মার্কিন রাজনীতিতে পরিবর্তনের হাওয়া
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টির হার কেবল যে ডেমোক্র্যাটদের রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী করেছে, এমন নয়। এ নির্বাচন দেশটির পুরো রাজনৈতিক ব্যবস্থায় পরিবর্তনের হাওয়া বইয়ে দিয়েছে। এতে প্রথমবারের মতো এক মুসলিম সিনেটর হিসাবে বিজয়ী হয়েছেন আব্দুল আল-সায়েদ। তাকে ঠেকাতে নজিরবিহীন চেষ্টা দেখা গেলেও শেষ পর্যন্ত তা সফল হয়নি। ভোটে জিতেছেন সমাজতান্ত্রিক গণতান্ত্রিক ধারার অনেক নেতা। ট্রাম্পের কঠোর সমালোচক জন ওসফ আবারও জিতে হয়েছেন সিনেটর।
মার্কিন রাজনীতিতে ইসরাইলপন্থি তহবিল সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠান আইপ্যাকের প্রভাব কমেছে। এ সংগঠনটি ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান-উভয় শিবিরেই অর্থ দিয়ে কংগ্রেস সদস্যদের প্রভাবিত করে, যেন তারা ইসরাইলের পক্ষে কাজ করেন। এবার ডেমোক্রেটিক পার্টির ভেতরেও দেখা যাচ্ছে নতুন সুর। সেখানে আইপ্যাকের অর্থ নিয়ে বিজয়ী হওয়া নেতাদের বিরোধিতা করছেন নবনির্বাচিত অনেকে। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন এ ধারার অন্যতম অগ্রদূত সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। সমাজতান্ত্রিক গণতান্ত্রিক এ নেতা দীর্ঘদিন ধরেই এ বিষয়গুলোর ওপর জোর দিয়ে আসছেন। তিনি নিউইয়র্কে জোহরান মামদানির পাশে থেকে প্রচারণা চালিয়েছেন। ছিলেন আব্দুল আল-সায়েদের পাশেও।
চাক শুমারকে নেতা দেখতে চান না ডেমোক্র্যাটরা : শনিবার দ্য গার্ডিয়ান লিখেছে, মার্কিন সিনেটে পরবর্তী সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হিসাবে চাক শুমারকে দেখতে চাইছেন না নবনির্বাচিত ডেমোক্রেটিক সিনেটরদের একাংশ। যদিও নিজের দলে এখনো পর্যাপ্ত ভোট তাঁর পক্ষে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে; ফলে তিনি ডেমোক্র্যাটদের শীর্ষ নেতা হিসাবে টিকে থাকতে পারেন। সাউথ ক্যারোলিনা থেকে নির্বাচিত ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর অ্যানি অ্যান্ড্রুস বৃহস্পতিবার ফক্স নিউজের ব্রেট বেয়ারকে বলেন, ডেমোক্রেটিক দলে নতুন নেতৃত্বের প্রয়োজন। শুমারের নেতৃত্বের প্রতি তিনি সমর্থন দেবেন কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি এখনো দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, উভয় দলেই এখন প্রজন্ম পরিবর্তনের সময় এসেছে।’
কানসাস থেকে নির্বাচিত সিনেটর অ্যাডাম হ্যামিল্টন নির্বাচনি প্রচারণার সময় সিএনএনকে জানান, তিনি দলের নেতা হিসাবে শুমারকে সমর্থন দেবেন না। ৯৪ বছরের মধ্যে কানসাস থেকে সিনেট আসনে জয়ী প্রথম ডেমোক্র্যাট হ্যামিল্টন নিজেকে ডেমোক্রেটিক দল থেকে কিছুটা স্বতন্ত্র হিসাবে তুলে ধরেছিলেন। সিনেটর আল-সায়েদও বৃহস্পতিবার সিএনএন-এর কাছে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হিসেবে শুমারকে সমর্থন দিতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি অন্য বিকল্পগুলো বিবেচনা করতে চান। টেক্সাস থেকে নির্বাচিত জেমস টালারিকো, ইলিনয় থেকে জুলিয়ানা স্ট্র্যাটন, নিউ হ্যাম্পশায়ার থেকে ক্রিস পাপাস, মিনেসোটা থেকে পেগি ফ্লানাগান এবং মেইন থেকে ট্রয় জ্যাকসন-এমন আরও কয়েকজন নতুন নির্বাচিত ডেমোক্র্যাটও শুমারকে সমর্থন দিতে রাজি হননি।
আমি মূল চরিত্র হব, আশা করিনি- আল-সায়েদ : মিশিগান থেকে নির্বাচত ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর আব্দুল আল-সায়েদ জানিয়েছেন, তিনি আশা করেননি যে ‘এ মধ্যবর্তী নির্বাচনের মূল চরিত্র’ হয়ে উঠবেন। এর আগে এক তীব্র ও তিক্ত নির্বাচনি প্রচারণায় প্রেসিডেন্ট এবং তার দল তাকে মূল খলনায়ক হিসাবে চিত্রিত করার চেষ্টা করেছিল। আল-সায়েদ তিনি কৃষ্ণাঙ্গ ভোটার ও আগাম ভোট দেওয়া ইহুদি ভোটারদের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন পেয়েছেন।
আলো পড়ছে ওসফে : মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারণায় ট্রাম্পকে সরাসরি ‘দুর্নীতিবাজ’ বলে মন্তব্য করেন জন ওসফ। তিনি রিপাবলিকান পার্টি, ট্রাম্প ও তার অনুগতদের তীক্ষ্ম ভাষায় সমালোচনা করে আলোচনায় আসেন। অনেকে তার মধ্যে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ছায়াও দেখতে পাচ্ছেন। ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৮ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি ডেমোক্রেটিক দলের প্রধান মুখ হয়ে উঠতে পারেন।
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ডেমোক্রেটিক দলের প্রাইমারি নির্বাচনে কাকে সমর্থন দেওয়া উচিত- এ বিষয়ে ডেমোক্রেটিক ভোটারদের মধ্যে পরিচালিত এক জরিপে এগিয়ে আছেন জর্জিয়ার সিনেটর ওসফ। এবিসি নিউজ অস্ট্রেলিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যবর্তী নির্বাচনের কয়েক দিন আগে অ্যাটলাস ইন্টেল-এর চালানো জরিপে তিনি প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজের চেয়ে এগিয়ে ছিলেন। ট্রাম্পের সরাসরি সমালোচনা করে ওসফ সবার নজর কাড়েন। তিনি ট্রাম্পকে ‘দুর্নীতিবাজ’ ও ‘এই পদের অযোগ্য’ বলে অভিহিত করেন। সিনেটর ওসফ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আরোপ করা শুল্কনীতির সমালোচনা করেন। তিনি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের পক্ষে কথা বলেছেন। মধ্যপ্রাচ্য প্রসঙ্গে ওসফ বলেন, তিনি ইসরাইলের নিরাপত্তা ও নিরাপরাধ ফিলিস্তিনিদের জীবন-উভয়কেই গুরুত্ব দেন।
