Logo
Logo
×

Advertisement

দশ দিগন্ত

নীরবে সেনা সরাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

Advertisement

Icon

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি থেকে নীরবে সেনা সরাতে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সে সঙ্গে অঞ্চলটির কয়েকটি কূটনৈতিক মিশন থেকে কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ওয়াশিংটন। ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর কথা বিবেচনা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ পরিস্থিতিতে সেনা ও কূটনৈতিক কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

এনবিসি নিউজের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার রুশ গণমাধ্যম আরটি এ খবর জানায়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের ওপর প্রথম দফার হামলার শুরুর আগে পেন্টাগন ও পররাষ্ট্র দপ্তর একই ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছিল।

এনবিসির প্রতিবেদনে দুই মার্কিন কর্মকর্তা এবং এ বিষয়ে অবগত আরও দুই ব্যক্তির বরাত দিয়ে জানানো হয়, জর্ডান, কাতার ও কুয়েতে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদেরও অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে সীমিতসংখ্যক সেনা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে ওয়াশিংটনের। বিশেষ করে আকাশ প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সদস্যরা সেখানে থাকবেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালানোর আগে সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ ঘাঁটিগুলো থেকে বিপুলসংখ্যক সেনা সরিয়ে নেয় পেন্টাগন। ইরানের সম্ভাব্য পালটা হামলা থেকে তাদের সুরক্ষিত রাখতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ওই সময় হাজারো মার্কিন সেনা উপসাগরীয় অঞ্চলের বেসামরিক হোটেল ও দপ্তর ভবনে আশ্রয় নেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে তেহরান অভিযোগ করেছিল, উপসাগরীয় অঞ্চলের বাসিন্দাদের ‘মানবঢাল’ হিসাবে ব্যবহার করছে ওয়াশিংটন। মার্কিন সেনাদের সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র টিমোথি হকিন্স। তবে তিনি বলেন, সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি ও সক্ষমতা বাড়াতে মার্কিন সেনাদের নিয়মিতভাবে বিভিন্ন স্থানে পুনর্বিন্যাস করা হয়। মার্কিন সেনা ও স্বার্থ রক্ষায় তারা প্রস্তুত রয়েছেন।

এদিকে সৌদি আরব থেকেও অপ্রয়োজনীয় কূটনৈতিক কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। ইয়েমেনের হুথি আন্দোলনকারীদের হামলা বেড়ে যাওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দপ্তরটি। এসব হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে বেসামরিক বিমানবন্দর ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রয়েছে। রয়টার্স জানায়, উপসাগরীয় অঞ্চলের আরও কয়েকটি দেশ থেকে কূটনৈতিক কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে ওয়াশিংটন। এ বিষয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে সংবাদ প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থাটি। তবে পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট আরও কর্মী সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোকে ‘ভুল’ বলে বর্ণনা করেছেন।

এ পরিস্থিতিতে ইরানে নতুন করে হামলার বিভিন্ন পরিকল্পনা মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা ট্রাম্পের সামনে তুলে ধরেছেন বলে খবর প্রকাশ হয়েছে। এনবিসি নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব পরিকল্পনায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা, ভূগর্ভস্থ স্থাপনা ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দ্বীপে হামলার বিষয় রয়েছে। এসব দ্বীপের মধ্যে রয়েছে খার্গ দ্বীপ ও কেশম দ্বীপ। খার্গ ইরানের তেল রপ্তানির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। আর কেশম দ্বীপটি হরমুজ প্রণালিতে অবস্থিত, যা আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মার্কিন প্রশাসনের কয়েকজন উপদেষ্টা ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে আবারও সামরিক অভিযান শুরুর পক্ষে মত দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধমন্ত্রী পিট হেগসেথ। তবে অন্য কয়েকজন উপদেষ্টা সতর্ক করেছেন, সুস্পষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ না করে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করা উচিত হবে না। গত সোমবার আকস্মিক সফরে ইসরাইল যান হেগসেথ। সেখানে তিনি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

নীরবে সেনা সরাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

নীরবে সেনা সরাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

সিএনএনের বিশ্লেষণ ট্রাম্প সমঝোতা চাইলেও পুতিন চান জয়

ট্রাম্প সমঝোতা চাইলেও পুতিন চান জয়

পশ্চিমতীরে মার্কিন সাংবাদিকের ওপর হামলা ফিলিস্তিনিদের সহায়তায় যেভাবে রক্ষা হেইদির

ফিলিস্তিনিদের সহায়তায় যেভাবে রক্ষা হেইদির

সাত দিন পর তিহার থেকে মুক্ত সৌরভ-আশুতোষ

সাত দিন পর তিহার থেকে মুক্ত সৌরভ-আশুতোষ

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম