জাতিসংঘের সতর্কবার্তা
যুদ্ধে মানুষের সিদ্ধান্তকে ছাপিয়ে যাচ্ছে এআই
Advertisement
শিব্বীর আহমেদ, নিউইয়র্ক থেকে
প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সামরিক অভিযানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ক্রমবর্ধমান ব্যবহার মানুষের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভূমিকা কমিয়ে দিতে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। ফলে যুদ্ধক্ষেত্রে ভুল সিদ্ধান্ত, অনিচ্ছাকৃত সংঘাতের বিস্তার এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তাঝুঁকি বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের নিরস্ত্রীকরণ গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ইউএনআইডিআইআর) পরিচালক রবিন গেইস। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্রিফিংয়ে গেইস প্রশ্ন করেন, ‘আমরা কি যন্ত্রকে মানুষের লক্ষ্য নির্ধারণ ও হত্যা করার অনুমতি দিতে যাচ্ছি?’
তিনি সতর্ক করে বলেন, সামরিক ক্ষেত্রে এআই এমন এক পর্যায়ের দিকে এগোচ্ছে, যেখানে মানুষের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভূমিকা ক্রমেই সংকুচিত হয়ে পড়তে পারে। জাতিসংঘের মহাসচিব বারবার আহ্বান জানান, সামরিক ক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের বিষয়ে এমন সীমা নির্ধারণ করতে হবে, যাতে বিশ্ব কোনো ‘নৈতিক সীমারেখা’ অতিক্রম না করে।
গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ, লক্ষ্যবস্তু শনাক্তকরণ, ড্রোন পরিচালনা ও সাইবার হামলার সমন্বয়সহ সামরিক কার্যক্রমের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ছে। গেইসের মতে, এসব ক্ষেত্রে এআইয়ের ওপর নির্ভরতা বৃদ্ধির ফলে মানুষের বিচার-বিবেচনার ভূমিকা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পারমাণবিক অস্ত্রসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও এ উদ্বেগ প্রাসঙ্গিক। এআইনির্ভর প্রযুক্তি লক্ষ্য শনাক্ত করা থেকে শুরু করে হামলা চালানো পর্যন্ত সময় কমিয়ে আনছে। সে সঙ্গে সামরিক বাহিনীগুলোকে প্রতিদিন আগের তুলনায় অনেক বেশি লক্ষ্যবস্তুতে অভিযান পরিচালনার সুযোগ দিচ্ছে।
তবে এসব প্রযুক্তির অনেকগুলোর কার্যপ্রণালি পুরোপুরি স্বচ্ছ নয়। ভুল শনাক্তকরণ, ভুল হিসাব ও পরিস্থিতি সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরির ঝুঁকি বাড়তে পারে। এর পরিণতিতে অনিচ্ছাকৃতভাবে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার শঙ্কাও রয়েছে। গেইস সতর্ক করেন, এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করা সহজ হয়ে উঠলে অ-রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোও আরও জটিল সামরিক অভিযান পরিচালনায় এ প্রযুক্তির সহায়তা নিতে পারে।
