পরমাণুর চেয়ে ১০ হাজার কোটি গুণ ক্ষুদ্র জগতের সন্ধান
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
প্রকৃতির সবচেয়ে ক্ষুদ্র জগতের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। এ জগৎ পরমাণুর চেয়েও ১০ হাজার কোটিগুণ ক্ষুদ্র। বিজ্ঞানীরা একে বলছেন ‘জেপ্টোভার্স’। গবেষণাটি করেছেন যুক্তরাজ্যের ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা। সুইজারল্যান্ড ও ফ্রান্সের সীমান্তে অবস্থিত ইউরোপীয় পারমাণবিক গবেষণা সংস্থা সার্নের (সিইআরএন) লার্জ হ্যাড্রন কলাইডারে (এলএইচসি) চালানো এক পরীক্ষায় এ তথ্য পাওয়া গেছে। এ আবিষ্কার মহাবিশ্ব কীভাবে কাজ করে, তা বুঝতে বিজ্ঞানীদের সাহায্য করতে পারে। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, পরমাণুর ভেতরে কী আছে, তা জানতে বিজ্ঞানীরা পরমাণুর অংশগুলোকে উচ্চশক্তিতে পরস্পরের সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটান। এতে অনেক উপপরমাণু কণা তৈরি হয়। সংঘর্ষের পর ছিটকে আসা কণাগুলো বিশ্লেষণ করেই বিজ্ঞানীরা নতুন তথ্য খুঁজে পান। মহাবিশ্বের বড় একটি অংশজুড়ে রয়েছে ডার্ক ম্যাটার বা অন্ধকার পদার্থ।
কিন্তু বিজ্ঞানীরা এখনো এটি সরাসরি শনাক্ত করতে পারেননি। তারা জানেন, ডার্ক ম্যাটার রয়েছে। কারণ, এর মহাকর্ষীয় বল সাধারণ পদার্থকে প্রভাবিত করে। তবে অন্য কোনো উপায়ে এর অস্তিত্ব এখনো ধরা পড়েনি। এই পরীক্ষায় বিজ্ঞানীরা উচ্চশক্তিতে কণার সংঘর্ষ ঘটান। এরপর সংঘর্ষের ফলে ছিটকে আসা পদার্থ বিশ্লেষণ করেন। এতে তৈরি হওয়া একটি উপপরমাণু কণার নাম ‘বিউটি কোয়ার্ক’। এটি খুবই অস্থিতিশীল। মাত্র দেড় ট্রিলিয়ন ভাগের এক সেকেন্ড বেঁচে থাকার পর এটি ভেঙে অন্য কণায় পরিণত হয়। এত অল্প সময় বেঁচে থাকলেও বিজ্ঞানীরা কণাটির সঙ্গে অন্য ক্ষুদ্র কণার মিথস্ক্রিয়া শনাক্ত করতে পেরেছেন। এ মিথস্ক্রিয়া ঘটেছে এক মিটারের এক বিলিয়ন ট্রিলিয়ন ভাগের এক ভাগ দৈর্ঘ্যরে স্কেলে।
কিছু তত্ত্ব অনুযায়ী, এ ক্ষুদ্র স্কেলে কণাগুলো ডার্ক ম্যাটারের প্রভাবে বেশি সংবেদনশীল হতে পারে। ডার্ক ম্যাটার কোয়ার্কের পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া ও ভেঙে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই এই ক্ষুদ্র জগতে কণার আচরণ বোঝা ডার্ক ম্যাটারের সন্ধান পেতে সাহায্য করতে পারে। ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ও তথ্য বিশ্লেষণের নেতৃত্ব দেওয়া ড. হ্যারি ক্লিফ বিবিসি নিউজকে বলেন, ‘আমরা জেপ্টোভার্সের দরজায় কড়া নাড়ছি।’ তিনি বলেন, উপপরমাণু কণার এই আচরণ বিজ্ঞানীদের সম্ভাব্য নতুন কণার বিষয়ে কাছ থেকে জানার সুযোগ দিয়েছে। ক্লিফ আরও বলেন, ‘এখন আমরা ভেতরে ঢুকে অনুসন্ধান করতে চাই। দেখতে চাই, সেখানে কী নতুন কণা অপেক্ষা করছে। সূত্র : বিবিসি
