Logo
Logo
×

Advertisement

দশ দিগন্ত

মধ্যবর্তী নির্বাচন কাল

ইতিহাসের সন্ধিক্ষণে যুক্তরাষ্ট্র

Advertisement

Icon

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

যুক্তরাষ্ট্রে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচন নানা কারণেই ঐতিহাসিক ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেউ কেউ এটাকে মার্কিন ইতিহাসের ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ’ মধ্যবর্তী নির্বাচন আখ্যা দিয়েছেন। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এতে মার্কিন পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে যেতে পারে। এখন পর্যন্ত বিভিন্ন জরিপ থেকে এ পূর্বাভাস পাওয়া গেছে।

মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতা ধরে রাখতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মিত্ররা বিপুল পরিমাণ অর্থ ঢেলে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তাদের মধ্যে সবার আগে আসছে ধনকুবের ইলন মাস্কের নাম। সম্প্রতি আল জাজিরা এক প্রতিবেদন জানায়, মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জেতাতে মাস্ক ব্যয় করেছেন ৪৪ কোটি ৬০ লাখ ডলার। এ তালিকায় রয়েছে ধনকুবের এলিজাবেথ ও রিচার্ড উইহলেনের নামও। এ দুজন ১৫ কোটি ডলার ব্যয় করেছেন। সব মিলিয়ে মধ্যবর্তী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে রিপাবলিকান ধনকুবেররা ব্যয় করেছেন ১ হাজার ৬৭০ কোটি ডলার, যা ডেমোক্র্যাটদের ব্যয়ের তুলনায় অনেক বেশি। ডেমোক্র্যাটরা ব্যয় করেছেন ৮৩ কোটি ২০ লাখ ডলার।

এ সবকিছু করা হচ্ছে যখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে আছেন এবং মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর আবার দেশটিতে হামলার হুমকি দিয়ে চলেছেন। ডেমোক্র্যাটরা এ যুদ্ধের বিরোধিতা করে আসছেন। ভোটে রিপাবলিকানরা হারলে ট্রাম্প চাইলেও যুদ্ধ বিষয়ে একতরফা সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না। বর্তমানে ক্ষমতাসীন ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষ-প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট। প্রতিনিধি পরিষদ হাতছাড়া হলে ট্রাম্পে যুদ্ধ-ক্ষমতাসহ সার্বিক বিষয় সীমিত হয়ে পড়বে। বর্তমানে তিনি যেভাবে উভয় কক্ষের অনুমোদন পাচ্ছেন, ডেমোক্র্যাটদের হাতে নিম্নকক্ষ চলে গেলে তেমনটা আর হবে না। এ কারণে মেয়াদের বাকি দুই বছর তাকে স্বেচ্ছাচারের পরিবর্তে নানা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়েই যেতে হবে। ইরানে যুদ্ধ ও ট্রাম্পে দেশ পরিচালনার সবচেয়ে বড় সমালোচক ডেমোক্রেটিক সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। নির্বাচনকে সামনে রেখে স্যান্ডার্স মার্কিন ভোটারদের সতর্ক করে বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছেন। তার গৃহীত নীতিগুলো ধনী মার্কিনিদের সুবিধা দিলেও শ্রমজীবী

পরিবারগুলোর ওপর বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে স্যান্ডার্স ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সংবিধান ও আইনের শাসনকে উপেক্ষার অভিযোগ আনেন। তিনি ট্রাম্পকে একজন ‘দুর্নীতিপরায়ণ আত্মমুগ্ধ ব্যক্তি’ এবং ‘অসুস্থ মিথ্যাবাদী’ হিসাবে বর্ণনা করেন। নিজের বক্তব্যের একাংশ শেয়ার করে স্যান্ডার্স আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ‘এই দেশের আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচন’ বলে অভিহিত করেন। স্যান্ডার্স বলেন, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প একজন অত্যন্ত বিপজ্জনক প্রেসিডেন্ট।’ তিনি ট্রাম্প প্রশাসনকে ‘অত্যন্ত দুর্নীতিগ্রস্ত’ বলেও অভিযুক্ত করেন। তিনি ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতিগুলোরও সমালোচনা করেন। তার মতে, এসব নীতি ধনী মার্কিনিদের পক্ষ নেওয়া হয়েছে, অথচ শ্রমজীবী পরিবারগুলোর ওপর ক্রমাগত বোঝা বাড়িয়ে চলেছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য মার্কিনিদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে স্যান্ডার্স বলেন, ‘আমরা এমন এক প্রেসিডেন্টকে মেনে নিতে পারি না, যার নিয়ন্ত্রণে থাকা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট শুধু তার ইচ্ছামতো সবকিছুতে সায় দিয়ে যায়। ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। এই নির্বাচনের মূল উদ্দেশ্য এটাই।’

দ্য গার্ডিয়ানের বিশ্লেষণে বলা হয়, মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প বেশ কয়েকটি নির্বাচনি জনসভা করেছেন। ৮০ বছর বয়সি ট্রাম্প এখনো বিশ্বাস করেন-তিনি আবারও সংশয়বাদীদের ভুল প্রমাণ করতে পারবেন এবং রিপাবলিকানদের মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে সাহায্য করতে পারবেন। তবে ডালাসে এই গ্রীষ্মে অনুষ্ঠিত রিপাবলিকান সম্মেলনে তার বলা পাঁচটি শব্দ হয়তো তার দলের ভাগ্য নির্ধারণ করে দিতে পারে-‘মনে করো, আমিই নির্বাচনে প্রার্থী।’ এ আহ্বান ডেমোক্র্যাটদের জন্য ছিল অত্যন্ত আনন্দদায়ক। এটি নিশ্চিত করতে সাহায্য করেছে যে, এই মধ্যবর্তী নির্বাচন হোয়াইট হাউজে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের ওপর একটি জাতীয় রায় হিসাবে গণ্য হবে। জনমত জরিপগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, এ রায় তার জন্য বিপর্যয়কর হতে পারে; এটি তার অপরাজেয় ভাবমূর্তিকে চূর্ণ করবে, তার প্রেসিডেন্সির শেষ দুই বছরের গতিপথ বদলে দেবে। পাশাপাশি তার উত্তরসূরি নির্বাচনের লড়াইকে আরও তীব্র করে তুলবে।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

মধ্যবর্তী নির্বাচন কাল ইতিহাসের সন্ধিক্ষণে যুক্তরাষ্ট্র

ইতিহাসের সন্ধিক্ষণে যুক্তরাষ্ট্র

আরব দলগুলোকে শর্ত দিলেন আইজেনকোট

আরব দলগুলোকে শর্ত দিলেন আইজেনকোট

মণিপুরে থামছে না সহিংসতা

মণিপুরে থামছে না সহিংসতা

‘ইটস ডান ব্রো’

‘ইটস ডান ব্রো’

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম