নিউইয়র্কের চিঠি
বাংলাদেশি অভিবাসী বাড়ছে, বাড়ছে জালিয়াতিও
আনোয়ার হোসেইন মঞ্জু
প্রকাশ: ১৪ মার্চ ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশির সংখ্যা বাড়ছে। তাদের একটি অংশ সন্তানদের পড়াশোনার দিকে মনোযোগ দিয়ে আমেরিকার মূলধারায় সম্পৃক্ত হয়ে যাচ্ছে; একটি অংশ বিভিন্ন পেশা গ্রহণ করে নিজেদের জীবন সমৃদ্ধ করার সুযোগ গ্রহণ করছে। আর ছোট একটি অংশ নানা ধরনের দুর্নীতি ও জালিয়াতিতে জড়িত হয়ে গোটা বাংলাদেশি কমিউনিটির সুনাম ক্ষুণ্ন করছে। শেষোক্ত এ শ্রেণিটি শিক্ষিত, পেশাজীবী এবং আর্থিকভাবে সচ্ছল। যুক্তরাষ্ট্রে আইনের প্রয়োগ যেমন কঠোর, আইনের ফাঁকফোকর গলিয়ে চুরি-চামারি করার সুযোগও কম নয়। অভিবাসী হিসাবে যারা যুক্তরাষ্ট্রে আগে এসেছেন, তারা দুর্নীতিমূলক পন্থা অবলম্বন করে আখের গুছিয়ে নিয়েছেন। তাদের উত্তরসূরি হিসাবে অনেক সুযোগসন্ধানী বাংলাদেশি প্রথমদিকে জড়িত হয়েছিলেন ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে জালিয়াতিতে। কমিউনিটি হিসাবে বাংলাদেশিরাই শুধু ক্রেডিট জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত হয়েছিল এমন নয়, অন্যান্য কমিউনিটির লোকজনও জড়িত ছিল। কারণ এটাই ছিল অল্প সময়ে অর্থ আহরণের সহজ পদ্ধতি। অনেকে ক্রেডিট জালিয়াতি করে কাঁড়ি কাঁড়ি ডলার কামিয়েছে। দেশে পাঠিয়ে দিয়েছে অথবা যুক্তরাষ্ট্রেই বিনিয়োগ করেছে একাধিক জালিয়াতের সঙ্গে মিলেমিশে। এ ধরনের জালিয়াতদের মধ্যে যারা ধরা পড়েছে, তারা বিচারে হয়তো কিছুদিন কারাদণ্ড ভোগ করেছে, সামান্য জরিমানা দিয়েছে; কিন্তু জালিয়াতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থের কোনো হদিস সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পেয়েছে বা উদ্ধার করেছে, এমন দৃষ্টান্ত খুব কম। অধিকাংশ ক্ষেত্রে জালিয়াতদের নিয়োজিত আইনজীবীরা তাদের মক্কেলদের নির্দোষ প্রমাণ করে বেকসুর খালাসের ব্যবস্থা করেছেন অথবা লঘুদণ্ড দেওয়ার ব্যাপারে আদালতকে সন্তুষ্ট করতে সক্ষম হয়েছেন।
ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে অর্থ জালিয়াতির ঘটনা সহজ ব্যাপারে পরিণত হয়েছিল। ‘ক্রেডিট রিপেয়ার’ করার কাজে নিয়োজিত এক বাংলাদেশি আইনজীবীর সঙ্গে আলোচনাকালে তিনি বলেন, তার অনেক মক্কেল ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে কেনাকাটার সীমা ছাড়িয়ে সোনার অলঙ্কার, বার ইত্যাদি ক্রয় করেন এবং অর্থ পরিশোধ করেননি। পরিশোধ করবেনও না। এটাকে তারা অন্যায় বলেও ভাবেন না। তাদের সহজ যুক্তি হলো, ‘ইহুদি-নাসারাদের টাকা মেরে দিলে কোনো পাপ বা অন্যায় হবে না।’ নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ের আগে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে জালিয়াতির কারণে অভিযুক্তের শাস্তি তেমন কঠোর ছিল না। কিন্তু এ সংক্রান্ত আইন কঠোর। ধরা পড়লে বিচারে ১০ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে চুরি করা অর্থ আদায়, এমনকি অভিযুক্তের সম্পত্তি ক্রোক করার মতো শাস্তি প্রদান করা হয়। শাস্তির কঠোরতায় ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতির ঘটনা এখন ঘটে না বললেই চলে।
কিন্তু অন্য ধরনের জালিয়াতি ও আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনা অভিবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব কেলেঙ্কারিতে জড়িত লোকজনের সংখ্যা কম হলেও তাদের হাতিয়ে নেওয়া অর্থের পরিমাণ অনেক বেশি। ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে লাখ লাখ ডলার হাতিয়ে নেওয়া সম্ভব ছিল না; কিন্তু এখন হাতিয়ে নেওয়া অর্থের পরিমাণ বহু মিলিয়ন ডলার। একটি ঘটনায় নিউইয়র্কের ৯ ব্যবসায়ী কর্তৃক কোভিড-১৯ মহামারিতে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দুর্যোগ সহায়তা তহবিলের প্রায় ১১ লাখ ডলার আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। দুঃখজনক হলেও সত্য, ৯ অভিযুক্তের ৮ জনই বাংলাদেশি। গত ফেব্রুয়ারিতে (২০২৬) নিউইয়র্ক স্টেটের একটি আদালত জালিয়াতির মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া অর্থ ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। অভিযুক্তদের প্রত্যেকে আর্থিকভাবে সচ্ছল হওয়া সত্ত্বেও তারা ভুয়া ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দেখিয়ে কোভিড মহামারিকালে তাদের ক্ষয়ক্ষতির ভুয়া ফিরিস্তি তুলে ধরে দুর্যোগ কাটিয়ে ওঠার সহায়তার জন্য রাজ্য সরকারের চালু করা তহবিল থেকে নগদ আর্থিক অনুদান গ্রহণ করেন। অনুদানের অর্থ পাওয়ার পর অভিযুক্তরা সমুদয় অর্থ তাদের ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরিয়ে ফেলেন। অভিযোগ ওঠার পর তদন্তকারীরা অভিযুক্তদের ব্যাংক রেকর্ড যাচাই করে নিশ্চিত হন, অনুদান পাওয়ার আগে অভিযুক্তদের ব্যবসাগুলোর কোনো অস্তিত্বই ছিল না, যেগুলোর নামে তারা অনুদান সংগ্রহ করেছিলেন।
কোভিড-১৯-এর দুর্যোগ কাটিয়ে ওঠার জন্য আমেরিকান সরকার ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা করেছে। এ তহবিল ছিল নজিরবিহীন সংকটে পতিত সাধারণ মানুষ যাতে টিকে থাকতে পারে, সেজন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উদ্যোগ। অভিযুক্তরা সেই জরুরি তহবিলের অর্থ আত্মসাৎ করেছিলেন। কেবল বাংলাদেশিরা নয়, আরও অনেক কমিউনিটির সুযোগসন্ধানীরা এ তহবিলের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। রাজ্য ও ফেডারেল সরকার এখন তৎপর হয়েছে আত্মসাৎকৃত অর্থ উদ্ধার করতে। যাদের জালিয়াতি প্রমাণিত হচ্ছে, তাদের কাছ থেকে অর্থ ফেরত নেওয়ার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও গ্রহণ করা হয়েছে। আট বাংলাদেশি তাদের অভিযোগ স্বীকার করেছেন এবং আত্মসাৎকৃত অর্থ ফেরত দিতেও সম্মত হয়েছেন বলে জানা গেছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের মেইনস্ট্রিম ও কমিউনিটি গণমাধ্যমগুলোতে এ ঘটনা ফলাও করে প্রচারিত হওয়ায় বাংলাদেশি কমিউনিটির সুনাম যথেষ্ট ক্ষুণ্ন হয়েছে। সরকারি সহায়তার অর্থ আত্মসাতের মাধ্যমে ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হওয়ার চেষ্টা করে তারা সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশি অভিবাসীদের লজ্জাজনক অবস্থার মধ্যে ফেলেছেন।
কোভিড-পরবর্তী ব্যক্তিগত সহায়তা কর্মসূচির প্রায় এক মিলিয়ন ডলার ঋণ নিয়ে জালিয়াতি ও প্রতারণার দায়ে নিউইয়র্কে প্রবাসী বাংলাদেশি ঠিকাদার পিতা-পুত্র অভিযুক্ত হয়েছেন। মিথ্যা তথ্য দিয়ে তারা অনুদান নিয়ে দুটি বাড়ি এবং একটি দামি বিএমডব্লিউ গাড়ি কিনেছেন। ভুয়া অফিস ও কর্মচারী দেখিয়ে তারা এ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছিলেন। এ মামলায় তাদের ১০ থেকে ২৫ বছরের সাজা হতে পারে।
আট বাংলাদেশির সরকারি অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ছাড়িয়ে আরও বিপুল পরিমাণ অর্থ জালিয়াতির ঘটনায় নিউইয়র্কের এক খ্যাতিমান বাংলাদেশি চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তিনি ও তার কয়েকজন সঙ্গী মাত্র তিন বছরে দরিদ্র ও স্বল্প আয়ের লোকদের জন্য নিউইয়র্ক স্টেটের সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি ‘মেডিকেইড’ এবং সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি ‘মেডিকেয়ারে’র ১৪৬ মিলিয়ন ডলার হাতিয়ে নিয়েছেন। চার্জশিটের প্রথম নাম এক বাংলাদেশি অভিবাসী চিকিৎসকের। সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস শেষ করে উচ্চতর চিকিৎসা শিক্ষার জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্রে আসেন এবং পরবর্তীকালে রেডিওলজি ও নিউরো রেডিওলজি বিশেষজ্ঞ হিসাবে বিভিন্ন হাসপাতাল ও মেডিকেল প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত থেকে দীর্ঘদিন ডায়াগনস্টিক ইমেজিং সেবায় জড়িত ছিলেন। কিন্তু নিউইয়র্কের ব্রুকলিনের এক আদালতে মামলা করার পর চার্জশিটে তার নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় তিনি আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসেন। সরকারি পক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্ত বাংলাদেশি চিকিৎসক ও তার সঙ্গী অন্য কয়েকজন চিকিৎসক বাস্তবে কোনো রোগী না দেখে বা পরীক্ষা না করেই অথবা অস্তিত্বহীন রোগীর হাজার হাজার মেডিকেল পরীক্ষার কাগজে স্বাক্ষর দিয়েছেন। মামলার বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়, গোপনে ধারণ করা এক টেলিফোন আলাপে বাংলাদেশি চিকিৎসককে বলতে শোনা যায়, তিনি তখন পর্যন্ত ১৫ হাজারের বেশি পরীক্ষা রিপোর্টে স্বাক্ষর করতে পারেননি।
এ ফোনালাপটি তদন্তকারীদের সামনে এক উদ্বেগজনক বাস্তবতার ইঙ্গিত দেয়। কারণ, কোনো চিকিৎসকের পক্ষে রোগী পরীক্ষা করা, রিপোর্ট বিশ্লেষণ করা এবং পেশাগত দায়িত্ব পালন করে এত বিপুলসংখ্যক পরীক্ষায় স্বাক্ষর দেওয়া বাস্তবে প্রায় অসম্ভব। সরকার পক্ষের আইনজীবীর মতে, অভিযুক্তরা এমন এক যান্ত্রিক ও কারিগরি ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিলেন, যেখানে কাগজপত্রে চিকিৎসা করা হচ্ছে দেখিয়ে বাস্তবে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হচ্ছিল। বাংলাদেশি চিকিৎসকের নেতৃত্বাধীন এ জালিয়াত চক্রটি নিম্নআয়ের এলাকা, গৃহহীন মানুষের অবস্থান কিংবা চাকরিপ্রার্থীদের মধ্য থেকে কিছু লোককে কিছু নগদ অর্থ প্রদানের প্রলোভন দিয়ে তাদের ‘মেডিকেইড’ বা ‘মেডিকেয়ার’ কার্ডসহ ক্লিনিকে আসতে আকৃষ্ট করতেন এবং সেখানে তাদের নানা ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হতো অথবা কাগজে-কলমে পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে বলে দেখানো হতো, যার সঙ্গে প্রকৃত রোগীসেবার বাস্তব কোনো সম্পর্ক ছিল না। চিকিৎসকরা এভাবে সরকারি স্বাস্থ্যবীমা বিভাগে ভুয়া বিল পাঠিয়ে বিপুল অর্থ আত্মসাতের জাল বিছিয়ে সরকারের ১৪৬ মিলিয়ন ডলার হাতিয়ে নিয়েছেন।
তদন্তকারীরা মনে করেন, অভিযুক্ত চিকিৎসকরা জালিয়াতিকে আইনসম্মত রূপ দিয়েছিলেন। একজন চিকিৎসকের দায়িত্ব যেখানে রোগীর কল্যাণ নিশ্চিত করা, সেখানে সেই দায়িত্ব পালন যদি কেবল কাগজপত্রে সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে তা শুধু আইনের দৃষ্টিতেই অপরাধ নয়, বড় ধরনের নৈতিক বিপর্যয়। তদন্তকারীরা নিশ্চিত হয়েছেন, জালিয়াতির মাধ্যমে আহরিত অর্থ বিভিন্ন কারসাজিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন সিটিতে বিলাসবহুল বাড়ি কেনা এবং বিলাসবহুল পণ্য সংগ্রহের কাছে ব্যয় করা হয়েছে। বাংলাদেশি চিকিৎসকসহ তার সঙ্গীরা এখন আদালতের নির্দেশের অধীনে অর্থাৎ জামিনে রয়েছেন। তাদের অবস্থান যাতে আইনপ্রয়োগকারীদের নজরদারির মধ্যে থাকে, সেজন্য তাদের পায়ে জিপিএস চিপস পরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে। আদালত যখন তাদের তলব করবে, তখন তারা আদালতে হাজির হয়ে চূড়ান্ত রায় শুনবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের অনেক রাজ্যে অভিবাসী বাংলাদেশি চিকিৎসক কর্মরত। তবে নিউইয়র্ক সিটিতে কর্মরত বাংলাদেশি চিকিৎসকের সংখ্যা বেশি এবং তাদের অধিকাংশ রোগীও বাংলাদেশি অভিবাসী। বাংলাদেশি চিকিৎসকদের অনেকের বিরুদ্ধে স্বল্প আয়ের রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার নামে হরেকরকমের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিয়ে রাজ্য ও ফেডারেল স্বাস্থ্যবীমার অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে। এমন অনেক বাংলাদেশি চিকিৎসক আছেন, যারা একাই দুই-তিনটি করে ক্লিনিক পরিচালনা করেন এবং বহুসংখ্যক রোগী দেখেন ও তাদের অধস্তনরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। রোগীদের অভিযোগ থাকলেও তাদের করণীয় কিছু নেই। রোগীকে যেহেতু চিকিৎসার জন্য নিজের গাঁটের অর্থ ব্যয় করতে হয় না, সেজন্য তাদের অভিযোগেও তেমন জোর থাকে না। কিন্তু চিকিৎসকদের পেশাদারত্বের চেয়ে অর্থ উপার্জনকে প্রাধান্য দেওয়ার বিষয়টি কমিউনিটির বাইরেও ছড়িয়ে পড়ায় সাধারণভাবে সবার কাছে বাংলাদেশিদের যে সুনাম ও গ্রহণযোগ্যতা ছিল, তা প্রতিনিয়ত ক্ষুণ্ন হচ্ছে। বিনষ্ট হচ্ছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি।
আনোয়ার হোসেইন মঞ্জু : যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী সিনিয়র সাংবাদিক ও অনুবাদক
