শতফুল ফুটতে দাও
এ যুদ্ধকে ‘না’ বলতে হবে
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বিশ্ব মানচিত্রে মধ্যপ্রাচ্য গত ১০০ বছর অব্যাহত অস্থিরতার মধ্যে রয়েছে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর এ অঞ্চলের মানচিত্র নতুন করে আঁকার চেষ্টা করা হয়। এ প্রচেষ্টার শিরোমণি ছিল ব্রিটেন। তারপর থেকে রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ অনেক ঘটনা ঘটেছে। বেলফোর ঘোষণার পথ ধরে ফিলিস্তিনিদের নিজ ভূমি থেকে উচ্ছেদ করে বন্দুকের জোরে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল ইহুদিবাদী ইসরাইল রাষ্ট্র। ইউরোপ ও রাশিয়াসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ইহুদিদের জড়ো করা হয় ফিলিস্তিন থেকে দখল করা ভূখণ্ডে, যার নাম দেওয়া হয়েছিল ইসরাইল। বিশ্ব শক্তিগুলো নিজেদের দেশে ইহুদিদের জন্য কোনো বাসভূমি প্রতিষ্ঠা করেনি। তাদের সহায়তায় ইহুদি টেরোরিস্টরা ফিলিস্তিনের একটি এলাকা দখলে নিয়ে প্রতিষ্ঠা করে ইসরাইল রাষ্ট্র।
জ্ঞান-বুদ্ধি হওয়ার পর থেকে জেনে এসেছি, মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইল হলো ইঙ্গ-মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের বরকন্দাজ। মধ্যপ্রাচ্যের তেল সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য সাম্রাজ্যবাদীরা ব্যবহার করেছে আঞ্চলিক পুলিশি রাষ্ট্র ইসরাইলকে। অন্যদিকে রাজতন্ত্র অধ্যুষিত মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো রাজতন্ত্রকে রক্ষা করার জন্য ইসরাইল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পায়রবি করেছে।
দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র অন্যতম পরাশক্তিতে পরিণত হয়। কারণ আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগরের বিপুল-বিশাল জলরাশি অতিক্রম করে জার্মান নেতৃত্বাধীন অক্ষশক্তির পক্ষে মূল মার্কিন ভূখণ্ডে আক্রমণ চালানো সম্ভব হয়নি। বস্তুত দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অক্ষত থেকে যায় বললেই চলে। যুদ্ধের শেষদিকে জাপান যুক্তরাষ্ট্রের পার্ল হার্বারে বিমান আক্রমণ চালায়। এর প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে আণবিক বোমা নিক্ষেপ করে, শহর দুটি জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটে। যারা বেঁচে ছিল, তারা আণবিক বোমার তেজস্ক্রিয়তায় ধুঁকে ধুঁকে মরেছে। অনেকে তেজস্ক্রিয়তার প্রভাবে এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে মরণব্যাধি ক্যানসারে ভুগেছে। জাপান সম্রাট হিরোহিতো কালবিলম্ব না করে মার্কিন আণবিক হামলার পরপর রেডিওতে আত্মসমর্পণের ঘোষণা দেন। জ্ঞান-বিজ্ঞানে সমৃদ্ধ হওয়ায় জাপান আত্মসমর্পণ করার পর আবারও অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ একটি দেশ হিসাবে ঘুরে দাঁড়ায়। কিন্তু জাপানকে তার জাতীয় সার্বভৌমত্ব বিসর্জন দিতে হয়। জাপানের জন্য একটি নতুন সংবিধান রচনা করে দেন মার্কিন জেনারেল ম্যাকার্থার। এ সংবিধান অনুযায়ী জাপান নিজস্ব কোনো সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তুলতে পারেনি। তবে ছোট একটি সেল্ফ ডিফেন্স ফোর্স রাখার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল জাপানকে। বিশ্বে সর্বপ্রথম গণবিধ্বংসী আণবিক অস্ত্রের মালিক হওয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এক নম্বর পরাশক্তিতে পরিণত হয়। মানবতাবিরোধী ধ্বংসযজ্ঞের হোতা হওয়ার ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অনৈতিকতায় এক নম্বর পরাশক্তি হতে পেরেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্ররোচনায় জাপান তার শান্তিবাদী (Pacifist) চরিত্র পরিহার করে সমরশক্তি বৃদ্ধিতে মনোযোগ দিয়েছে এবং পূর্ব এশিয়া ও তাইওয়ান প্রণালিতে মার্কিন খবরদারির সহায়ক ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইল ও আরব দেশগুলোর মধ্যে একাধিক যুদ্ধ হয়েছে বিংশ শতাব্দীর শেষার্ধে এবং মিসর, সিরিয়া ও ফিলিস্তিনের বিশাল ভূখণ্ড দখল করে আছে ইসরাইল। যে মিসর একাধিকবার ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে, সে মিসর শেষ পর্যন্ত ইসরাইলের সঙ্গে শান্তিচুক্তি করেছে এবং ইসরাইলকে একটি পৃথক রাষ্ট্র হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশ জর্ডান, সৌদি আরব ও মিসর ইসরাইলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেছে। এ ছাড়া উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গেও ইসরাইলের সুসম্পর্ক রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের এতগুলো দেশের মধ্যে একমাত্র ইরানই তার স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের মর্যাদা রক্ষায় শির উন্নত রেখেছে। অধিকাংশ মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের ক্রীড়নকে পরিণত হয়েছে। এমতাবস্থায় ইরানের পক্ষে রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
১৯৫৩ সালে মোসাদ্দেকের নেতৃত্বে অভ্যুত্থানের ফলে ইরানের রাজা রেজা শাহ পাহলভি ইরান ছেড়ে সুইজারল্যান্ডে পালিয়ে যান। মোসাদ্দেক মার্কিন মালিকানাধীন তেল কোম্পানির হাত থেকে ইরানের তেলসম্পদ জাতীয়করণ করেন। সিআইএ মোসাদ্দেককে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করার জন্য উঠেপড়ে লাগে। সিআইএ তেহরানের খুনি ডাকাত ও রং-বেরঙের অপরাধীদের সংগঠিত করে তেহরানের রাস্তায় মিছিল নামায়। দেখা গেল সন্ধ্যার মধ্যে সেই মিছিল বিরাট আকার ধারণ করেছে। সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকার ষড়যন্ত্রের চেহারা এতই বীভৎস ও মারাত্মক! মোসাদ্দেক ক্ষমতা থেকে উচ্ছেদ হয়ে কারারুদ্ধ হলেন এবং শাহ দেশে ফিরে আবারও রাজদণ্ড ধারণ করলেন। শাহ-এর আমলে অনেক রাজনৈতিক নিপীড়ন ও অত্যাচার হয়েছিল। তবে শাহ ইরানি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের বিরুদ্ধে গিয়ে কিছু সংস্কার আনয়নের চেষ্টা করেন। অনেক ইরানি সেসব সংস্কার পছন্দ করেনি। অবশেষে ১৯৭৯ সালে ইরানি ধর্মীয় নেতা ইমাম খোমেনির নেতৃত্বে ইরানের ইসলামি বিপ্লব সংঘটিত হয়। শাহ-এর বিরুদ্ধে এ বিপ্লবে কমিউনিস্ট ও বামপন্থিরাও ব্যাপকভাবে অংশগ্রহণ করে। কিন্তু তারা ক্ষমতার লড়াইয়ে পরাজিত হয়ে ইসলামি বিপ্লবীদের দ্বারা চরম নিগ্রহের শিকার হয়। ইরানের ইসলামি বিপ্লবের প্রথমদিকে যারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছিলেন, তাদের কেউ কেউ চরম নিগ্রহের শিকার হন। প্রেসিডেন্ট বনি সদরকে ইরান থেকে পালিয়ে ফ্রান্সে নির্বাসিত জীবন বেছে নিতে হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী কুতুব জাদেহকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গোয়েন্দাবৃত্তি করার অপরাধে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া নেতৃস্থানীয় আরও অনেককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। বিপ্লবের ধারা সম্ভবত এ রকম। বিপ্লব তার সন্তানদের গিলে ফেলে।
গোড়া থেকেই খোমেনি সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ভালো যাচ্ছিল না। তেহরানের ছাত্ররা মার্কিন দূতাবাসের কর্মীদের জিম্মি করে আটকে রাখে। এ জিম্মিদশা বেশ কিছুদিন অব্যাহত থাকে। সেই সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ছিলেন জিমি কার্টার। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জিম্মিদের উদ্ধারের জন্য একটি অভিযান চালায়, কিন্তু জিম্মিদের উদ্ধার করতে ব্যর্থ হয়। পরবর্তীকালে বিষয়টি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ পর্যন্ত গড়ায় এবং পরিশেষে কূটনৈতিকভাবে এ সমস্যার সমাধান হয়।
খোমেনির মৃত্যুর পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা রূপে পরিবৃত হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ২০২৫-এর জুনে ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে সংঘটিত যুদ্ধের পর মনে করা হয়েছিল ইরানের আত্মরক্ষার শক্তি প্রায় পুরোটাই ধ্বংস হয়ে গেছে। এবার ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ওমানের মধ্যস্থতায় ইরানের আণবিক কর্মসূচি নিয়ে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক পর্যায়ে আলাপ-আলোচনা শুরু হয়। সেই আলোচনা সন্তোষজনকভাবে চলার সময়ই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের ওপর ব্যাপক হামলা চালায়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে ব্যাপক হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। এ দিনে বিমান ও সমুদ্রপথে হামলা চালানো হয়। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ শীর্ষ সামরিক-বেসামরিক নেতৃত্বকে লক্ষ্যে পরিণত করা হয়। গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় সর্বোচ্চ নেতার বাসভবন ও আশপাশের বিভিন্ন স্থাপনা। মেয়েদের দুটি স্কুলে সর্বশেষ সংবাদ অনুযায়ী, দেড় শতাধিক মেয়ে শিক্ষার্থী নিহত হয়। রেড ক্রিসেন্ট বলেছে যৌথ হামলায় ইরানে ২০১ জন নিহত ও ৭৪৭ জন আহত হয়েছে। ইরানের স্থানীয় সময় সকাল ১০টার দিকে এ হামলা শুরু হয়। জবাবে ইরান ইসরাইলের উত্তরাঞ্চল ও উপসাগরীয় মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা শুরু করে। এর মধ্য দিয়ে পুরো অঞ্চল কার্যত যুদ্ধ ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ, কুয়েত, জর্ডান, ইরাক, কাতার ও আরব আমিরাতের আবুধাবিতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে বিস্ফোরণ ঘটেছে। বাহরাইনে মার্কিন নৌবহর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তেহরানে খামেনির কার্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক হামলা হয়েছে।
গত রোববার ১ মার্চ ৩৬ বছর ধরে নেতৃত্ব দেওয়া আয়াতুলাহ আলী খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় নিহত হয়েছেন। হামলায় প্রাণহানি হয়েছে শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন কর্মকর্তার। এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। গত রোববার ইসরাইলসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে হামলা চালিয়েছে ইরান।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত রোববার দাবি করেন, ইরানে হামলায় দেশটির শীর্ষ পর্যায়ের ৪৮ জন নেতা নিহত হয়েছেন। ট্রাম্প এও বলেছেন, ইরানের নতুন নেতৃত্ব মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছে এবং ট্রাম্প এতে রাজি হয়েছেন। ইরানি নেতা খামেনিসহ অন্যদের ওপর বিমান হামলা চালায় ইসরাইল। ইসরাইল খুব সূক্ষ্ম হিসাব-নিকাশ করে হামলাটি চালায়। তবে কয়েক মাস ধরে সিআইএ খামেনির চলাচলের ওপর নজরদারি করছিল। সিআইএর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, খামেনি ও ইরানের উচ্চপর্যায়ের সামরিক নেতৃত্ব যে ভবনে অবস্থান করছিলেন, তার ওপরেই মিসাইল হামলা চালায় ইসরাইলি বিমানবাহিনী। খামেনির মৃত্যুতে সমগ্র ইরানে শোকের বন্যা বয়ে গেছে। লাখ লাখ বিক্ষোভকারী আর্তনাদ করে স্লোগান দিয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের লক্ষ্য ইরানে রেজিম চেঞ্জ করে আমেরিকার প্রাধান্য প্রতিষ্ঠা করা। খামেনিকে হত্যা করার পর সেই লক্ষ্যে কিছুটা অগ্রগতি হলেও শেষ কথা বলার সময় আসেনি। স্বাধীন দেশ ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে ধরে নিয়ে যাওয়া এবং তেহরানে সর্বোচ্চ নেতা ইমাম খামেনিকে হত্যার পর এটাই প্রমাণিত হলো যে, যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পৃথিবীতে জঙ্গলের আইন প্রতিষ্ঠা করতে চায়। ইরান অতি সহজে হার মানবে বলে মনে হয় না। ইরানের আদর্শিক রাষ্ট্রকাঠামো একে একটি দুর্ভেদ্য দুর্গে পরিণত করেছে। এ দুর্ভেদ্য কাঠামো তছনছ করে ফেলা সহজ নয়। ইরান একটি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের কথাই হয়তো ভাবছে। এ ধরনের যুদ্ধে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-উত্তরকালে কোথাও যুক্তরাষ্ট্র জিততে পারেনি। আশা করি এবারেও পারবে না। এ যুদ্ধের ফলে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল ও গ্যাস রপ্তানি বিঘ্নিত হবে। তেলের বাজার ইতোমধ্যে চড়া হতে শুরু করেছে। বাংলাদেশের মতো দেশ আমদানিকৃত তেল ও গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় সামনের দিনগুলো অর্থনৈতিক সংকটে পড়তে পারে। মূল্যস্ফীতি লাগামহীন হয়ে উঠতে পারে। বিশ্বে যে কোনো স্থানে যুদ্ধবিগ্রহ শুরু হলে আজকের বিশ্বায়িত পৃথিবীতে সংকটের আঁচ কমবেশি সব দেশের ওপরই পড়ে। বাংলাদেশের প্রবাসী শ্রমিকরাও যারা মধ্যপ্রাচ্যে কাজ করে তারা অনেকে কর্মচ্যুত হতে পারেন। এর ফলে বাংলাদেশে বৈদেশিক মুদ্রার মজুতে টান পড়বে। সবশেষে প্রার্থনা করব, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যেন এ অনৈতিক যুদ্ধ থেকে সরে আসে। অন্যথায় যুক্তরাষ্ট্রকে চড়া মূল্য দিতে হতে পারে। মার্কিন দেশের প্রতি চারজন নাগরিকের মধ্যে তিনজনই এ যুদ্ধ চায় না। আশা করি, বিশ্বের অন্যান্য দেশের জনমতের সঙ্গে মার্কিন জনমত ঐক্যবদ্ধ হয়ে এ যুদ্ধকে রুখে দেবে এবং যুদ্ধকে অবশ্যই ‘না’ বলতে হবে।
ড. মাহবুব উল্লাহ : শিক্ষাবিদ ও অর্থনীতিবিদ

