সবার মাথার ওপর শুল্কের খড়্গ রেখে রুশ তেল কিনছে যুক্তরাষ্ট্র
তিনটি ডিজেলের ট্যাংকার নিউইয়র্ক বন্দরের পথে
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বিশ্বের যেসব দেশ রাশিয়া থেকে জ্বালানি কিনছে, তাদের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এবার নিজেরাই রাশিয়ার তেল কিনছে। সম্প্রতি রাশিয়ার সঙ্গে করা চুক্তির ভিত্তিতে তিনটি ডিজেলবাহী ট্যাংকারের প্রথম চালানটি মার্কিন বন্দরের উদ্দেশে রওয়ানা করেছে।
শনিবার রুশ গণমাধ্যম আরটি প্রদিবেদনে বলা হয়, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট নিরসনের লক্ষ্যে ওয়াশিংটনের সঙ্গে হওয়া চুক্তির আওতায় প্রথম চালান পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক। তিনি জানান, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে হওয়া একটি চুক্তির আওতায় রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলবাহী তিনটি ট্যাংকার পাঠিয়েছে।
নোভাক শুক্রবার জানান, জাহাজগুলো ইতোমধ্যে আটলান্টিক মহাসাগরের পূর্ব উপকূলের দিকে যাত্রা করেছে। তিনি আরও বলেন, এ অতিরিক্ত জ্বালানি সরবরাহের বড় একটি অংশ আসতে পারে রাশিয়ার জ্বালানি জায়ান্ট ‘রোসনেফট’ থেকে। বিশ্ববাজারে ডিজেলের সরবরাহ বাড়ানোর বিষয়ে আগে যে চুক্তি হয়েছিল, তার অংশ হিসাবেই রাশিয়া বিশ্ববাজার ও যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের অতিরিক্ত সরবরাহ নিশ্চিত করবে।
মস্কো ডিজেল রপ্তানির ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ শিথিল করেছে। ফলে রুশ কোম্পানিগুলো অক্টোবর মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে ৫ লাখ টন পর্যন্ত ডিজেল পাঠাতে পারবে। পুতিনের অর্থনৈতিক দূত কিরিল দিমিত্রিভের নেতৃত্বাধীন ‘রাশিয়ান ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড’-এর উল্লেখযোগ্য সহায়তায় এ চালানগুলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ দিনের শুরুতে জানান, নিয়মিতভাবে জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত থাকবে। তিনি নিশ্চিত করেন, প্রথম ট্যাংকারটি ক্রেতাদের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছে, তবে জাহাজটির নাম উল্লেখ করেননি।
সামুদ্রিক ট্র্যাকিং সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ট্যাংকারগুলোর মধ্যে একটি হলো মাল্টার পতাকাবাহী জাহাজ ‘আজিওই ফানেসদেস’, যা প্রায় ৪০ হাজার টন ডিজেল বহন করছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাহাজটি রাশিয়ার বাল্টিক বন্দর প্রিমোরস্ক থেকে নিউইয়র্কের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছে; ৭ নভেম্বর সেখানে পৌঁছানোর প্রাথমিক সম্ভাবনা রয়েছে। ‘ট্যাংকারট্র্যাকার্স’-এর তথ্যমতে, মোট তিনটি জাহাজ রাশিয়ার টার্মিনাল থেকে ডিজেল বোঝাই করেছে এবং গন্তব্য হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রের নাম ঘোষণা করেছে। তবে, জাহাজগুলোর সুনির্দিষ্ট পরিচয় এবং সেগুলো কোথায় খালাস করা হবে, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এর আগে ৯ অক্টোবর পুতিন ও ট্রাম্পের মধ্যে টেলিফোনে আলাপ হয়। এরপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, রাশিয়া অবিলম্বে ৩ লাখ টনেরও বেশি ডিজেল সরবরাহ করবে। এরপর নভেম্বরে আরও ৫ লাখ টন এবং পরবর্তীতে আরও ১০ লাখ টন ডিজেল আসবে। এছাড়া, পরিশোধন সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে ভবিষ্যতে আরও চালান আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওয়াশিংটন রুশ ডিজেল আমদানির ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে, যা ২০২২ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে আরোপ করা বিধিনিষেধগুলোকে উলটে দেয়।
আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির দাম কমানোর জন্য ট্রাম্পের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে এ সমঝোতাটি এলো। ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ওপর বিধিনিষেধের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। ফলে সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম গ্যালনপ্রতি ৬ দশমিক ৫০ ডলার ছাড়িয়ে যায়; এমনকি ক্যালিফোর্নিয়ার কিছু অঞ্চলে তা ৮ ডলারও অতিক্রম করে।
রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল কেনে- এমন দেশগুলোর বিরুদ্ধে এরইমধ্যে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশেষ করে চীন ও ভারতের বিরুদ্ধে মার্কিন পদক্ষেপ স্পষ্ট। নতুন একটি আইনে এ দুই দেশের ওপর শতভাগ শুল্কারোপের হুমকির খড়্গ রয়েছে। ঐতিহাসিকভাবে রাশিয়া বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ডিজেল রপ্তানিকারক দেশ (যুক্তরাষ্ট্রের পরই তাদের অবস্থান), যা বৈশ্বিক রপ্তানির প্রায় ১০ শতাংশ পূরণ করে।
