Logo
Logo
×

Advertisement

দশ দিগন্ত

আল জাজিরার বিশ্লেষণ

ইসরাইলে উগ্রপন্থার দিকেই তরুণরা

ক্ষমতায় থাকতে কট্টর ডানদের সমর্থন নেতানিয়াহুর * ফিলিস্তিনিদের বিষয়ে উসকানিমূলক বক্তব্যও বাড়ছে

Advertisement

Icon

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

ইসরাইলে চার বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে পার্লামেন্ট (নেসেট) নির্বাচন। এ বছর প্রথমবারের মতো ভোট দিতে যাচ্ছেন পাঁচ লাখেরও বেশি তরুণ। তবে তাদের বড় একটি অংশের ঝোঁক ডানপন্থি ও কট্টর ডানপন্থি রাজনীতির দিকে। এক জরিপে দেখা গেছে, প্রথমবার ভোট দিতে যাওয়া ইহুদি তরুণদের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ নিজেদের ডানপন্থি বা মধ্য-ডানপন্থি হিসাবে পরিচয় দেন। ইসরাইলি সমাজে দীর্ঘদিন ধরে ডানপন্থার দিকে যে ঝোঁক দেখা যাচ্ছে, তরুণদের মধ্যে তা আরও স্পষ্ট।

শনিবার আল জাজিরার প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বের অনেক দেশে তরুণদের মধ্যে বামপন্থি রাজনীতির প্রতি আগ্রহ বাড়লেও ইসরাইলে দেখা যাচ্ছে উলটো প্রবণতা। দেশটির সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর এক জরিপে প্রথমবার ভোট দিতে যাওয়া ইহুদি তরুণদের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ নিজেদের ডানপন্থি বা মধ্য-ডানপন্থি বলে উল্লেখ করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামলার পর নিরাপত্তা নিয়ে ভয় ও উদ্বেগ এ প্রবণতাকে আরও তীব্র করেছে। পাশাপাশি কট্টর ডান নেতাদের প্রভাব ও সামাজিক মাধ্যমে তাদের সক্রিয় উপস্থিতিও তরুণদের মনোভাব গঠনে ভূমিকা রাখছে। আগামী মঙ্গলবারের (২৭ অক্টোবর) এ নির্বাচন ইসরাইলের রাজনীতিতে গুরত্বপূর্ণ মোড় নিতে পারে। নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং তার ডানপন্থি নীতির পরিণতিও নির্ধারিত হতে পারে। এ নির্বাচনে ভোটার তালিকায় যুক্ত হয়েছেন ১৮ থেকে ২২ বছর বয়সী পাঁচ লাখের বেশি নতুন ভোটার। জরিপ অনুযায়ী, তাদের ৮০ শতাংশ ভোট দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। তবে তরুণদের রাজনৈতিক সক্রিয়তা ও জনপরিসরে অংশগ্রহণ তুলনামূলকভাবে সীমিত। ইসরাইল ডেমোক্রেসি ইনস্টিটিউটের এক জরিপে দেখা গেছে, ইহুদি তরুণদের অধিকাংশই মনে করেন, ভোটের মাধ্যমে ইসরাইলের বাস্তবতা বদলানো এবং ভবিষ্যৎ নির্ধারণে ভূমিকা রাখা সম্ভব। কিন্তু তারা কেমন ভবিষ্যৎ চান, সেই প্রশ্নই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ইহুদি তরুণদের এ প্রবণতা বোঝাতে এখন ‘জেনারেশন রাইট’ বা ‘ডানপন্থি প্রজন্ম’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়াও নির্বাচনকে ঘিরে দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি বেশ উত্তপ্ত ও বিভক্ত। সমালোচকরা বলছেন, ক্ষমতায় টিকে থাকতে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু কট্টর ডানপন্থি রাজনীতিকদের সমর্থন দিয়ে আসছেন। তাদের মতে, জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির ও অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিচের মতো নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ায় তাদের উগ্র রাজনৈতিক অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে। ফলে কট্টর ডানপন্থি নীতিগুলোও ক্রমে মূলধারার রাজনীতিতে জায়গা করে নিচ্ছে। ফিলিস্তিনিদের বিষয়ে উসকানিমূলক বক্তব্য ও বিদ্বেষপূর্ণ মনোভাবও ইসরাইলে ক্রমে বেশি দৃশ্যমান হচ্ছে। সম্প্রতি ইসরাইলি ব্যঙ্গবিদ লিওর শ্লেইন প্রকাশিত এক ভিডিওতে এক তরুণকে বলতে শোনা যায়, তিনি ইসরাইলের আরবদের হত্যা করতে চান। বামপন্থি কর্মী শ্লেইন বিভিন্ন স্কুলে গিয়ে তরুণদের সঙ্গে কথা বলেন। ভিডিওতে শ্লেইন ওই তরুণদের জিজ্ঞাসা করেন, কীভাবে তিনি আরবদের হত্যা করতে চান। উত্তরে তরুণটি বলে, ‘আমাকে একটা ছুরি দিন, আমি তা করব।’ ৭ অক্টোবরের হামলা তার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিয়েছে কি-না, জানতে চান শ্লেইন। জবাবে ওই তরুণ বলে, ‘আমি সব সময়ই বর্ণবাদী ছিলাম।’ তিনি আরও বলেন, ইসরাইলে আরবদের বসবাস করতে দেওয়া উচিত নয়। ভিডিওতে তরুণটির মুখ আংশিকভাবে ঢাকা ছিল। পরিচয় আড়াল করার চেষ্টা সত্ত্বেও জনসমালোচনার মুখে শ্লেইন ভিডিওটি সরিয়ে নেন। অন্য এক জনসভায় গাজায় নিরপরাধ মানুষ আছেন কি-না, সেই প্রশ্ন তোলেন শ্লেইন। ইসরাইল গাজায় গণহত্যা চালাচ্ছে কি-না, জানতে চাইলে তিনি তা অস্বীকার করেন। তখন এক ছাত্রী পালটা প্রশ্ন করে, ‘আপনি কি মনে করেন, এটা করা উচিত?’ ছাত্রীর এমন মন্তব্যে শ্লেইনকে অসন্তুষ্ট দেখালেও সে নিজের অবস্থান সম্পর্কে তাকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করে।

