টিকে থাকতে ফের যুদ্ধে নামার ফন্দি
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইসরাইলের পার্লামেন্ট (নেসেট) নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে অচলাবস্থা। ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি নেতৃত্বাধীন জোট সবচেয়ে বেশি আসন পেলেও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে তারা ব্যর্থ হয়েছে। অন্যদিকে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক সেনাপ্রধান গ্যাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী শিবিরও সরকার গঠনে পর্যাপ্ত আসন পায়নি। তবে বিস্ময়কর ফলাফল করেছে আরব দলগুলো। তারা পেয়েছে ১৯টি আসন।
এ অবস্থায় সৃষ্ট অচলবস্থার সুযোগ নিতে পারেন নেতানিয়াহু। তিনি ইরানের সঙ্গে নতুন করে যুদ্ধে নামতে পারেন। আর এ সুযোগে ক্ষমতায় নিজেকে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করবেন। শনিবার দ্য ক্র্যাডলের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধ শুরু হলে জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে বিরোধী নেতা গ্যাদি আইজেনকোটকে নিয়ে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের চাপ তৈরি হতে পারে নেতানিয়াহুর ওপর। তাতে নির্বাচনি অচলাবস্থার মধ্যেও প্রধানমন্ত্রীর পদ ধরে রাখার সুযোগ তৈরি হতে পারে তার। ইসরাইলের ১২০ আসনের নেসেটে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১টি আসন। কিন্তু নেতানিয়াহুর ডানপন্থি লিকুদ পার্টি ৫৩টি, ইয়াশার নেতা গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ৪৮টি এবং আরব জোট ১৯টি আসন পেয়েছে। প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি কোনো দলই। ফলে কোনো পক্ষই এককভাবে সরকার গঠন করতে পারছে না। এ পরিস্থিতিতে আরব দলগুলোর হাতে সরকার গঠনের সমীকরণ বদলে দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা এসেছে। তবে ইসরাইলের প্রধান জায়নবাদী দলগুলোর বড় একটি অংশ আরব দলগুলোর সমর্থনের ওপর নির্ভর করে সরকার গঠনে রাজি নয়।
সূত্র জানায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের সঙ্গে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে নেতানিয়াহুর মিত্রদের আলোচনা হয়েছে। ইরানের সঙ্গে আবারও সামরিক সংঘাত শুরু হলে আইজেনকোটকে নিয়ে সরকার গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। এতে নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েও প্রধানমন্ত্রীর পদ ধরে রাখার সুযোগ পেতে পারেন নেতানিয়াহু। মূলত ইরানের সঙ্গে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে ইসরাইলে জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নটি রাজনৈতিক বিরোধের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পেতে পারে। তখন নেতানিয়াহু দাবি করতে পারেন, যুদ্ধের মতো সংকটময় পরিস্থিতিতে সরকারে স্থিতিশীলতা ও রাজনৈতিক ঐক্য প্রয়োজন। এ যুক্তিতে তিনি বিরোধী নেতা গ্যাদি আইজেনকোটকে সরকারে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানাতে পারেন।
আইজেনকোটকে সাহস দিচ্ছেন আইনপ্রণেতা তিবি : নেতানিয়াহু সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে আরব দলগুলোর সহযোগিতা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ফিলিস্তিনি আইনপ্রণেতা আহমাদ তিবি। তার মতে, ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিদের সমর্থন নিয়ে গ্যাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বে নতুন সংখ্যালঘু সরকার গঠনই হতে পারে রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনের পথ। শুক্রবার মিডল ইস্ট আইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, রাজনৈতিক পরিবর্তন আনতে আইজেনকোটকে সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিদের সমর্থন নিয়ে সংখ্যালঘু সরকার গঠনের উদ্যোগ নিতে হবে। আইজেনকোটকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইৎজাক রবিনের মতো রাজনৈতিক সাহস দেখানো উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। ১৯৯৩ সালে রবিনের নেতৃত্বাধীন সংখ্যালঘু সরকার পার্লামেন্টে ৫৬টি আসন নিয়ে ক্ষমতায় ছিল। সে সময় অসলো চুক্তি এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে ফিলিস্তিনি নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সংসদীয় সমর্থনের ওপর নির্ভর করতে হয়েছিল তার সরকারকে।
সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের কথা ভাবছে বিরোধীরা : সরকার গঠনের অচলাবস্থা কাটাতে নতুন নির্বাচন ছাড়াই সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের বিধান ফিরিয়ে আনার বিষয়টি বিবেচনা করছে বিরোধী জোট। এতে আরব দলগুলোর সমর্থন ছাড়াই সংখ্যালঘু সরকার গঠনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এ নতুন প্রস্তাবের ফলে ভোটাররা পুরো সরকার বা পার্লামেন্ট নির্বাচনের পাশাপাশি সরাসরি তাদের পছন্দের প্রধানমন্ত্রীকে আলাদাভাবে ভোট দিতে পারবেন। ফলে সরাসরি নির্বাচনে জয়ী হয়ে আসা একজন প্রধানমন্ত্রী নেসেটে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকা সত্ত্বেও তাত্ত্বিকভাবে একটি সংখ্যালঘু সরকার গঠন করতে সক্ষম হবেন। ২০২১ সালের মার্চে অনুষ্ঠিত অস্পষ্ট নির্বাচনের পরও যখন জোট গঠনে ব্যর্থ হয়েছিলেন, তখন ঠিক একই ধরনের প্রস্তাব এনেছিলেন নেতানিয়াহু নিজেই। তবে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা বেশ চ্যালেঞ্জিং বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
স্পিকারকে হটাতে একমত আরব দল-বিরোধীরা : ইসরাইলের পার্লামেন্ট নেসেটের স্পিকার আমির ওহানাকে দ্রুত সরিয়ে দেওয়ার জন্য বিরোধী দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিবি। এছাড়া দেশটির নতুন পার্লামেন্টের শুরুর দিনই স্পিকার আমির ওহানাকে সরাতে চায় আইজেনকটের বিরোধী জোটও।
