দেশে দেশে বিক্ষোভের ঢেউ
ইউরোপ, এশিয়া, আমেরিকা, আফ্রিকা-সবখানে অসন্তোষ
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
পৃথিবীটা ভালো নেই! দেশে দেশে ছড়িয়ে পড়েছে বিক্ষোভের ঢেউ। গত দুই মাসে এশিয়া থেকে শুরু করে লাতিন আমেরিকা ও ইউরোপের রাস্তায় নেমেছেন হাজারো মানুষ। তাদের একটি বড় অংশই তরুণ। আন্দোলনকারীদের কারও দাবি জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, কেউ চাইছেন দুর্নীতির বিচার, কেউ ভোটের অধিকার, কোথাও পুলিশি নির্যাতনের জবাবদিহি। এমনকি কয়েকটি দেশে বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। সরকারকে নিতে হয়েছে কঠোর পদক্ষেপ। সবচেয়ে বেশি বিক্ষোভ হচ্ছে ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, বেলজিয়াম, ভারত ও পাকিস্তানে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে হচ্ছে ‘নো কিংস’ বিক্ষোভ। নতুন করে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে ভেনিজুয়েলায়। সেখানে বিরোধী দল মারিয়া করিনা মাচাদোর সমর্থকরা রাস্তায় নেমেছেন। বিক্ষোভ হচ্ছে তিউনিসিয়া ও সার্বিয়ায়ও।
ফ্রান্সে ছাত্র বিক্ষোভ : সেপ্টেম্বরের শেষদিকে স্কুলের দুরবস্থা ও শিক্ষক সংকট নিয়ে ফ্রান্সে সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে তা সরকারবিরোধী দেশব্যাপী আন্দোলনে রূপ নেয়। এর পেছনে ছিল জীবনযাত্রার ব্যয় ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, সরকারি খাতে ব্যয় সংকোচন এবং প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সরকারের প্রতি ক্ষোভ। অক্টোবরের ১ তারিখ প্যারিসের উপকণ্ঠ ও লিঁসহ কয়েকটি শহরে উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। ৬ অক্টোবর শুরু হয় তৃতীয় দফা দেশব্যাপী কর্মসূচি। তাতে স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মিছিল ও অবরোধে যোগ দেয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে প্রায় ২ হাজার ৪০০ জন গ্রেফতার হয়েছেন এবং প্রায় এক হাজার পুলিশ ও জেন্ডার্ম আহত হয়েছেন। আজ আবারও দেশটিতে বিক্ষোভ শুরু হতে পারে। এরই মধ্যে সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
ইতালিতে মিছিল : ইতালির মিলানে জীবনযাত্রার ব্যয় ও অসহনীয় বাড়িভাড়ার প্রতিবাদে তরুণদের মিছিলে পুলিশ দাঙ্গা দমনের কায়দায় হামলা চালায়। সহিংসতার পর মিলানের পরিস্থিতি নিয়ে ইতালিতে বিতর্ক তীব্র হয়েছে। দাঙ্গা পুলিশ এক কিশোরকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে ও লাথি মেরে মিলানের কেন্দ্রীয় চত্বর পিয়াৎসা দেল দুওমো দিয়ে টেনে নিয়ে যাচ্ছিল। এ সময় ছুটে আসা একটি বস্তুর আঘাতে তার ডান চোখের কাছে গভীর ক্ষত হয় এবং জায়গাটি থেঁতলে যায়। ১৭ অক্টোবর বিকালে মিচ্চিকে উত্তর ইতালির এই শহরের মিছিলে যোগ দেন। মিছিলে ছিলেন কয়েকশ মানুষ, বেশির ভাগই তরুণ।
তিউনিসিয়ায় সংঘর্ষ : বিরল অস্থিরতা দেখা দিয়েছে তিউনিসিয়ার রাজধানীতে। পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়েছে। পুলিশ-সংশ্লিষ্ট সাম্প্র্রতিক মৃত্যুর ঘটনায় রাজধানী তিউনিসের পাশাপাশি দক্ষিণের শহর জেবিনিয়ানায়ও সংঘর্ষ হয়। দেশটিতে এখন গভীর অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংকট চলছে। বেশ কয়েকটি শহরের বিক্ষোভ সেই সংকটের সঙ্গেই মিলে গেছে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর উপকণ্ঠ এত্তাধামেনে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে। মাদক বিক্রির সন্দেহে আটক এক ব্যক্তির মৃত্যুর পর সেখানে বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীরা সড়ক অবরোধ করেন, টায়ারে আগুন দেন এবং পুলিশের দিকে পাথর ছোড়েন।
ভেনিজুয়েলায় নির্বাচনের জন্য বিক্ষোভ : ভেনিজুয়েলার বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে অবাধ নির্বাচন ও অন্যান্য রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন। প্রায় দুই বছরের মধ্যে বিরোধী পক্ষের এটিই প্রথম দেশব্যাপী বিক্ষোভ। বৃহস্পতিবার এ বিক্ষোভ হয়। তাদের তিন দাবি ছিল- ২০২৭ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময়সূচি, মারিয়া করিনা মাচাদোর নিরাপদ প্রত্যাবর্তন এবং রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি। দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে জানুয়ারিতে মার্কিন বাহিনী সামরিক অভিযানে ধরে নিয়ে গেছে। তার উত্তরসূরি বাছাইয়ের নির্বাচন কবে হবে, তার কোনো তারিখ ঠিক হয়নি।
সার্বিয়ায় ছাত্রদের সমাবেশ : সার্বিয়ায় আগামী ২৫ অক্টোবর ভোটের আগে রাজধানী বেলগ্রেডে ছাত্রদের নেতৃত্বে বিশাল সমাবেশ হয়েছে। দেশটির বিরোধী ছাত্র আন্দোলন স্টুডেন্ট লিস্ট দীর্ঘদিনের নেতা আলেক্সান্দার ভুচিচের দলকে ক্ষমতা থেকে সরাতে চায়। ২২ অক্টোবর বেলগ্রেডের কেন্দ্রে সার্বিয়ার বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রায় দেড় লাখ সমর্থক সমাবেশ করেন। তারা এ সপ্তাহান্তের সংসদ নির্বাচনে ভুচিচের দলকে হটাতে চান। এতে ছাত্রদের সমর্থিত প্রার্থীরা আছেন। রোববারের ভোটে তারা ভুচিচের ডানপন্থি লোকরঞ্জনবাদী সার্বিয়ান প্রোগ্রেসিভ পার্টির (এসএনএস) ১৪ বছরের বেশি শাসনের অবসান চান।
ভারতে তরুণদের আন্দোলন : ১০ অক্টোবর শনিবার ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে তরুণদের নেতৃত্বে বড় বিক্ষোভের ডাক ছিল। এর আগে দিল্লির কেন্দ্রস্থলে হাজার হাজার পুলিশ ও আধাসামরিক সদস্য মোতায়েন করা হয়। রাজধানীর ভেতরে ও আশপাশে যানবাহন চলাচলও সীমিত করা হয়। আন্দোলনের নেতৃত্বে আছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে তাদের অভিযোগ, এ থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল বিজেপির সুবিধা হচ্ছে।
পাকিস্তানে প্রতিবাদে সংঘর্ষ : গত ১১ অক্টোবর ইসলামাবাদ খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের নিয়ন্ত্রণ নেয়। জেলবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) ২০১৩ সাল থেকে প্রদেশটি শাসন করছিলেন। এটিই ছিল দলটির পরিচালিত একমাত্র প্রাদেশিক সরকার।
এ নিয়ে দেশটিতে সরকারিবিরোধী বিক্ষোভ করছেন পিটিআই সমর্থকরা।
