গাজায় বাস্তুচ্যুতির নতুন দুঃস্বপ্ন
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ফিলিস্তিনিদের বসবাসের জায়গা ক্রমাগত সংকুচিত হওয়ার ফলে গাজায় বাস্তুচ্যুতির এক নতুন ‘দুঃস্বপ্ন’ তৈরি হয়েছে, যা একই সঙ্গে ‘তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী’। শুক্রবার জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক কার্যালয় এ সতর্কবার্তা দিয়েছে। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, ইসরাইলি বাহিনী ফিলিস্তিনিদের গাজা উপত্যকার আরও ছোট ছোট এলাকায় ঠেলে দিচ্ছে। সে সঙ্গে তারা বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করছে ও বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়স্থলগুলোতে হামলা চালাচ্ছে, যা ‘জাতিগত নির্মূলের’ আশঙ্কাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
বিবৃতির বরাত দিয়ে শনিবার মিডল ইস্ট মনিটরের প্রতিবেদনে বলা হয়, বসবাসের জায়গা ক্রমাগত সংকুচিত হওয়ার ফলে ‘হলুদ রেখা’ হিসাবে চিহ্নিত সীমানার কাছাকাছি এলাকাগুলোতে নতুন করে বাস্তুচ্যুতির ঘটনা ঘটছে। এতে আরও বলা হয়, ‘গত দুই সপ্তাহে ওএইচসিএইচআর লক্ষ্য করেছে যে, গাজা সিটির আল-শুজায়েয়াহ এবং মধ্য গাজার তিনটি এলাকা-পূর্ব আল-বুরেইজ, পূর্ব দেইর আল-বালাহ ও পূর্ব আল-মাগাজিতে-ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর মোতায়েন এলাকা পশ্চিম দিকে আরও বিস্তৃত হয়েছে।’
ওএইচসিএইচআর জানিয়েছে, তাদের কাছে তথ্য এসেছে যে ২৫ অক্টোবর ‘হলুদ রেখা’র কাছে আল-শুজায়েয়াহ মোড়ে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর আশ্রয় নেওয়া তাঁবুগুলোর ওপর একটি ইসরাইলি ড্রোন থেকে বিস্ফোরক ফেলা হয়। এর ফলে সৃষ্ট আগুন টানা পাঁচ ঘণ্টা ধরে জ্বলতে থাকে। ফিলিস্তিনের গণপূর্ত ও গৃহায়ন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় ২০০টি পরিবারের ৮০০ জন মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন; যাদের অধিকাংশই নারী, শিশু এবং বয়স্ক ব্যক্তি।
অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক কার্যালয়ের প্রধান অজিত সুংঘে বলেছেন, ‘গাজায় বাস্তুচ্যুতির দুঃস্বপ্নটি একই সঙ্গে তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী।’ সুংঘে আরও বলেন, ‘যুদ্ধবিরতির ঘোষণার আগেই যারা বাস্তুচ্যুত হয়েছিলেন, তাদের আগের এলাকায় ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। এর কারণ হলো, এসব এলাকার বেশিরভাগই তথাকথিত হলুদ রেখার ওপারে অবস্থিত, যেখানে প্রবেশ করা অসম্ভব। আর তারা বারবার নতুন করে বাস্তুচ্যুতির শিকার হচ্ছেন।’ জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় পুনরায় উল্লেখ করেছে, দখলদার শক্তি হিসাবে ইসরাইলকে অবশ্যই গাজা উপত্যকার ভেতরে ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক স্থানান্তর বন্ধ করতে হবে। সংস্থাটি জানিয়েছে, এটি একটি যুদ্ধাপরাধ, যা মানবতাবিরোধী অপরাধের পর্যায়েও পড়তে পারে।
