ট্রাম্প প্রশাসনের নজিরবিহীন বর্ণবাদ
ইলহান ওমরের নাম নিয়ে প্রশ্ন কেন
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ডেমোক্র্যাটিক প্রতিনিধি ইলহান ওমরকে মার্কিন কংগ্রেস থেকে পদত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছেন। মিনেসোটার এ রাজনীতিকের একটি ভিন্ন নাম আদালতের নথিতে উঠে আসার পর, ট্রাম্প তার বিরুদ্ধে পরিচয় জালিয়াতির অভিযোগ নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছেন। সোমালি বংশোদ্ভুত ইলহান ফিলিস্তিনের সমর্থক ও ইসরাইলের কঠোর সমালোচক।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বুধবার বিচার বিভাগের দাখিল করা নথিতে ওমরকে ‘ইলহান নূর সাঈদ এলমি, ওরফে ইলহান আবদুল্লাহি ওমর’ হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রশাসনের দাখিল করা এ নথিতে ওমর কোনো জালিয়াতি করেছেন কি-না, তা প্রমাণিত হয়নি। ‘ইলহান ওমর’ তার প্রকৃত নাম নয়-এমন অভিযোগের জবাবে এই আইনপ্রণেতা ‘এক্স’-এ লিখেন, ‘বিষয়টি একদম পরিষ্কার করে বলা যাক। আমার নাম সবসময়ই ইলহান ওমর ছিল।’ ওমরের অভিবাসন ইতিহাস নিয়ে একটি ফেডারেল তদন্ত ও ১২ অক্টোবর ওয়াশিংটন ডিসিতে তার বাড়িতে তল্লাশির ঘটনার পরপরই এ বিতর্কের সৃষ্টি হয়। নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে ওমর জানান, তিনি ওই বাড়ি থেকে অন্যত্র চলে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন।
সম্প্রতি এক চলমান ফৌজদারি তদন্তের অংশ হিসাবে সার্চ ওয়ারেন্ট নিয়ে ফেডারেল এজেন্টরা ওয়াশিংটন ডিসিতে ওমরের বাসভবনে তল্লাশি চালান। জানা গেছে, বিষয়টি ১৯৯৫ সালে ওমরের পরিবার যখন সোমালিয়া থেকে পালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসে, (তখন তিনি শিশু ছিলেন) সে সময়ের অভিবাসন সংক্রান্ত নথিপত্রে ওমর বা তার প্রয়াত বাবার দেওয়া ভুল তথ্যের অভিযোগের সঙ্গে সম্পর্কিত। ওমর কোনো ধরনের অনিয়মের কথা অস্বীকার করেছেন এবং এ তল্লাশিকে রাজনৈতিক ভয় দেখানোর কৌশল হিসাবে অভিহিত করেছেন। নথিপত্র প্রকাশের আবেদনের জবাব দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত সময় চেয়ে বিচার বিভাগ আদালতে একটি আবেদন জানায়। সেখানে এই কংগ্রেস সদস্যকে ‘ইলহান নূর সাঈদ এলমি, যিনি ইলহান আবদুল্লাহি ওমর নামেও পরিচিত’ হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
নাম নিয়ে এই বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ওমরের ওপর তার আক্রমণ আরও তীব্র করেছেন এবং তার পদত্যাগ দাবি করেছেন। আদালতের নথিতে উল্লিখিত অন্য নামটিকে তিনি জালিয়াতির প্রমাণ হিসাবে তুলে ধরেছেন; যদিও ওই নথিতে এমন কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি। ওমরের এক মুখপাত্র আল জাজিরাকে দেওয়া বিবৃতিতে বলেন, ‘এই কংগ্রেসওম্যানের নাম সবসময়ই ‘ইলহান ওমর’ ছিল। এর বাইরে অন্য কোনো দাবি পুরোপুরি মিথ্যা।’ এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে ওমর এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বিচার বিভাগের মাধ্যমে ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ছড়ানোর অভিযোগ আনেন।
মুসলিম মার্কিন প্রার্থীরা নামের কারণে আক্রমণের শিকার
এক সাক্ষাৎকারে ওমর যুক্তি দেন, এসব আক্রমণের উদ্দেশ্য হলো তাকে কংগ্রেস থেকে সরিয়ে দেওয়া। তিনি বলেন, তার সমালোচকরা মনে করেন, তার মতো পটভূমি ও বিশ্বাসের কোনো ব্যক্তির ‘কংগ্রেসে থাকা উচিত নয়’। ওমরের নাম নিয়ে এ প্রশ্ন তোলার ঘটনাটি মুসলিম মার্কিন রাজনীতিবিদদের ওপর চলমান আক্রমণের একটি বৃহত্তর ধারার অংশ। এ ধারার শিকার হয়েছেন মিশিগানে মার্কিন সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক দলের প্রার্থী আব্দুল এল-সায়েদও। বৃহস্পতিবার আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মিশিগানের এক ভোটার প্রশ্ন তোলেন যে, এল-সায়েদ কেন তার ‘আসল নাম’ ব্যবহার করেন না-সম্ভবত তিনি তার পুরো নামের দিকে ইঙ্গিত করছিলেন।
