ট্রাম্পের সমর্থন পেয়েও হার
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি সমর্থন পাওয়া কয়েক ডজন রিপাবলিকান প্রার্থী হেরে গেছেন। এতে দলীয় প্রার্থীদের জয়ী করতে ট্রাম্পের সমর্থন কতটা কার্যকর, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। একসময় ট্রাম্পের সমর্থন পাওয়া প্রার্থীদের জন্য বড় সুবিধা হিসাবে বিবেচিত হতো। এবারের নির্বাচনের শেষ পর্যায়েও তিনি ভোটারদের এমনভাবে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন, যেন ব্যালটে তার নিজের নাম রয়েছে। তবে নির্বাচনের ফল বলছে, তার সেই আহ্বান অনেক ক্ষেত্রেই কাজে আসেনি।
অবশ্য ভোটের পর ট্রাম্প অবস্থান পরিবর্তন করে বলেন, ইরানের কারণে তারা হেরে গেছেন। ব্যালটে তার নাম থাকলে জিততে পারত রিপাবলিকানরা। শুধু ট্রাম্পই নন, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও ভোটে ভরাডুবির জন্য ইরান যুদ্ধকে দায়ী করেন। বৃহস্পতিবার দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বুধবার বিকাল ৫টা পর্যন্ত সিনেট নির্বাচনে ট্রাম্পের সমর্থন পাওয়া ২৬ প্রার্থীর মধ্যে মাত্র ১৩ জন জয়ী হয়েছেন; অর্থাৎ অর্ধেক প্রার্থী জয় পেয়েছেন। অঙ্গরাজ্যগুলোর গভর্নর নির্বাচনে ট্রাম্পের সমর্থন পাওয়া ২৩ প্রার্থীর মধ্যে জয়ী হয়েছেন মাত্র ৯ জন। পরাজিত হয়েছেন ১২ জন। বাকি দুটি আসনের ফল তখনো ঘোষণা করা হয়নি।
প্রতিনিধি পরিষদের নির্বাচনে ট্রাম্প-সমর্থিত প্রার্থীদের ফল তুলনামূলক ভালো। তাদের প্রায় ৬০ শতাংশ জয় পেয়েছেন। তবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অনেক আসনেই হেরে গেছেন রিপাবলিকানরা। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত প্রতিনিধি পরিষদের ৪৬ জন ট্রাম্প-সমর্থিত প্রার্থী পরাজিত হয়েছেন। বিষয়টি ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ভাটার প্রভাবও নির্বাচনের ফলাফলে পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তার প্রতি জনসমর্থন কমে যাওয়ায় রিপাবলিকান প্রার্থীদের ওপর তার প্রভাবও আগের মতো থাকছে না।
এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সেই চিত্র বদলে গেছে। কিছু আসনের ফল এখনো ঘোষণা করা হয়নি। তবে নির্বাচনের প্রাথমিক ফল বলছে, ট্রাম্পের বেছে দেওয়া প্রার্থীরা অনেক ক্ষেত্রেই রক্ষণশীল ভোটারদের আস্থা অর্জন করতে পারেননি। এমনকি রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসাবে পরিচিত অঙ্গরাজ্যগুলোতেও তারা হেরেছেন। সিনেট নির্বাচনে ট্রাম্পের সমর্থন পাওয়া ১১ জন প্রার্থী পরাজিত হয়েছেন। আরও দুজনের আসনের ফল বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘোষণা করা হয়নি। টেক্সাসের অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটনও পরাজিত হয়েছেন।
তিনি দীর্ঘদিনের ট্রাম্প-সমর্থক হিসাবে পরিচিত। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ও রাজনীতিতে নতুন মুখ জেমস তালারিকো জয় পেয়েছেন। ১৯৮৮ সালের পর এই প্রথম টেক্সাস থেকে কোনো ডেমোক্র্যাট সিনেটর নির্বাচিত হলেন। চলতি বছরের শুরুতে প্যাক্সটনকে ব্যক্তিগতভাবে বেছে নিয়েছিলেন ট্রাম্প। তার সমর্থনে রিপাবলিকান দলের প্রাথমিক নির্বাচনে বর্তমান সিনেটর জন কর্নিনকে কার্যত মনোনয়ন থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া হয়। কর্নিনের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে ট্রাম্পের মতবিরোধ ছিল। অন্যদিকে প্যাক্সটনকে নিজের অনুগত মিত্র হিসাবে দেখতেন তিনি। দক্ষিণ ক্যারোলাইনাতেও ট্রাম্পের পছন্দের প্রার্থী ডারলিন গ্রাহাম হেরে গেছেন। আরও একজন হেরে যাওয়া ডারলিন গ্রাহামকে নিজেই প্রার্থী হিসাবে বেছে নিয়েছিলেন ট্রাম্প। তার পক্ষে জোরালো প্রচার চালানোর পাশাপাশি নির্বাচনি প্রচারণায় সরাসরি অংশও নিয়েছিলেন তিনি।মিশিগানেও ট্রাম্পের পছন্দের প্রার্থী, সাবেক কংগ্রেস সদস্য মাইক রজার্স পরাজিত হন। গভর্নর নির্বাচনে ট্রাম্পের সমর্থন পাওয়া প্রার্থীদের ফল সবচেয়ে খারাপ হয়েছে।
