দেশে দেশে কেন ফুঁসে উঠেছে জেন-জিরা
ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার প্রতি অসন্তোষ
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইউরোপের বিভিন্ন দেশে শিক্ষাব্যবস্থার দুরবস্থা, আকাশছোঁয়া বাড়িভাড়া, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, বেকারত্ব ও দুর্নীতির প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছেন তরুণরা। স্পেন, ফ্রান্স, পর্তুগাল, ইতালি ও আলবেনিয়ায় ছড়িয়ে পড়া এসব বিক্ষোভে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন তারা। নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার প্রতি অসন্তোষ থেকেই ফুঁসে উঠেছে জেন-জিরা।
ফ্রান্সে সেপ্টেম্বরের শেষদিকে শুরু হয় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ। দীর্ঘ সময় ক্লাস, শিক্ষকের ঘাটতি, জরাজীর্ণ শ্রেণিকক্ষ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির অস্বচ্ছ পদ্ধতি নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন তারা। পরে এই আন্দোলনে যুক্ত হন জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিতে ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষ। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, কম মজুরি ও পেনশন নিয়ে অসন্তোষও বিক্ষোভকে বিস্তৃত করেছে। ফ্রান্সের অন্যতম বৃহৎ শ্রমিক সংগঠন জেনারেল কনফেডারেশন অব লেবার আন্দোলনকারীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।
অন্যদিকে, বাড়িভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে সেপ্টেম্বর মাসে বিক্ষোভ শুরু হয় স্পেনে। ৮৭ বছর বয়সি মারিকারমেন আবাসকালকে তার বাড়ি থেকে উচ্ছেদ এবং তার বাড়িভাড়া ২৩০ শতাংশ বাড়ানোর ঘটনা আন্দোলনকারীদের ক্ষোভ বাড়িয়ে দেয়। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার দুই সপ্তাহের মধ্যে তার মৃত্যু হয়। বিক্ষোভকারীরা বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ, অসহায় মানুষের উচ্ছেদ বন্ধ এবং স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়েছেন। পর্তুগালেও একই সংকট। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে দেশটিতে বাড়ির দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে-যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের গড় বৃদ্ধির প্রায় দ্বিগুণ। ফলে তরুণদের জন্য বাড়ি কেনা কিংবা ভাড়া নিয়ে বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে। আবাসন ব্যয় কমানোর দাবিতে রাজধানী লিসবনেও শত শত মানুষ বিক্ষোভ করেছেন।
এছাড়া ইতালির মিলান, তুরিন ও বোলোনিয়ায়ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে বিক্ষোভ হয়েছে। মিলানে একপর্যায়ে মুখোশধারী ব্যক্তিরা পুলিশের দিকে পাথর ছোড়েন এবং ব্যারিকেডে আগুন ধরিয়ে দেন। এদিকে, আলবেনিয়ায় প্রধানমন্ত্রী এদি রামার বিরুদ্ধে বিক্ষোভে নামেন তরুণরা। প্রধান কারণ দুর্নীতির অভিযোগ, কর্মসংস্থানের অভাব ও শিক্ষার নিম্নমান। গ্রীষ্মকাল থেকে চলা এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়েছিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের সমর্থনপুষ্ট একটি বিলাসবহুল উপকূলীয় উন্নয়ন প্রকল্পকে ঘিরে। সব মিলিয়ে, ইউরোপের তরুণদের ক্ষোভের কেন্দ্রে রয়েছে সাশ্রয়ী বাসস্থান, মানসম্মত শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং জীবনযাত্রার ব্যয় সামলানোর প্রশ্ন। তাদের দাবি, শুধু আশ্বাস নয়, প্রয়োজন কার্যকর পদক্ষেপ। সরকারগুলো এসব সমস্যার সমাধান কতটা করতে পারে, তার ওপরই নির্ভর করছে চলমান আন্দোলনের ভবিষ্যৎ।
যদিও ফ্রান্সের সরকার শিক্ষক সংকট মোকাবিলায় তিন হাজার বিকল্প শিক্ষক নিয়োগ, স্কুলের সিদ্ধান্ত গ্রহণে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু নিবন্ধন ফি বৃদ্ধির পরিকল্পনা বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে।
