Logo
Logo
×

Advertisement

দশ দিগন্ত

দিনশেষে অল্পেই সন্তুষ্ট জেলেনস্কি

ন্যাটো নয়, ন্যাটো-স্টাইলে নিরাপত্তা!

Icon

হৃদিতা ইফরাত

প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৫, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

যুদ্ধের আগে থেকেই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির স্বপ্ন ছিল ন্যাটোর সদস্যপদ লাভ। যুদ্ধ শুরুর পর ন্যাটোর মালা গলায় ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের খাতায় নিজের (ইউক্রেন) নাম লেখানোর সে দুর্বার ইচ্ছে যেন দিগন্তে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বৈঠক শেষে সেই আশায় গুড়েবালি। যুদ্ধবিরতি করতে হলে ভূখণ্ড ছাড়ার পাশাপাশি ন্যাটোর কথাও ভুলে যেতে হবে জেলেনস্কির। তবে ন্যাটো স্টাইলে নিরাপত্তা পাবে দেশটি-ট্রাম্পকে এমনটাই আশ্বস্ত করেছেন পুতিন। ফলে দিনশেষে অল্পেই সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে জেলেনস্কিকে। ‘মোড়ল’র ওপর তো খবরদারি চলে না! ন্যাটো না হোক-ন্যাটোর ‘ছায়া’ তো মিলবে!

ইউক্রেনকে ‘শক্তিশালী নিরাপত্তা নিশ্চয়তা’ দিতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন রাজি হয়েছেন। রোববার সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে এ তথ্য জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। এটিকে মোড় বদলে দেওয়ার মতো ঘটনা বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। এমন পরিস্থিতির মধ্যে ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে পুতিনের রাজি হওয়ার বিষয়টি সামনে আনলেন উইটকফ। সিএনএনকে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইউক্রেনকে শক্তিশালী নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দেওয়ার বিষয়টিতে রাজি হয়েছেন পুতিন। একে আমি মোড় বদলে দেওয়ার মতো ঘটনা বলে উল্লেখ করব।’ উইটকফ বলেন, ‘আমরা একমত হয়েছি যে ইউক্রেনকে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্য দেশগুলো অনুচ্ছেদ-৫এর মতো ভাষা কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারবে।’ অনুচ্ছেদ-৫ বলতে উইটকফ পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর বিধানের পাঁচ নম্বর অনুচ্ছেদের কথা বুঝিয়েছেন। ৩২ সদস্যের সামরিক জোটের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থিত অনুচ্ছেদ ৫-এ বলা হয়েছে-‘যদি কোনো সদস্য দেশকে অস্ত্রের মাধ্যমে আক্রমণ করা হয়, তাহলে সেটা সব সদস্যের বিরুদ্ধে একটি আক্রমণ হিসাবে গণ্য হবে এবং সব সদস্য দেশ একসঙ্গে মিলিত হয়ে প্রতিরক্ষা করবে।’ জেলেনস্কি এমন আশ্বাসের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ইউক্রেনের জন্য নিরাপত্তার নিশ্চয়তা প্রদানের জন্য আমেরিকার ইউরোপের সঙ্গে কাজ করতে সম্মত হওয়া গুরত্বপূর্ণ।’ তবে শান্তিচুক্তি শেষে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের জন্য কি ধরনের নিরাপত্তা দিতে পারে তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বিবিসির প্রতিবেদনে। স্থলসেনা পাঠানো : স্থলসেনা পাঠানো যে কোনো দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসাবে বিবেচিত। যদিও এটিকে সম্ভাবনা কম হিসাবে ধরা হচ্ছে। ট্রাম্প এই যুদ্ধকে ইউরোপের সমস্যা হিসাবে দেখেন। তিনি যে যুদ্ধকে অপছন্দ করেন, সেখানে শান্তিরক্ষী বাহিনী হিসাবেও সেনা পাঠাতে রাজি হবেন না-এমনটাই ধারণা করা হচ্ছে। আকাশ ও সমুদ্র টহল : এটা কিছুটা বেশি বাস্তবসম্মত। যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই যুদ্ধ পর্যবেক্ষণে নজরদারি বিমান ব্যবহার করেছে। তবে, একটা শান্তিপূর্ণ নজরদারি মিশন আর রাশিয়ার মতো একটি পারমাণবিক শক্তির সঙ্গে সশস্ত্র সংঘর্ষের মধ্যে বিশাল পার্থক্য আছে। গোয়েন্দা তথ্য : যুক্তরাষ্ট্রের স্যাটেলাইট ও আকাশপথে সংগৃহীত গোয়েন্দা তথ্য ইউক্রেনকে রাশিয়ার অগ্রগতি ঠেকাতে দারুণভাবে সাহায্য করেছে। যদি সব পক্ষের সম্মতিতে একটা শান্তিচুক্তি হয়, তাহলে এই গোয়েন্দা সহায়তা দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সহজ ও গ্রহণযোগ্য একটি উপায় হতে পারে। লজিস্টিক সহায়তা : যে কোনো ব্রিটেন-ফ্রান্স নেতৃত্বাধীন ‘আশ্বাস-দাতা বাহিনী’ গঠিত হোক না কেন, একটি শান্তিচুক্তির পরে সেটিকে বিশাল পরিমাণে লজিস্টিক সহায়তা দরকার হবে। আর এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা দিতে আগ্রহী হতে পারে।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

মার্কিন রাজনীতিতে পরিবর্তনের হাওয়া

মার্কিন রাজনীতিতে পরিবর্তনের হাওয়া

গাজায় নড়বড়ে তাঁবু শীতের ঘাতক বৃষ্টি

গাজায় নড়বড়ে তাঁবু শীতের ঘাতক বৃষ্টি

কঠিন পরীক্ষার মুখে প্রেসিডেন্ট হারজগ

কঠিন পরীক্ষার মুখে প্রেসিডেন্ট হারজগ

ভারত সফরে যাচ্ছেন নেপালের বালেন্দ্র

ভারত সফরে যাচ্ছেন নেপালের বালেন্দ্র

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম