সিএনএনের বিশ্লেষণ
ট্রাম্প সমঝোতা চাইলেও পুতিন চান জয়
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে তার ঘোষিত যুদ্ধলক্ষ্যগুলো থেকে সরে আসার ব্যাপারে খুব একটা আগ্রহী বলে মনে হয় না। রাশিয়ার বা ইউক্রেনের মানুষের জীবনের খাতিরে বা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে আরও কয়েক বিলিয়ন ডলার যুক্ত করার লোভেও তিনি এটা করতে আগ্রহী নন।
বৃহস্পতিবার সিএনএনের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। এতে বলা হয়, এটি একটি মৌলিক ভুল বোঝাবুঝি, যা যুদ্ধ থামানোর জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের নিষ্ফল প্রচেষ্টার মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেন্ট পিটার্সবার্গে ট্রাম্পের ব্যবসায়িক বন্ধু থেকে প্রধান মধ্যস্থতাকারী হয়ে ওঠা স্টিভ উইটকফ ও স্বয়ং পুতিনের মধ্যকার সাম্প্রতিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এ ভুল বোঝাবুঝিটি আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। পুতিন টেবিলে বসে উইটকফকে জানান, আগের দিন নরওয়েতে অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলোর ফলাফল সম্পর্কে তিনি ‘কৌতূহলী’। ওই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও ন্যাটোর কর্মকর্তারা ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে মিলিত হয়ে শান্তির নতুন সম্ভাব্য প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেছিলেন; যার মধ্যে মস্কোর জন্য বিভিন্ন অর্থনৈতিক প্রণোদনার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত ছিল। পরে ক্রেমলিনের একজন শীর্ষ সহযোগী নিশ্চিত করেন, ট্রাম্পের দূত রুশ নেতাকে ওই আলোচনার বিষয়ে অবহিত করেছেন। তবে তিনি স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতেই যোগ করেন, ‘সত্যি বলতে, ইউক্রেন সংকট সমাধানের ক্ষেত্রে এগুলোর মধ্যে কার্যকর বা মূল্যবান তেমন কিছুই ছিল না।’ ক্রেমলিনের কাছ থেকে এমন প্রতিক্রিয়া ছিল সম্পূর্ণ প্রত্যাশিত। তারা তাদের কঠোর অবস্থান থেকে এক চুলও নড়তে নারাজ- যার মধ্যে রয়েছে পূর্ব ইউক্রেনের পুরো দোনবাস অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া এবং কিয়েভের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর নিজেদের প্রভাব বজায় রাখা। তবুও, হোয়াইট হাউজ হয়তো আন্তরিকভাবেই আশা করেছিল যে, ক্রেমলিন সমঝোতার পথে নমনীয় হবে। গত সপ্তাহে ট্রাম্প যখন রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেন, যা ছিল মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম কমানোর একটি রাজনৈতিক পদক্ষেপ। তবে একই সঙ্গে মস্কোর জন্য এটি ছিল এক বিশাল অর্থনৈতিক সুবিধা।
