Logo
Logo
×

Advertisement

দশ দিগন্ত

ভারতে ককরোচ আন্দোলন

আদালতের ‘জেন-জি’ মন্তব্যে নতুন বিতর্ক

আপনারা তো জেন-জি নন, সৌরভ আশুতোষকে দিল্লি হাইকোর্ট

Advertisement

Icon

কলকাতা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

ভারতে ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপির দুই শীর্ষ নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আদালতে তোলা হয়েছে। সাতদিন দিল্লির কুখ্যাত তিহার জেলে রাখার পর বুধবার দিল্লি হাইকোর্টে তাদের শুনানি হয়। এ সময় দিল্লি হাইকোর্টে বিচারপতি সুব্রামনিয়াম প্রসাদ তাদের ‘জেন-জি’ হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বিচারপতির এ ‘জেন-জি’ মন্তব্য নতুন বিতর্ক উসকে দিয়েছে। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত এ দুই ককরোচ নেতার মুক্তির নির্দেশ দেন।

টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, বুধবার শুনানিতে দুই ককরোচ নেতার বয়স জানতে চান বিচারপতি সুব্রামোনিয়াম। এরপরই তিনি এ দুজনকে ‘জেন-জি’ বলতে অস্বীকৃতি জানান। ২৭ বছরের সৌরভ ও ৩২ বছরের আশুতোষের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তাহলে আপনারা জেন-জি নন। জেন-জি আসলে কি?’ এর আগে দিল্লি হাইকোর্টের এ বিচারপতি জানেছেন-১৯৯৭ সালের পর যাদের জন্ম, কেবল তারাই জেন-জি।

আদালতের এমন মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। টুইটারে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি ভার্টিক্যাল ছবি পোস্ট করে লিখেন, ‘এই একমাত্র ব্যক্তি যিনি জেন-জি হিসাবে যোগ্য।’

এদিন বিচারপতি সুব্রামোনিয়াম বন্ড ভঙ্গ করার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। দুই ককরোচ নেতার উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন রাখেন, ১০ অক্টোবর শান্তি বজায় রাখার মুচলেকা দেওয়ার পর ১১ অক্টোবর তা লঙ্ঘনের অভিযোগ থাকলে আদালতের কীভাবে বিষয়টি দেখা উচিত? আদালত বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশের বিরুদ্ধে আপিলের বিকল্প পথের কথাও উল্লেখ করে। পরে সৌরভ ও আশুতোষ তাদের হেফাজত-সংক্রান্ত আবেদন প্রত্যাহারের অনুরোধ জানালে আদালত তা মঞ্জুর করেন। বুধবার দিল্লির এক বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাদের মুক্তির নির্দেশ দেন। ফলে তাদের কারাবাসের অবসান ঘটতে চলেছে। বুধবার সন্ধ্যায় সৌরভ ও আশুতোষের মুক্তির খবর আসে। এদিন শুনানির সময় বিচারপতি সুব্রামোনিয়াম প্রসাদ তাদের আইনজীবীকে প্রথমে বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতের সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করতে বলেন। পরে প্রয়োজন হলে উচ্চতর আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেন। এরপর দুই নেতা হাইকোর্টে দায়ের করা আবেদন প্রত্যাহার করেন। এ অবস্থায় বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাদের মুক্তির নির্দেশ দেন। এদিকে অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নেহা বোরাও শান্তিভঙ্গের আশঙ্কায় মুচলেকা দেওয়ার নির্দেশসংক্রান্ত নোটিশকে চ্যালেঞ্জ করেছেন। তার অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ ভিন্নমত দমনে প্রতিরোধমূলক ক্ষমতার অপব্যবহার করা হচ্ছে। ঘটনাটি ঘিরে মূল বিতর্ক হলো, সরকারের সমালোচনা বা প্রতিবাদকে জনশৃঙ্খলার অজুহাতে কতটা নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

সমালোচকদের মতে, শান্তিপূর্ণ সমাবেশকে সহিংসতার সমতুল্য বিবেচনা করা হলে নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। অন্যদিকে, প্রশাসনের অবস্থান হলো, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং মুচলেকার শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ মোকাবিলায় ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকার আটক তাই শুধু তাঁদের মুক্তির প্রশ্ন নয়, বরং ভারতে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ, ব্যক্তিস্বাধীনতা এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সীমা নিয়েও বৃহত্তর বিতর্ক তৈরি করেছে।

ককরোচ নেতা সৌরভ ও আশুতোষের গ্রেপ্তারকে কেন্দ করে দেশটিতে ব্যক্তিস্বাধীনতা, গণতান্ত্রিক অধিকার ও পুলিশের ক্ষমতা প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শান্তিপূর্ণ সমাবেশ কখন জনশৃঙ্খলার জন্য হুমকি হয়ে ওঠে, তা নির্ধারণে রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের ব্যাপক ক্ষমতার বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে। এ নিয়ে ভারতের বিভিন্ন মহলে অসন্তোষ রয়েছে; বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে।

গত ১৩ অক্টোবর দিল্লির যন্তর মন্তরে ভারতের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে গ্রেফতার হন সিজেপির এ দুই শীর্ষ নেতা। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা নিরাপত্তাব্যবস্থা ভেঙে সেখানে প্রবেশ করেছিলেন। তবে তাদের সমর্থকদের দাবি, তারা কোনো সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না; বক্তব্য ও স্লোগানের মাধ্যমে নিজেদের দাবি তুলে ধরছিলেন। ভারতের সংবিধানে শান্তিপূর্ণভাবে সমবেত হওয়া ও মতপ্রকাশের অধিকার স্বীকৃত। এ অবস্থায় সহিংসতার অভিযোগ ছাড়াই শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের কারণে কাউকে দীর্ঘ সময় আটক রাখা কতটা যুক্তিসঙ্গত, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

ভারতে ককরোচ আন্দোলন আদালতের ‘জেন-জি’ মন্তব্যে নতুন বিতর্ক

আদালতের ‘জেন-জি’ মন্তব্যে নতুন বিতর্ক

দিল্লিতে ১৫০ বছর পুরোনো মসজিদ উচ্ছেদে নোটিশ

দিল্লিতে ১৫০ বছর পুরোনো মসজিদ উচ্ছেদে নোটিশ

জাতিসংঘের সতর্কবার্তা যুদ্ধে মানুষের সিদ্ধান্তকে ছাপিয়ে যাচ্ছে এআই

যুদ্ধে মানুষের সিদ্ধান্তকে ছাপিয়ে যাচ্ছে এআই

নতুন বিক্ষোভের প্রস্তুতি ফ্রান্সজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার

ফ্রান্সজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম