পশ্চিমবঙ্গের ১৩ জেলায় খ্রিষ্টানদের ওপর হামলা
লক্ষ্যবস্তু সংখ্যালঘু উদ্বেগ বাড়ছে
Advertisement
কলকাতা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ধর্মান্তকরণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, প্রার্থনা সভায় বাধা এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুরের একের পর এক অভিযোগ ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে। মে মাসে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা এবং সাংবিধানিক অধিকার নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। পাঁশকুড়া থেকে চন্দ্রকোনা, বারুইপুর থেকে উলুবেড়িয়া, এমনকি মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে এ বিতর্ক।
ইন্ডিয়া হেট ল্যাবের ২২ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক পর্যবেক্ষণ রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৩ মে থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের ১৩টি জেলায় খ্রিষ্টানদের নিশানা করে অন্তত ৬০টি ঘটনার তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৫২টি ঘটনায় প্রার্থনা সভা, ব্যক্তিগত বাড়ি, গির্জা এবং ধর্মীয় জমায়েতে হামলা বা বাধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বাকি আটটি ঘটনায় শারীরিক নিগ্রহ ও সম্পত্তি ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরের পরিস্থিতি নিয়ে যথেষ্ট উদ্বিগ্ন স্থানীয় খ্রিষ্টান পরিবারগুলো। সেখানকার বাসিন্দা শুভেন্দু বিশ্বাসের কথায়, ‘আমাদের এই মালদহ জেলায় আগে কখনো বাঙালি খ্রিষ্টান পরিবারগুলোকে এ ধরনের ঘটনার মুখে পড়তে হয়নি। আমরা সত্যিই আতঙ্কিত। নিজেদের ধর্মীয় আচার পালন করতেও এখন ভয় হচ্ছে।’ সম্প্রতি অর্থের বিনিময়ে ধর্মান্তকরণের চেষ্টার অভিযোগ ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। বজরং দল ও হিন্দু জাগরণ মঞ্চের সদস্যরা এ অভিযোগ তুললেও কয়েকটি স্থানীয় পরিবারের দাবি, তারা স্বেচ্ছায় খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেছেন। মালদহের পুলিশ সুপার জানান, প্রার্থনা সভাকে কেন্দ্র করে গোলমাল হয়েছিল।
ঘটনার তদন্ত চলছে। পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়ার পশ্চিম অর্জুনদাত গ্রামেও প্রার্থনা সভায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা অসীম মাইতি ও হলধর পাণ্ডার বক্তব্যেও একই উদ্বেগ। তাদের বক্তব্য, ধর্মীয় বিশ্বাস ও উপাসনার বিষয়কে কেন্দ্র করে এলাকায় যে পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে, তা সাধারণ মানুষের মধ্যে আশঙ্কা বাড়াচ্ছে। পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনায় এক খ্রিষ্টান নারীকে মারধর ও শুদ্ধিকরণের নামে ধর্মীয় আচার পালনে বাধ্য করার অভিযোগে ১৩ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছে। বঙ্গ খ্রিষ্টান কাউন্সিলের প্রতিষ্ঠাতা হেরড মল্লিকের অভিযোগ, খ্রিষ্টানদের ওপর হামলার ঘটনায় প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়। যদিও বিজেপি এই অভিযোগ মানতে নারাজ। দলের মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার জানিয়েছেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে এবং ধর্মান্তকরণের অভিযোগ আইনি পথেই মোকাবিলা করা হবে।
