ইসরাইলে ক্ষমতা বদলের তোড়জোড়
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইসরাইলের রাজনীতিতে ক্ষমতার পালাবদল ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন মেরুকরণ। প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হওয়ায় বিকল্প সরকার গঠনের সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে দেশটিতে। নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরাতে বিরোধী দলগুলো আরব রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে। ইতোমধ্যেই বিরোধী জোট ‘চেঞ্জ ব্লক’-এর সঙ্গে জোট করার ইঙ্গিতও দিয়েছেন আরব ইসরাইলি নেতা আহমাদ তিবি। তবে আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট বা সহযোগিতার প্রশ্নে বিরোধী দলগুলোর মধ্যেই মতভেদ রয়েছে। এদিকে ইসরাইলে আরব দল ও ইহুদিদের সমন্বয়ে সরকার গঠনের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন বামপন্থি কর্মীরা। বুধবার রাতে রাজধানী তেল আবিবে কয়েক’শ কর্মী জড়ো হয়ে এই দাবি জানান। সব মিলিয়ে নেতানিয়াহুর ভবিষ্যৎ এবং ইসরাইলে পরবর্তী সরকার গঠন নিয়ে দেশটির রাজনীতিতে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। মিডল ইস্ট মনিটর, আরব নিউজ, আনাদোলু।
বৃস্পতিবার ৯০ শতাংশের বেশি ভোট গণনা শেষ হলেও কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর ডানপন্থি জোট ৫৪টি আসন, সাবেক সেনাপ্রধান ও ইয়াশার নেতা গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ৪৮টি এবং আরব জোট ১৯টি আসন জিতেছে। তবে সরকার গঠনের জন্য অন্তত ৬১ আসন প্রয়োজন। মঙ্গলবার দেশটিতে পার্লামেন্ট নির্বাচনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
হারেৎজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইহুদিদের নেতৃত্বাধীন আইজেনকোট ব্লক ও আরবদের নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট লিস্ট ও রাআম সমঝোতা করতে পারলে সমন্বিত আসন সংখ্যা দাঁড়াবে ৬৭টিতে। যা সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের তুলনায় বেশি। আইজেনকোট ব্লকের বামপন্থি নেতা ইয়ার গোলান বুধবার আরবদের সঙ্গে সমঝোতার আহ্বান জানিয়েছেন। গোলানের মতে, নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরাতে বিরোধীদের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ এসেছে। এ সুযোগ কাজে লাগাতে হলে আরব ভোটারদের সমর্থনকে রাজনৈতিকভাবে স্বীকৃতি দিতে হবে। এছাড়া আরেকটি নির্বাচন আয়োজন ভুল হবে বলে মন্তব্য করেছেন আইজেনকোট। নতুন সরকার গঠনের ওপরই জোর দেন তিনি। তবে এই ব্লকের অন্য কয়েকজন নেতা আগে থেকেই আরবদের সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনা নাকচ করেছেন। বিরোধী জোটের গুরুত্বপূর্ণ নেতা নাফতালি বেনেট ও আভিগদর লিবারম্যান নির্বাচনের আগে আরব দলগুলোর ওপর নির্ভর করে সরকার গঠনের বিরোধিতা করেছিলেন। আইজেনকোটও আরব দলগুলোকে নিয়ে জোট গঠনের বিষয়ে আগে আপত্তি জানিয়েছিলেন। ফলে তাদের অবস্থান পরিবর্তন হবে কি না, তা এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
এদিকে ইহুদি ও আরব দলগুলোর সমন্বয়ে সরকার গঠনের দাবিতে জেরুজালেম, তেল আবিব ও হাইফায় বিক্ষোভ করেছেন প্রায় ৩০০ মানুষ। জেরুজালেমের প্যারিস স্কয়ার, তেল আবিবের মেসিলা পার্ক এবং হাইফার ইউনেসকো স্কয়ারে এ বিক্ষোভ হয়। বিক্ষোভকারীদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘নদী থেকে সাগর পর্যন্ত সবার স্বাধীনতা’ এবং ‘ইহুদি-আরব সরকার চাই’।
আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ খারিজ : এবারের নির্বাচনে রেকর্ড সংখ্যক আসন পেয়েছে আরব জোট। যা আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় বেশি। দলগুলোর এমন সাফল্যের পেছনে জালিয়াতির ঘটনা আছে বলে বুধবার অভিযোগ করে নেতানিয়াহুর দল লিকুদ পার্টি। তবে বৃহস্পতিবার এই অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছে পুলিশ। একাধিক গণমাধ্যমকে পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, এমন অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ নেই। আগের নির্বাচনগুলোর তুলনায় এবার অনিয়মের ঘটনা খুবই কম ঘটেছে।
নির্বাচনে বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগ : নির্বাচনে বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলেছে নেতানিয়াহুর দল। আরব ভোটারদের ভোটদানে উৎসাহিত করার কাজে অর্থ দেওয়ার পেছনে কাতারের হাত থাকতে পারে বলে অভিযোগ তুলেছে। এ ঘটনায় বিদেশি অর্থায়ন ও নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের সন্দেহ তদন্ত করছে ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেত। ইসরাইলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যান বিচারপতি নোয়াম সোলবার্গের নির্দেশে বিদেশি অর্থায়ন ও নির্বাচনে হস্তক্ষেপসংক্রান্ত অভিযোগ নিয়ে এই তদন্ত চলছে। তবে কাতার অর্থ দিয়েছে-এমন অভিযোগের পক্ষে এখনো নিশ্চিত প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি।
