ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় বাড়ছেই
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় বেড়ে ৪ হাজার ৭১০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। গত ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত এ হিসাব করেছে পেন্টাগন। ব্যয়ের ৬০ শতাংশের বেশি খরচ হয়েছে বোমা, ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য অস্ত্র-গোলাবারুদে। গত সপ্তাহে মার্কিন কংগ্রেসকে এ তথ্য জানিয়েছে পেন্টাগন। বুধবার নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই তথ্য।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আপাতত বড় ধরনের সামরিক অভিযান আবার শুরু না করলেও যুদ্ধের ব্যয় বেড়েছে। গত মাসে কংগ্রেসের আইনপ্রণেতাদের ব্যয়ের হিসাব জানানোর পর প্রায় ছয় সপ্তাহে আরও ৩৫০ কোটি ডলার খরচ হয়েছে। সশস্ত্র বাহিনীর বিভিন্ন শাখা এবং ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হওয়া অস্ত্রের পেছনে ব্যয়ের বিস্তারিত হিসাবও প্রকাশ করেছে পেন্টাগন। এতে যুদ্ধের আর্থিক চিত্র সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে। বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী ও সেনাবাহিনীর ব্যয়ের হিসাবেও বড় অঙ্কের অর্থের তথ্য উঠে এসেছে। কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান ও বোমারু বিমানের স্কোয়াড্রন পরিচালনায় বিমানবাহিনীর ব্যয় হয়েছে ৭৬০ কোটি ডলার। একাধিক বিমানবাহী রণতরিসহ দুই ডজনের বেশি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনে নৌবাহিনীর খরচ হয়েছে ১৫০ কোটি ডলার। আর ওই অঞ্চলে সেনাবাহিনীর সদস্যদের অবস্থান ও কার্যক্রম বজায় রাখতে ব্যয় হয়েছে ২১০ কোটি ডলার। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধে ৫০ হাজারের বেশি সেনাসদস্য নিয়োজিত রয়েছেন। কংগ্রেসের জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক কমিটিগুলোকে পেন্টাগন এই হিসাব দেওয়ার পর কয়েংকজন কংগ্রেস কর্মকর্তা তা দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের সঙ্গে ভাগ করে নেন। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ২ হাজার ৯০০ কোটি ডলারের অস্ত্র ও গোলাবারুদ ব্যবহার করেছে। এতে গুরত্বপূর্ণ কিছু অস্ত্রের বৈশ্বিক মজুত কমে গেছে। এর মধ্যে রয়েছে প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্র। এছাড়া এশিয়া ও ইউরোপে মোতায়েন মার্কিন সামরিক কমান্ডগুলোর মজুত থেকেও অস্ত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হওয়া কয়েক ডজন যুদ্ধবিমানসহ অন্যান্য অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম প্রতিস্থাপনে পেন্টাগন ব্যয় করেছে ৬১০ কোটি ডলার। ওই অঞ্চলে কয়েক হাজার বিশেষ অভিযান পরিচালনাকারী কমান্ডো সেনাকে পাঠানো ও তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতেও খরচ হয়েছে ৬৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার। এছাড়াও পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ১৮ জন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৮৬০ জনের বেশি।
কংগ্রেসের কর্মকর্তারা মঙ্গলবার বলেন, পেন্টাগনের প্রকাশিত ব্যয়ের হিসাব প্রকৃত খরচের চেয়ে কম হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাদের মতে, এই হিসাবের মধ্যে বেশ কিছু খরচ অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। যুদ্ধের ব্যয় মেটাতে অতিরিক্ত অর্থ চেয়ে ট্রাম্প প্রশাসন যে প্রস্তাব দিয়েছে, তাতে জ্বালানি ও অন্যান্য খাতের জন্য ১৫০ কোটি ডলার চাওয়া হয়েছে। কিন্তু পেন্টাগনের বর্তমান হিসাবের মধ্যে এই অর্থ অন্তর্ভুক্ত নেই বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হওয়া মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো মেরামত বা পুনর্নির্মাণের ব্যয়ও হিসাবের বাইরে রয়েছে। এর মধ্যে বাহরাইনের রাজধানী মানামায় মার্কিন নৌবাহিনীর ঘাঁটিও রয়েছে।
