ইসরাইলি নির্বাচন নিয়ে শঙ্কায় ফিলিস্তিনিরা
নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে বিক্ষোভে উত্তাল তেল আবিব
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইসরাইলের আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে গাজার ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগে রয়েছেন ফিলিস্তিনিরা। প্রায় তিন বছর ধরে চলা যুদ্ধে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে উপত্যকার বড় একটি অংশ। প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ৭৫ হাজার মানুষ। বাস্তুচ্যুত লাখো ফিলিস্তিনি এখনো খাবার, পানি ও চিকিৎসার সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। অথচ ইসরাইলের নির্বাচনি প্রচারে গাজার এই মানবিক বিপর্যয় প্রায় উপেক্ষিত। বরং হামাসের শাসনের অবসান ঘটানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রচার চালাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোট। দ্য গার্ডিয়ান।
ইসরাইলের আসন্ন নির্বাচন এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যখন দেশটির ভোটের ফল গাজার মানুষের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। ফিলিস্তিনিরা জানেন, তাদের ভাগ্য অনেকটাই নির্ভর করছে সেই দেশের সিদ্ধান্তের ওপর, যার সামরিক অভিযানে তাদের ভূখণ্ডের বড় অংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। গাজায় বাস্তুচ্যুত প্রায় ১০ লাখ মানুষ চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করছেন। রয়েছে পানির তীব্র সংকট। সেই সঙ্গে যে কোনো সময় ইসরাইলি হামলার আশঙ্কা।
কিন্তু নির্বাচনি প্রচারে এসব সংকট গুরুত্ব পাচ্ছে না। নেতানিয়াহুর কট্টর ডানপন্থি জোট এবং গাদি আইজেনকোটের বিরোধী দল ইয়াশার-দুই পক্ষই মূলত হামাসকে পরাজিত করার লক্ষ্য সামনে রাখছে। ৭ অক্টোবরের হামলা এবং এর ফলে ইসরাইলি সমাজে সৃষ্ট গভীর ক্ষতকে কেন্দ্র করেই তাদের প্রচারের বড় অংশ আবর্তিত হচ্ছে। সীমান্তের ওপারে চলমান মানবিক বিপর্যয় নিয়ে তাদের বক্তব্যে ক্ষেত্রে একেবারেই নেই। রাফাহর ৪৭ বছর বয়সী সামি আবু রুমি বলেন, ‘আমরা আশা করি, এমন একটি সরকার ক্ষমতায় আসবে, যারা হত্যা, বাস্তুচ্যুতি ও আমাদের নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার ব্যাপারে তুলনামূলকভাবে কম আগ্রহী হবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমরা দেখি, ইসরাইলের সরকারগুলোর চিন্তা-ভাবনায় খুব একটা পার্থক্য নেই।’ বেইত লাহিয়ার ৪৫ বছর বয়সী হানিন হামদুনাও বাস্তুচ্যুত হয়ে আল-মাওয়াসিতে আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি না, কেউ সত্যিকার অর্থে গাজার মানুষের জন্য চিন্তা করেন কিংবা তাদের স্বার্থকে গুরুত্ব দেন। নেতানিয়াহু, আইজেনকোট কিংবা অন্য কেউ-যেই ক্ষমতায় আসুন না কেন, গাজায় হামলা চালানো যেন ইসরাইলের নির্বাচনি প্রচারের অংশ হয়ে উঠেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বছরের পর বছর আমরা বলে এসেছি, নতুন সরকার হয়তো আগের সরকারের চেয়ে ভালো হবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দেখা যায়, সেটি আরও খারাপ। হয়তো আগে ১০০টি ট্রাক ত্রাণ ঢুকতে দেওয়া হতো, নতুন সরকার ২০০টি ট্রাক ঢুকতে দেবে। কিন্তু তাতে আমাদের জীবনে সত্যিকারের কোনো পরিবর্তন আসবে না।’
নেতানিয়াহুবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল তেল আবিব : ইসরাইলের সাধারণ নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমেছেন হাজার হাজার বিক্ষোভকারী। শনিবার তেল আবিবে আয়োজিত এই বিক্ষোভকে মূলত নেতানিয়াহুর ওপর এক ধরনের গণভোট বা জনমত যাচাই হিসাবে দেখা হচ্ছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলা ঠেকাতে ব্যর্থতার জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবিতে বিক্ষোভের আয়োজন করে ‘অক্টোবর কাউন্সিল’। ওই হামলার পরই গাজা যুদ্ধ শুরু হয়। হামলায় নিহতদের স্বজন এবং জিম্মিদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে গঠিত এই সংগঠনটি ঘটনার দায় নির্ধারণে স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছে। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভে দেশটির প্রধান চারটি বিরোধী দলের নেতারা অংশ নেন।
তাদের মধ্যে ছিলেন সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট। নির্বাচনে নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার জোটের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হাড্ডাহাড্ডি বলে উল্লেখ করা হচ্ছে। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া জনতা তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। সমাবেশ শুরুর আগে ৬৮ বছর বয়সী হাদাস ফয়ারস্টেইন এএফপিকে বলেন, ‘গত চার বছর ধরে যারা আমাদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তারা ভয়াবহভাবে ব্যর্থ হয়েছেন’। ২০২২ সালের শেষ দিকে নেতানিয়াহুর সরকার ক্ষমতায় আসে। তিনি আরও বলেন, ‘ইসরাইল আগে কখনও এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়নি’।
