ গোয়েন্দা মূল্যায়নে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা সর্বোচ্চ দুই লাখ হতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছিল।বিক্ষোভের ব্যাপকতা সম্পর্কে এ ভুল মূল্যায়ন এবং নিরাপত্তা বাহিনীরগ প্রস্তুতির সীমাবদ্ধতা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণকে কঠিন করে তোলে। ভবিষ্যতের কর্মসূচিতে জনসমাগমের পূর্বাভাস, নিরাপত্তা বাহিনীর অবস্থান এবং দ্রুত পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নতুন কর্মসূচির আগে সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় নির্দিষ্ট বিক্ষোভ নিষিদ্ধের বিষয়টিও পর্যালোচনা করছে কর্তৃপক্ষ। ফরাসি পার্লামেন্টে ২০ অক্টোবর দেওয়া বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরঁ নুনিয়েস ঝুঁকিপূর্ণ সমাবেশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সম্ভাবনার কথা জানান। অনিবন্ধিত সমাবেশের পাশাপাশি জনশৃঙ্খলার জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, এমন ঘোষিত কর্মসূচির বিরুদ্ধেও প্রশাসন পদক্ষেপ নিতে পারে। তবে সব বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করার কোনো দেশব্যাপী সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি। সরকারের অবস্থান হলো, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার বজায় রেখেই সহিংসতার আশঙ্কা মোকাবিলা করতে হবে। এদিকে গত ১৭ অক্টোবরের সহিংসতা নিয়ে পার্লামেন্টের তদন্তের উদ্যোগ এগিয়েছে।
ফরাসি ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্ট ইয়েল ব্রাউন পিভে তদন্ত কমিশন গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন। সহিংসতার ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নিয়েও উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্যারিস, মার্সেই, লিওঁসহ বিভিন্ন শহরে দোকানপাটে
লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। সরকারি হিসাব ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বিপুলসংখ্যক ব্যক্তিকে আটক এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের আহত হওয়ার তথ্য উঠে এসেছে। এসব ঘটনার পর সরকার ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পাশে দাঁড়ানো এবং সহিংসতায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিচারিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে।