অন্যদিকে, ইসরাইলের সব তরুণ যে কট্টর ডানপন্থার দিকে ঝুঁকছেন, তা নয়। সম্প্র্রতি তেল আবিবে বামঘেঁষা ডেমোক্র্যাটস পার্টির তরুণ সমর্থকদের এক সভায় ১৮ বছর বয়সি গিলি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, তার মনে হয়, ইসরাইল সমাজ শান্তির ধারণা থেকে সরে এসেছে। ৭ অক্টোবরের হামলার ক্ষত মানুষের মনে গভীর ভয় তৈরি করেছে। ফলে শান্তি অর্জন করা সম্ভব-এমন বিশ্বাস ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। ইসরাইল ডেমোক্র্যাসি ইনস্টিটিউটের জরিপে আরও দেখা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রামের মতো বার্তা আদান-প্রদানের অ্যাপ তরুণদের তথ্য পাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ উৎস। অনেক ক্ষেত্রে তারা নিজেরা খুঁজে রাজনৈতিক তথ্য সংগ্রহ করেন না। বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ফিডে ভেসে আসা রাজনৈতিক বিষয়বস্তু থেকেই তাদের ধারণা তৈরি হয়।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

আল জাজিরার বিশ্লেষণ ইসরাইলে উগ্রপন্থার দিকেই তরুণরা

ইসরাইলে উগ্রপন্থার দিকেই তরুণরা

সবার মাথার ওপর শুল্কের খড়্গ রেখে রুশ তেল কিনছে যুক্তরাষ্ট্র

সবার মাথার ওপর শুল্কের খড়্গ রেখে রুশ তেল কিনছে যুক্তরাষ্ট্র

ট্রাম্প প্রশাসনের নজিরবিহীন বর্ণবাদ ইলহান ওমরের নাম নিয়ে প্রশ্ন কেন

ইলহান ওমরের নাম নিয়ে প্রশ্ন কেন

পাখির দাঁত ডাইনোসরের মতো

পাখির দাঁত ডাইনোসরের মতো

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম