পশ্চিমবঙ্গে খ্রিষ্টানদের ওপর হামলা
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
পশ্চিমবঙ্গে সংখ্যালঘু খ্রিষ্টানদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বজরং দলের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী পরিবারের নাবালিকা মেয়েদের ধর্ষণ ও অপহরণের হুমকি দেওয়া হয় ও অভিযোগকারী নারীকে প্রায় বিবস্ত্র করে ফেলা হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। ওই নারী ভারতীয় গণমাধ্যম স্ক্রলকে এসব অভিযোগ করেন।
স্ক্রল-এর দেখা একটি প্রাথমিক তথ্য বিবরণী (এফআইআর) অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার একটি গ্রামে তিনটি খ্রিষ্টান পরিবারকে তিন দিন ধরে হেনস্তা ও ভয় দেখানো হয়েছে। বজরং দলের সদস্যরা তাদের জোর করে হিন্দু আচার-অনুষ্ঠান পালন করতে বাধ্য করেছেন। পরিবারগুলোর সদস্যরা স্ক্রলকে জানান, তাদের নাবালিকা মেয়েদের ধর্ষণ ও অপহরণের হুমকি দেওয়া হয়েছে; এক নারীকে প্রায় বিবস্ত্র করে ফেলা হয়েছিল। হামলাকারীরা তাদের জীবন্ত পুড়িয়ে মারার হুমকি দেয় এবং বারবার খ্রিষ্টধর্ম ত্যাগ করার দাবি জানায়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। গত ১৮ অক্টোবর বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে ৪০ বছর বয়সি লক্ষ্মী মণ্ডল যখন বাড়ির কাজ করছিলেন, তখন অন্তত তিন নারীসহ ১০ জনেরও বেশি মানুষের একটি দল পাটলাপুর গ্রামে তার বাড়িতে জোর করে ঢুকে পড়ে। ওই দলটিকে তিনি পার্শ্ববর্তী গ্রামের বাসিন্দা এবং হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বজরং দলের সঙ্গে যুক্ত বলে শনাক্ত করেছেন। লক্ষ্মী মণ্ডল স্ক্রলকে বলেন, ‘তারা আমাকে টেনেহিঁচড়ে বাইরে নিয়ে যায়। আমাকে চড় মারা হয় এবং মাথায় ও কানের নিচে আঘাত করা হয়, ফলে আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি।’ জ্ঞান ফেরার পর লক্ষ্মী মণ্ডল বুঝতে পারেন, হামলাকারীরা তাকে বিবস্ত্র করার চেষ্টা করছে। তিনি জানান, ‘হিন্দু শুদ্ধিকরণ আচার’-এর অংশ হিসাবে তারা তাকে জোর করে স্নান করতেও বাধ্য করে। আক্রমণকারীরা তার ১৬ বছর বয়সি মেয়েকে অপহরণ ও ধর্ষণের হুমকিও দেয়। লক্ষ্মী মণ্ডল বলেন, ‘তারা বলেছিল, আমি খ্রিষ্টধর্মে বিশ্বাস রাখতে পারি না এবং এই হিন্দু অধ্যুষিত এলাকায় কোনো খ্রিষ্টান থাকতে পারবে না।’ এ হামলার দুদিন পর চন্দ্রকোনা থানায় ১৩ জনের বিরুদ্ধে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়। স্ক্রল-এর দেখা সেই এফআইআর অনুযায়ী, তাদের বিরুদ্ধে অনধিকার প্রবেশ, হত্যার চেষ্টা, পোশাক খোলার উদ্দেশ্যে আক্রমণ বা বলপ্রয়োগ, চুরি, অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন এবং নারীর শ্লীলতাহানি ঘটানোর মতো অভিযোগ আনা হয়েছে।
গরুর মাংস খাই বলায় উপহাস, প্রাণ দিল দশম শ্রেণির ছাত্র : কলকাতা প্রতিনিধি জানান, ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের কোয়েম্বাত্তুরে গরুর মাংস খাওয়ার কথা জানানোয় শিক্ষক ও সহপাঠীদের উপহাসের শিকার হওয়ার পর আত্মহত্যা করেছে দশম শ্রেণির এক ছাত্র। ১৬ বছর বয়সি ওই ছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও শ্রেণিশিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, শ্রেণিকক্ষে অপমানের পরও তাকে মানসিকভাবে হেনস্তা করা হয়েছিল।
