Logo
Logo
×

Advertisement

দশ দিগন্ত

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন

রিপাবলিকানদের ভরাডুবির নেপথ্যে

Icon

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় জয় পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। এ ফলের মধ্য দিয়ে ভোটাররা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন বা মাগা আন্দোলনকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। কংগ্রেসের দুই কক্ষ, একাধিক অঙ্গরাজ্যের গভর্নর পদ ও আইনসভায় জয় পেয়েছে দলটি। ট্রাম্পের নীতির প্রতি অসন্তোষই এ জয়ের অন্যতম কারণ।

ডেমোক্র্যাটদের এই জয়ে দলের কোনো একটি গোষ্ঠী এককভাবে কৃতিত্ব দাবি করতে পারবে না। কারণ, দলের সব ধারার নেতারাই জয় পেয়েছেন। তাদের জয়ের ব্যাপ্তি এতটাই বড় যে, দলের অভ্যন্তরীণ বিভেদ দিয়ে তা ব্যাখ্যা করা কঠিন। এ বছর নির্বাচনে জিততে ডেমোক্র্যাটদের সবচেয়ে বড় যোগ্যতা ছিল, সহজ কথায়-তারা রিপাবলিকান ছিলেন না। ডেমোক্র্যাটদের জন্য একের পর এক রাজনৈতিক সুযোগ তৈরি করে দিয়েছেন ট্রাম্প। ইরানের বিরুদ্ধে তার অজনপ্রিয় যুদ্ধের কারণে বেড়েছে পণ্যের দাম। বিশৃঙ্খল শুল্কনীতিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ছোট ব্যবসা, কৃষক ও আন্তর্জাতিক মিত্রতা। স্বাস্থ্যসেবায় কাটছাঁট, প্রাণঘাতী বহিষ্কার অভিযান, নিজের সম্পদ বাড়ানো, দুর্নীতি এবং প্রতিফলন পুকুর সংস্কার নিয়ে অন্তহীন বিতর্ক-সব মিলিয়ে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ক্রমেই কমেছে।

ডেমোক্র্যাটরা সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েছেন। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে তারা নির্বাচনি প্রচার চালিয়েছেন। এটি শুধু ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের দলের বিরুদ্ধে মধ্যবর্তী নির্বাচনে দেখা দেওয়া স্বাভাবিক জনরোষ ছিল না। বরং এটি ছিল ট্রাম্পের মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন বা মাগা আন্দোলনের বিরুদ্ধে ভোটারদের সরাসরি প্রত্যাখ্যান। ট্রাম্পবাদের প্রতি মানুষ যে বিরক্ত, তার সবচেয়ে স্পষ্ট প্রমাণ এ নির্বাচন। মঙ্গলবার রাতে ডেমোক্র্যাটদের সব ধারার নেতারাই জয় ঘোষণা করেন। তাদের মধ্যে ছিলেন মধ্যপন্থি, প্রগতিশীল, জনতুষ্টিবাদী ও গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রীরা। কংগ্রেসের দুই কক্ষ, একাধিক অঙ্গরাজ্যের গভর্নর পদ এবং বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে আইনসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছেন তারা। এ জয় ডেমোক্র্যাটদের ট্রাম্পকে জবাবদিহির আওতায় আনার সুযোগ করে দেবে। একই সঙ্গে সরকার পরিচালনায় কার্যকর ভূমিকা রাখার সুযোগও তৈরি করবে। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ভোটাররা যে ধরনের কার্যকর সরকারব্যবস্থার অভাব অনুভব করেছেন, তা পূরণে এই জয় গুরত্বপূর্ণ হতে পারে।

রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটিতেও এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন ডেমোক্র্যাটরা। ছয় মাস আগেও এসব এলাকার অনেকগুলোকে তাদের নির্বাচনী মানচিত্রে রাখা হতো না। ডেমোক্র্যাটদের এই ব্যাপক জয় রিপাবলিকানদের অজনপ্রিয়তারই প্রমাণ। গত এক বছরে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে তাদের গভীর অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ দেখা গিয়েছে। তাদের ক্ষোভ ভোটের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেছে। আগে কখনো এমন মাত্রার ক্ষোভ দেখিনি। নির্বাচনি প্রচারে বিভিন্ন রাজনৈতিক মতের ভোটারদের মধ্যে হতাশা ছিল স্পষ্ট।

এ বিষয়ে রাজনৈতিক পরামর্শক আনাত শেনকার-ওসোরিওর ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয়-পরাজয় নির্ধারণ করবে ‘আর সহ্য হচ্ছে না, এবার যথেষ্ট হয়েছে’-এমন ভোটারদের মনোভাব। মধ্যবর্তী নির্বাচন প্রায়ই এভাবে নির্ধারিত হয়। তার মতে, এটি ডেমোক্র্যাটদের প্রতি হঠাৎ সমর্থন বেড়ে যাওয়ার ঘটনা হবে না। বরং দুদলের প্রতিই বিরক্তি থেকে ভোটাররা সিদ্ধান্ত নেবেন। ক্ষুব্ধ ও হতাশ ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আনতে ডেমোক্র্যাটরা কতটা সফল হবেন, তার ওপরই নির্ভর করবে তাদের জয়ের ব্যাপ্তি।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন রিপাবলিকানদের ভরাডুবির নেপথ্যে

রিপাবলিকানদের ভরাডুবির নেপথ্যে

যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন ২০২৬ সাত মুসলিম প্রার্থীর জয়

সাত মুসলিম প্রার্থীর জয়

রিপাবলিকানদের হার জলে গেল মাস্কের ৪৭ কোটি ডলার

জলে গেল মাস্কের ৪৭ কোটি ডলার

নেতানিয়াহুর জন্য বিপদের বার্তা

নেতানিয়াহুর জন্য বিপদের বার্তা

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম