Logo
Logo
×

Advertisement

উপসম্পাদকীয়

সাক্ষাৎকার

দক্ষ কর্মীর মাধ্যমে আয় বহুগুণ বাড়ানো সম্ভব: ড. তাসনিম সিদ্দিকী

Advertisement

Icon

খালিদ বিন আনিস

প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

দক্ষ কর্মীর মাধ্যমে আয় বহুগুণ বাড়ানো সম্ভব: ড. তাসনিম সিদ্দিকী

Advertisement

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. তাসনিম সিদ্দিকী অভিবাসী নিয়ে কাজ করা রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (RMMRU) প্রতিষ্ঠাতা চেয়ার। অভিবাসন ও শরণার্থী বিষয়ে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এ বিশেষজ্ঞ বর্তমানে নীতিনির্ধারণী গবেষণা এবং অভিবাসীদের অধিকার রক্ষায় সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন। এ খাত সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে তিনি যুগান্তরের সঙ্গে কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন খালিদ বিন আনিস।

যুগান্তর : বাংলাদেশের শ্রমবাজার কি নির্দিষ্ট কিছু দেশের ওপর অতি-নির্ভরশীলতার কারণে অস্থিরতার ঝুঁকিতে রয়েছে?

ড. তাসনিম সিদ্দিকী : বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর কাজের উদ্দেশে ১০ লাখের বেশি লোক বিদেশে যাচ্ছেন। গত দুই বছরে ১৩ লাখ, ১২ লাখ, এরকম সংখ্যায় লোক কাজের জন্য বিদেশে গেছেন। যেখানে আমাদের দেশের ভেতরে কর্মসংস্থান আমরা করতে পারছি না, দুই লাখের বেশি আমরা ফরমাল সেক্টরে অ্যামপ্লয়মেন্ট জেনারেট করতে পারছি না, বেশির ভাগ আমাদের দেশের লোক ইনফরমাল সেক্টরে অ্যামপ্লয়েড। সেখানে এই যে অ্যামপ্লয়মেন্টটা, মানে বিদেশে গিয়ে কাজে যাওয়া, এটা আমার সামগ্রিক যে অ্যামপ্লয়মেন্ট তৈরি করার যে প্রেসার সরকারের ওপর, সেটা অনেকটা কমিয়ে দেয়। কিন্তু এ জায়গাতে কতগুলো সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে প্রতিভাত হয়। সেটা প্রথম হলো, আজ পর্যন্ত আমরা কিন্তু একটা স্থিতিশীল শ্রমবাজার তৈরি করতে পারিনি। আমরা যখন যেই দেশে আমার লোক যায়, শুধু সেই দেশেই যায়। অর্থাৎ এখন সৌদি আরবে লোক যাচ্ছেন, দেখা যাবে যে যদি আমার ১২ লাখ লোক বিদেশে গিয়ে থাকেন, তার প্রায় ৬৫ শতাংশ বা তারও বেশি লোক শুধু সৌদি আরবে গেছেন, আর বাকিরা অন্যান্য দেশে গেছেন। আবার যখন মালয়েশিয়াতে লোক যায়, দেখা যাবে মালয়েশিয়াতে ৩-৪-৫ লাখ লোক গেছেন, অন্য দেশে কোনো লোক যাননি। ইউএই’র ক্ষেত্রেও এটা দেখা যায়। এটার সমস্যা হচ্ছে, কিছুদিনের মাথায় যখন এত বেশি লোক যায়, ওই মার্কেটটা কিন্তু বন্ধ করে দেয় তারা। যেহেতু এটা গ্রহণকারী দেশের এখতিয়ার, তারা বন্ধ করে দেয়। ফলে হয় কী, আমার শ্রমবাজার কিন্তু একটা স্থিতিশীলতার মধ্যে থাকতে পারে না।

যুগান্তর : দক্ষ জনশক্তি পাঠাতে কেন আমরা গত পাঁচ দশকেও সফল হতে পারিনি?

ড. তাসনিম সিদ্দিকী : দীর্ঘদিন ধরে আমরা শুধু অংশ নিয়েছি মূলত অদক্ষ শ্রমবাজারে। যদিও আমরা এখন দেখাচ্ছি, দক্ষ শ্রমিকও আমাদের অনেক যাচ্ছে; কিন্তু দক্ষতাকে আমরা ডিফাইন করছি আসলে অন্যভাবে। ফলে আমাদের দক্ষ শ্রমিকের সংখ্যা একটু বাড়ছে; কিন্তু দক্ষ শ্রমিক সেরকম আমাদের যাচ্ছে না। আসলে আধাদক্ষ এবং অদক্ষ কর্মীরাই বিদেশে যাচ্ছেন। তো দীর্ঘদিন ধরে এ অবস্থা চলমান হওয়ার কারণ হচ্ছে, এ আধাদক্ষ আর অদক্ষ মার্কেটে তো বিভিন্ন রকম সমস্যা রয়েছে। তারা মজুরি ঠিকমতো পান না, তাদের শিক্ষা-স্বাস্থ্যের যে অধিকারগুলো দেওয়ার কথা, সেটিও দেওয়া হয় না ওইসব দেশে। তারপরও আমরা যুগ যুগ ধরে ভাবছি, আমরা আনস্কিল্ড বা সেমি-স্কিল্ড লেবারের পাশাপাশি স্কিল্ড এবং প্রফেশনাল ওয়ার্কফোর্স পাঠানোর দিকে যাব। এসবের দিকে আমরা যেতে পারছি না এই কারণে যে, আমাদের পলিসি মেকিং প্রক্রিয়াটা হচ্ছে ফ্র্যাগমেন্টেড। অর্থাৎ এখানে আমরা যদি খেয়াল করি, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় লোক পাঠাচ্ছে; কিন্তু লোক তৈরি করছে কে? জনবল তৈরি করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং স্কিলের জায়গায় যুব মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, সবাই স্কিলে কিছুটা জড়িত; কিন্তু মূল দায়িত্বে রয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। কিন্তু শিক্ষাব্যবস্থাটা আমাদের এমন এক জায়গায় চলে গেছে, যেটা আমরা সবাই জানি, জেনারেল এডুকেশনের ভেতরে কারিগরি শিক্ষা নেই। জেনারেল এডুকেশনে বিএ-এমএ পাশ করার পরও তারা দক্ষতাভিত্তিক চাকরি পান না। স্কিল কিন্তু অন্য জিনিস। অন্যদিকে আমাদের এখানে যেহেতু এখন অনেক ধারা রয়েছে-কওমি মাদ্রাসা, আলিয়া মাদ্রাসা রয়েছে, এসব জায়গায়ও কিন্তু দক্ষতাকেন্দ্রিক শিক্ষার দিকে আমাদের জোর নেই। আর সরকারি যে ভোকেশনাল ট্রেনিংভিত্তিক কারিগরি শিক্ষার যে স্কুলগুলো রয়েছে, মাত্র ৩৩৫ বা ৩৩৬টি স্কুল আছে দেশে, যেখানে লাখ লাখ স্কুল হচ্ছে জেনারেল এডুকেশনে। তো এ সমস্যার যদি সরকার সমাধান করতে চাইত, তাকে কিন্তু বড় ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে হতো। সিদ্ধান্তটি হচ্ছে, আমরা মেইনস্ট্রিম জেনারেল এডুকেশনকে ক্রমান্বয়ে কমিয়ে নিয়ে যাব ভোকেশনালের দিকে। অর্থাৎ, আমার যদি আজকে ৫ লাখ ছেলেমেয়ে ভর্তি হয়, ধরে নিচ্ছি এর প্রায় ৪ লাখই জেনারেলে দিই। সে ক্ষেত্রে হতে হবে, রেজাল্ট অনুযায়ী দেড় লাখের মতো জেনারেলে দেওয়া হবে, বাকি পর্যায়ক্রমে ভোকেশনালের দিকে যাবে। তাতে করে এদের লাভ হবে, তারা ম্যাট্রিক-ইন্টারমিডিয়েট সব ডিগ্রিই পাচ্ছে; প্রয়োজনে এ সার্টিফিকেট ব্যবহার করে সে বাইরে চাকরির জন্যও যেতে পারবে। কাজেই এ ধরনের বড়সড় পরিবর্তন না আনতে পারলে কোনো অবস্থাতেই পরিস্থিতি বদলানো যাবে না।

যুগান্তর : সে ক্ষেত্রে শ্রম অভিবাসন খাতের ‘অশুভ আঁতাত’ বা সিন্ডিকেট ভাঙতে সরকারের দায়বদ্ধতা কতটুকু বলে মনে করেন?

ড. তাসনিম সিদ্দিকী : ’৭৬ সাল থেকে যখন বিষয়টি শুরু হয়েছে, এখনো কিন্তু আমরা সেই জায়গাতেই আছি, স্কিলের দিকে যেতে পারিনি। কেন পারিনি? এ কেন-এর বড় উত্তরটা পলিটিক্যাল ইকোনমিতে নিহিত। পলিটিক্যাল ইকোনমিটা আমার কেমন? যেখানে রিক্রুটিং এজেন্সি অর্থাৎ প্রাইভেট সেক্টর, সরকারের উচ্চ পর্যায়ের আমলা এবং যারা পলিসি মেকার অর্থাৎ নীতিনির্ধারক, যারা মন্ত্রী পর্যায়ের বা যে কোনো অ্যাডভাইজর পর্যায়ে যারা আছেন। অতীতে আমরা দেখেছি একটা আনহোলি অ্যালায়েন্স তৈরি হয়ে যায় এদের মধ্যে। সেখানে যারা শ্রমিকদের বিদেশে নিচ্ছেন, তারা নিয়ম না মেনে নিচ্ছেন এবং ওদের সুরক্ষা নিশ্চিত করছেন না। শ্রমিকদের এ যাওয়া থেকে বেনিফিট কিন্তু অনেকে নেয়। অন্যদিকে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর ভেতরে যে সিন্ডিকেশন করার প্রবণতা আছে, এগুলোও দেখা হয় না। উচ্চপর্যায়ের আমলাতন্ত্র এ জায়গায় যদি করাপ্ট ডিলগুলোর দিকে চলে যায়, তাহলেই সমস্যা। সরকারকে এ বিষয়গুলোর দিকে নজর দিতে হবে। তবেই শ্রমিকদের অবস্থা আরেকটু বেটার হবে।

যুগান্তর : রেমিট্যান্সকে দেশের অর্থনীতির ‘প্রধান চালিকাশক্তি’ বলা হলেও কেন এ খাত বাজেটে অবহেলিত?

ড. তাসনিম সিদ্দিকী : অতীতে আমরা দেখেছি, রেমিট্যান্সের গুরুত্বটা সরকার বুঝেও বোঝে না। এই যে আমরা শুনি, দেশে এবার ২০-৩০ বিলিয়ন রেমিট্যান্স এসেছে। এখানে সরকারের কি কোনো হাত আছে? নেই। যারা বিদেশ যাচ্ছে, তারা পরিবারের জন্য টাকা পাঠাচ্ছেন, ওই টাকাটা ডলারে যেহেতু আসছে, সরকার ডলারটা খরচ করছে আর বাংলা টাকায় তাদের দিয়ে দিচ্ছে। এভাবেই এর লাভটা তারা নিচ্ছেন। গত সরকারের সময় ব্যালেন্স অফ পেমেন্ট কোন জায়গায় চলে যাচ্ছিল, আমরা জানি। রিজার্ভ ১৩তে নেমে এসেছিল। সেই জায়গা থেকে ৩০ বিলিয়নে উন্নীত করে রাষ্ট্রের চরিত্র কিন্তু আবার শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়ে দিয়েছে আমাদের এ অভিবাসী কর্মীরা। কিন্তু অভিবাসী কর্মী কী পায়? অভিবাসী কর্মী রেমিট্যান্স ম্যানেজমেন্টের সুফল কিন্তু পায় না। এ কথাটা আমি এজন্য বলছি, দেশে এই সেক্টরটা পরিচালনা করার বাজেট হচ্ছে গত ১০ বছরে মাত্র ০.০৮ পার্সেন্ট। গত বছরে অন্তর্বর্তী সরকার যখন ক্ষমতায় ছিলেন, তখনো কিন্তু আগের বছরের বাজেট থেকেও তা কমে যেতে দেখা গেছে। কিন্তু জুলাই আন্দোলনকে একটা জায়গায় নিয়ে যেতে কাজ করেছিল আমাদের প্রবাসীরাও, তাই না? তাহলে আপনি চাইবেন ভালো ফল পেতে; কিন্তু পয়সা খরচ করবেন না, তাহলে সুফল কীভাবে মিলবে?

যুগান্তর : সে ক্ষেত্রে সরকারের রাইট কাইন্ড অফ পলিসি কী হওয়া উচিত? সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থাকে সংকুচিত করে ভোকেশনাল বা কারিগরি শিক্ষাকে মূলধারায় আনার পরিকল্পনা কতটা জরুরি?

ড. তাসনিম সিদ্দিকী : আগামী পাঁচ বছর যদি সরকার রাইট কাইন্ড অফ পলিসি নিয়ে তীব্রভাবে কাজ করে, আমি মনে করি, রেমিট্যান্সকে ৬০ বিলিয়নে উন্নীত করা কোনো ব্যাপারই হবে না। সে ক্ষেত্রে আমাদের ইন্টিগ্রেটেডভাবে কাজ করতে হবে। কী রকম? ওই যে বললাম স্কিল। স্কিলের জায়গায় আমাদের কাজ করতে হবে। একটা তো বললাম মেইনস্ট্রিম এডুকেশনে পরিবর্তন। দ্বিতীয় আমি বলব, বিশ্বজুড়ে যেমন এখন নার্সিংয়ের প্রচুর চাহিদা। আজকে দেশে যে শত শত ইউনিভার্সিটি হয়েছে পাবলিক-প্রাইভেট মিলিয়ে, প্রতিটা বিশ্ববিদ্যালয়কে যদি আমি জোর করি যে, তোমাকে অবশ্যই নার্সিং স্কুল খুলতে হবে। কেন? কারণ তোমার তো ডাক্তারখানা নেই। তোমাকে যেটা করতে হবে, তুমি থিওরেটিক্যালটা দেবে আর আশপাশে যত আমাদের হসপিটাল রয়েছে, সেগুলোর সঙ্গে একটা রিলেশনশিপে এসে সেখানে প্র্যাকটিক্যাল করাবে। তাহলে ওরাও ইন্টার্ন করতে আসা ভালো নার্স পাচ্ছে, আর এরা নার্সিং এডুকেশনটা দিতে পারছে। তাছাড়া সমাজে নার্সিংয়ের ওপরে ট্রমা, একটা স্টিগমা আছে যে, শুধু গরিবের ছেলেমেয়ে নার্সিং পড়বে? আসলে তা না। অবস্থাটার এমন পরিবর্তন দরকার যে, যারা ডাক্তারি পড়তে চায়, তারাও নার্সিং শিক্ষায় এগিয়ে আসবে। কেন? কারণ ডাক্তার হিসাবে বিদেশ যাওয়া যায় না, নার্স হিসাবে বিদেশ যাওয়া যায় এবং বেতন বহু গুণ বেশি। ঘানা এ ধরনের নার্সিং মাইগ্রেশনের পলিসির মাধ্যমে লেবার মার্কেটে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে। ফিলিপিন্সও তাই। দেখা গেছে, বহু ডাক্তার পরবর্তী সময়ে নার্সিংয়ের এক বছরের ট্রেনিং নিয়ে নার্স হিসাবে গেছে। আমাদের সরকারকেও সেভাবেই কাজ করতে হবে। এখন যে পলিসি আছে, সেটা নিয়ে এগিয়ে গেলে চলবে না। বাংলাদেশ ওই জায়গায় নেই আর।

যুগান্তর : দেশে রেমিট্যান্সের যথাযথ ব্যবহার কি হচ্ছে? প্রবাস থেকে যারা ফেরত আসছেন, তাদের প্রতি রাষ্ট্রের দায়িত্ব আছে না?

ড. তাসনিম সিদ্দিকী : এটি নিয়ে একদম সিরিয়াস কাজ করলে আপনি রেমিট্যান্সের ঊর্ধ্বগতি দেখবেন। এখন পর্যন্ত বিগত সরকারগুলো শুধু রেমিট্যান্স আহরণ কীভাবে করবে অর্থাৎ ব্যাংকিং সেক্টরের রিফর্ম এনেছে, করেসপন্ডিং রিলেশনশিপের জন্য বিভিন্ন এক্সচেঞ্জ হাউজের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো করেছে-এ ধরনের কাজগুলো করেছে। অর্থাৎ যেখানে টাকাটা আনতে হবে, সেখানে প্রচুর কাজ করেছে সরকার। বাংলাদেশের উন্নয়নে রেমিট্যান্সের ব্যবহার বিষয়ে কাজ করেনি। টাকাটা ব্যবহার করবে কোথায়? এ টাকাটা ব্যবহার করবে প্রডাক্টিভ ইউটিলাইজেশনের জায়গায়। সরকার একটা পদ্মা সেতুর মতো আরেকটা সেতু বা আরেকটা টিউব চালুর মতো প্রকল্প করে এদের শেয়ার থ্রো করতে পারে। তাহলে একদিকে দেশেরও ডেভেলপমেন্ট হবে, এ মানুষগুলোরও ইনভেস্টমেন্ট হবে, বিপরীতে লাভ হিসাবে তাদের নিশ্চিত আয় আসবে। সরকারেরও সেসব স্থাপনা থেকে কর আসবে। এরকম প্রজেক্টভিত্তিক চিন্তা করতে হবে।

আর যারা ক্ষুদ্র রেমিটার, তাদের জন্য ছোট ছোট যে ব্যবসায়িক প্রকল্প, বিজনেস অ্যাডভাইজরি সার্ভিস, বিজনেস লিংকেজ ডেভেলপ করা, ট্রেনিং দেওয়া-এ কাজগুলোর দিকে সরকারকে জোর দিতে হবে এনজিওগুলোকেও। আমার মনে হয়, রেমিট্যান্সকে যদি আমি উৎপাদনশীল খাতে নিয়ে আসতে চাই, সেখানেও সরকারের প্রচুর কাজ এখনো বাকি আছে।

যুগান্তর : এই যে উচ্চশিক্ষিত দক্ষ পেশাজীবীরা এখন উন্নত দেশে স্থায়ী হওয়ার প্রবণতা বাড়িয়েছে, তো এ ব্রেইন-ড্রেইনকে মানে...

ড. তাসনিম সিদ্দিকী : ব্রেইন-ড্রেইন বাংলাদেশের জন্য সমস্যা নয়। ব্রেইন সার্কুলেশনকে উৎসাহিত করতে হবে। তোমার দেশে এই যে বিজ্ঞানী বানাবা, এই বিজ্ঞানীকে যে কাজ দিবা, সেই জায়গা আছে? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি পাবে নাকি এরা? যারা বাইরে থেকে-আমাদের ছেলেপেলে কিন্তু ওদের জগতে অসম্ভব ভালো করেছে। আজকে বাইরে সে ইকোনমিক্সে অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর। দেশে এলে ইকোনমিক্সে কোথাও এসে চাকরি পাবে, সে প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি ছাড়া? সরকার নেবে? কিন্তু এরা তো আন্তর্জাতিকভাবে নানা গবেষণা রিপোর্টও প্রকাশ করে বসে আছে। অর্থাৎ ওই জায়গাতেও পলিসির সমস্যা। আমাকে এটা সার্কুলেট করাতে হবে। আমার এখান থেকে যাবে, আবার আসার সুযোগ তৈরি করতে হবে। ওরা একেকজন এসে দুই-তিন বছর চাকরি করে চলে যাবে। হ্যাঁ? বিজ্ঞানীরা এখানকার বিজ্ঞানীদের সঙ্গে ওই বাইরের সাইন্টিস্ট কোলাবোরেটিভ রিসার্চ করে, ওদের জায়গার টাকা আছে, সবকিছু আছে। আমার তো নেই বা আমার থাকলেও এখানে চুরি ছাড়া আর কিছু নেই, আর কাজটাও দেব আমি যাচ্ছেতাই লোককে। জ্ঞানী-গুণী লোককে তো কোনো কাজ দেওয়া হবে না। তাই না?

সুতরাং ব্রেইন-ড্রেইন হয় না, ব্রেইন-ড্রেইনটা আগে ছিল। তুমি মনে করো. ’৮০-র দশকে, ৯০-এর দশকে ব্রেইন-ড্রেইনের ব্যাপারটা ছিল, সবাই পড়তে চলে যান আর ফেরেন না। এখনকার ব্যাপারটা হচ্ছে, যদি ফেরেনও তাদের কীভাবে আমরা কাজে লাগাব? তাদের কাজে লাগানোর পথ হচ্ছে তাইওয়ানের মডেল অনুসরণ করা। তাইওয়ানে যারা পড়ালেখা করতে গিয়েছিল, ৫ পারসেন্টও ফেরেনি। কিন্তু আজকে ওরাই তাইওয়ানের যত লিঙ্ক, সব ওরাই করেছে। যত টেকনোলজি লিঙ্ক, যত সায়েন্টিফিক লিঙ্ক-সব ওরাই করেছে। চীনেও বিষয়টি একই। তো আমাদেরও ওইভাবে চিন্তা করতে হবে।

যুগান্তর : আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

ড. তাসনিম সিদ্দিকী : আপনাকেও ধন্যবাদ।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

এমন সম্প্রীতি ও শান্তির পরিবেশ আগামীতেও অটুট থাকুক

এমন সম্প্রীতি ও শান্তির পরিবেশ আগামীতেও অটুট থাকুক

বিশ্বে সংঘাত বাড়ছে, শান্তির সন্ধান ব্যাহত

বিশ্বে সংঘাত বাড়ছে, শান্তির সন্ধান ব্যাহত

মুক্ত বিনিয়োগ নীতিই হতে পারে সেরা কৌশল

মুক্ত বিনিয়োগ নীতিই হতে পারে সেরা কৌশল

ধূসর রাষ্ট্রের কাছে এক বিষণ্ন শালিকের গান

ধূসর রাষ্ট্রের কাছে এক বিষণ্ন শালিকের গান

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম