ট্রাম্প কি ইরানে পরমাণু হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন
সাংবাদিক টাকার কার্লসনের বক্তব্যে তোলপাড়
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ইরানে হামলা অব্যাহত রাখতে চান। তবে ট্রাম্প ইরানে হামলা নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়ে তৈরি করেছেন ধাঁধা। একবার তিনি বলছেন, আলোচনা চলছে; হামলা চালাবেন না। আবার বলছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরই হামলা হবে। এ অবস্থায় ফক্স নিউজের সাবেক উপস্থাপক ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার টাকার কার্লসন দাবি করেছেন, ট্রাম্প প্রশাসন কয়েক দিনের মধ্যেই ইরানের ওপর পারমাণবিক হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এ হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে ইরানের মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’-এ থাকা একটি সন্দেহভাজন পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র। বার্তা সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক্স-এ দেওয়া পোস্টে কার্লসন জানিয়েছেন- প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৭ নভেম্বরের মধ্যে এ হামলার অনুমোদন দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। কার্লসনের যুক্তি হলো, কেন্দ্রটি প্রায় ৩০০ ফুট কঠিন গ্রানাইট পাথরের নিচে সুরক্ষিত থাকায় প্রচলিত মার্কিন অস্ত্র দিয়ে সেখানে আঘাত করা কঠিন। তাই পারমাণবিক হামলাকেই একমাত্র সামরিক বিকল্প হিসাবে দেখা হচ্ছে। তার অভিযোগ, ট্রাম্প প্রশাসন ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই গোপনে মার্কিন পারমাণবিকনীতি সংশোধন করেছে, যাতে প্রয়োজনে ‘যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহারের উপযোগী পারমাণবিক অস্ত্র’ প্রয়োগ করা সহজ হয়। ট্রাম্প প্রকাশ্যে ইরানের অবশিষ্ট পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলার বিষয়ে কথা বলেছেন। তবে তিনি পারমাণবিক হামলার অনুমোদন দিয়েছেন-এমন কোনো ইঙ্গিত দেননি। মার-এ-লাগোতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে ১০ মিনিটের মধ্যেই অবশিষ্ট স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। তিনি বলেন, ‘আপনারা হয়তো পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন-এর কথা ভাবছেন-সেটির দিকে নজর দিতেই হবে। আমরা খুব
দ্রুতই এসব করতে পারি।’ তবে ১৬ অক্টোবর নিউজম্যাক্স-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানান, ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের কোনো পরিকল্পনা তার নেই।
কার্লসনের দাবি, নেতানিয়াহু ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য ট্রাম্পের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সূত্রের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ‘বিবি (নেতানিয়াহু) এ বিষয়ে প্রতিদিন ট্রাম্পকে ফোন করছেন।’ কার্লসন বলেন, নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ওপরও চাপ প্রয়োগ করছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, সেন্টকম প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং সিআইএ পরিচালক জন র্যাটক্লিফ। ইরানের বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরেই মতপার্থক্য রয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স ও বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ট্রাম্পকে তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সমাধানের পথে হাঁটার পরামর্শ দিচ্ছেন। পারমাণবিক হামলার সম্ভাব্য পরিণতির বিষয়ে সতর্ক করে কার্লসন বলেন, ‘প্রথম পারমাণবিক আঘাতের পরপরই তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ অনিবার্য হয়ে উঠবে। সেই যুদ্ধ হবে সংক্ষিপ্ত ও চূড়ান্ত।’ তিনি উপসাগরীয় অঞ্চলে অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে বলেন, কেবল অক্টোবর মাসেই হরমুজ প্রণালিতে বিশ্বের প্রায় ৮৫০টি বিশাল তেলবাহী ট্যাংকারের মধ্যে ১১টি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কার্লসন সতর্ক করে বলেন, পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন-এ পারমাণবিক হামলা চালানো হলে তা পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলকে দূষিত করতে পারে এবং প্রায় ১০ কোটি মানুষের পানীয়জলের সরবরাহের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
